Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:১১ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান এবং ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী

‘সাপ মেরে লেঙ্গুরে বিষ রাখতে নেই’

bb8

‘গভর্নর যেখানে এস কে সুর চৌধুরী সেখানে’

যে কোন সময় পদত্যাগ করতে পারেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ব্যর্থতার দায় নিয়ে তিনি নিজেই পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। এমন খবরই পাওয়া যাচ্ছে নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে। সুত্র জানায়, সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বিষয়ে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে অর্থমন্ত্রীকে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরেই রিজার্ভের চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় শিগগিরই বড় ধরণের পরিবর্তন আসছে বলে জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। সোমবার অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে আতিউর রহমান দেখা করেননি। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের কাছে খবর আসে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাবেন গভর্নর আতিউর। এর পরেই মঙ্গলবারের বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকও স্থগিত করা হয়। এ সময় তার পদত্যাগের গুজব ছড়িয়ে পরে।

bb6

জানাগেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮১০ কোটি টাকা চুরির ঘটনা সরকারের কাছে গোপন করা ও দোষী ব্যাংক কর্মকর্তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করার কারণে তাকে এ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে চিন্তভাবনা চলছে। সার্বিক পরিস্থতি অনুকূলে নেই ভেবেই তিনি অপসারিত থেকে রক্ষা পেতে নিজেই যে কোন সময় পদত্যাগ করতে পারেন এমনটা আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

এর আগে গভর্নরের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা অদক্ষ ব্যবস্থাপনার পরিচয় দিয়েছেন। কর্মকর্তারা অদক্ষ বলতে অর্থমন্ত্রী নিশ্চয়ই শুধু গভর্নরকেই বুঝাচ্ছেন তা কিন্তু নয়, তিনি গভর্নরের ব্যর্থতার সাথে সংশ্লিষ্টদেরকেই ইঙ্গিত করেছেন।

bb10

অর্থমন্ত্রীর ইঙ্গিত যদি তা-ই হয় তবে গভর্নর তার অত্যন্ত কাছের লোক বলেই জানেন এমন অধীনস্থ প্রভাবশালী কয়েকজন কর্মকর্তার সহযোগিতা/পরামর্শে এত বড় একটা দ্বায়িত্ব পালন করে আসছেন। যা আর্থিক প্রতিষ্ঠান/ মিডিয়া/অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে সবাই জানেন। এদের মধ্যে যিনি গভর্নরের সবচেয়ে কাছের বলেই সবাই জানেন তিনি হচ্ছেন ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী। অর্থাৎ ‘গভর্নর যেখানে এস কে সুর চৌধুরী সেখানে’। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বক্ষেত্রেই স্বাভাবিক ভাবেই তার দাপট একটু বেশি। এ কারণেই এস কে সুর চৌধুরীর অবসরে  যাবার সময় হলে সম্প্রতি চাকুরির মেয়াদ তাকে সহ তিনজনের বাড়ানো হয়। শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনাই না। তার আগে ঘটে যায় সরকারী ব্যাংকগুলোতে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো আগে ঘটেনি। এগুলো কি বাংলাদেশ ব্যাংকের সুষ্ঠু মনিটরিং এর অভাবে ঘটেনি? যদি তাই হয় অর্থাৎ মনিটরিং এর অভাবে যদি ঘটে থাকে তবে তার দ্বায়বার কি শুধুই গভর্নরের, নাকি তার প্রধান সহযোগীদেরও? অবশ্যই গভর্নরকে ভুল পথে পরিচালিত করার দ্বায়বার তদের উপরও বর্তায়। শুধু গভর্নরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যৌক্তিক হবে কিনা সেটা ভেবে দেখার বিষয় কারণ কথায় আছে ‘সাপ মেরে লেঙ্গুরে বিষ রাখতে নেই’। তার মানে হল গভর্নরকে অপসারন কিংবা গভর্নর চলে গেলেও তার এস কে সুর চৌধুরীর মতো সহযোগীরা থেকে গেলে আর্থিক খাতে নিরাপত্তা অনিশ্চয়তাই থেকেই যাবে। তাই দেশের-সরকারের ভাবমূর্তি তথা আর্থিক খাতের নিরাপত্তার স্বার্থে গভর্নরসহ তাকে ভুল পথে পরিচালিত এস কে সুর চৌধুরীদেরকেও খুঁজে বের করে ব্যর্থতার দায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিতারিত করাই হবে উত্তম।

মন্তব্য প্রতিবেদনঃ সম্পাদক, শীর্ষ মিডিয়া।

bb5

bb9

আরো পড়ুন

‘আতিউরকে বিদায় করে দেয়ার সিদ্বান্তে আসা উচিত’

/%E0%A6%86%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%89%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B8/