Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:০৯ ঢাকা, বুধবার  ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

স্কুলছাত্রকে হত্যা

সাতক্ষীরা-কুড়িগ্রাম-পাবনা-রংপুরে পাঁচজনকে হত্যা

দেশের সাতক্ষীরা-কুড়িগ্রাম-পাবনা-রংপুর থেকে পৃথকভাবে নির্যাতনের পরে শ্বাসরোধ, পিছনে হাত বাঁধা ও গলায় রশি প্যাচানো, বস্তাবন্দি এবং গলা কাটা মোট পাঁচজনের লাশ উদ্বার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে সবার মৃত্যু হত্যাজনিত কারণেই বলে জানাগেছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলীপুর গ্রামে চাকরিজীবী শিক্ষিকা বেতনের টাকা না দেয়ায় স্ত্রীকে(স্কুলশিক্ষিকা) শ্বাসরোধে হত্যা করেছে এক পাষণ্ড স্বামী। নিহতের নাম নাফিজা খাতুন ময়না (২৫)। তিনি আলীপুর গ্রামের মোখলেছুর রহমানের স্ত্রী। বৃহস্পতিবার ভোররাতে এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। নিহতের চাচা শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয়রা জানান, তার ভাইঝি নাফিজা খাতুন ময়না স্থানীয় ব্রাক পরিচালিত স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। বুধবার তিনি তার বেতনের জমানো ৫০ হাজার টাকা দু’মেয়ের নামে ব্যাংকে জমা রাখেন। এই টাকা তার স্বামী মোখলেছুর রহমানকে না দিয়ে ব্যাংকে জমা রাখার অপরাধে বাড়িতে ফিরলে তার ওপর শুরু হয় স্বামী-শ্বশুরের নির্যাতন। একপর্যায়ে গভীর রাতে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে শয়ন কক্ষের সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার কথা প্রচার করেছে তার স্বামী মোখলেছ। পরে খবর পেয়ে সদর থানার এসআই নজরুল ইসলাম নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।

কুড়িগ্রামের ভোকেশনাল মোড় এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এএসএম সায়েম (৩৫) নামে এক ফার্মেসি মালিককে পিছনে হাত বেঁধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত সায়েম নাজিরা মিয়াপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর পুত্র বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানায়, বুধবার দুপুর থেকে তার ফার্মেসি বন্ধ থাকে এবং সে বাড়িতে যায়নি। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সায়েমের ছোট ভাই শিথিল এসে দোকান খুলে ভেতরে পিছনে হাত বাঁধা অবস্থায় ওপরে সিলিং ফ্যানের সাথে তার অর্ধ ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। এরপরে পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে লাশ উদ্ধার করে। তবে গলায় রশি প্যাচানো নিহত সায়েমের পিছনে হাত বাঁধা ও হাঁটু মেঝেতে গেড়ে থাকায় অনেকের ধারণা তাকে কেউ হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে। এ ব্যাপারে পুলিশ বলছে এটি হত্যা না আত্মহত্যা এখনো নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।

পাবনায় নিখোঁজের ৬ ঘণ্টা পর হাবিবুল্লাহ (১৪) নামের এক স্কুল ছাত্রকে শ্বাসরোধ করে হত্যা পর বুধবার সন্ধ্যায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। হাবিবুল্লাহ পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মেহেদীনগরের মহসিন আলম সালামের ছেলে। পুলিশ ও স্বজনরা জানান, বুধবার দুপুরে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয় পাবনা কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্র মো: হাবিবুল্লাহ। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার। সন্ধ্যায় শহরের সিংগা উত্তরপাড়ার সোবাহান খাঁর লিচু বাগানে একটি বস্তাবন্দি লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে। বিষয়টি জানতে পেরে থানায় গিয়ে লাশটি হাবিবুল্লাহর লাশ বলে সনাক্ত করে তার স্বজনরা। পাবনা শহরের জয়কালী মন্দিরের সন্নিকটে বিশ্বনাথ কর্মকারের বাড়িতে ভাড়া থাকতো স্কুল ছাত্র হাবিবুল্লাহ’র পরিবার। কারা কি কারণে তাকে হত্যা করেছে সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

রংপুরে ট্রাকের চালক ও মালিককে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার সকালে মাহিগঞ্জ তাজহাট এলাকায় একটি ট্রাক থেকে তাদের গলা কাটা ও হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। নিহত দুজনের নাম ট্রাকমালিক কোরাইশ খান ও চালক রমজান। তাদের বাড়ি পাবনার বাঘাবাড়ি এলাকায়। পুলিশ ধারণা করছে দুর্বৃত্তরা তাদেরকে হত্যা করেছে। পুলিশ বলছে, তাজহাট ভিআইপি শাহাদত হিমাগারের সামনে দাঁড়ানো একটি ট্রাকের মধ্যে দুটি লাশ দেখতে পেয়ে লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দুটি লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে লাশ দুটি চালক ও মালিকর বলেই জানাগেছে।