ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১০:১৪ ঢাকা, শুক্রবার  ১৯শে অক্টোবর ২০১৮ ইং

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন (সাকা) কাদের চৌধুরী। ফাইল ফটো

সাকা চৌধুরীর মৃত্যুদন্ডাদেশের বিরুদ্ধে করা আপিলের চূড়ান্ত রায় ২৯ জুলাই

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন (সাকা) কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদন্ডাদেশের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানি শেষে আগামী ২৯ জুলাই রায় ঘোষনার তারিখ ধার্য করা হয়েছে। এ নিয়ে ট্রাইব্যুনাল থেকে আপিল বিভাগে আসা পঞ্চম আপিল মামলার শুনানি শেষে চূড়ান্ত রায় ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছলো।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চ রায় ঘোষনার দিন ধার্য করে মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
আজ আদালতে আপিল শুনানির ত্রয়োদশতম দিনে সাকা চৌধুরীর পক্ষে তৃতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক পেশ সম্পন্ন করেন তার আইনজীবী এডভোকেট এএসএম শাহজাহান ও খন্দকার মাহবুব হোসেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
৫ থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত তিন কার্যদিবসে সাকা চৌধুরীর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এসএম শাহজাহান। এর আগে প্রথমে আসামিপক্ষে গত ১৬ জুন শুনানি শুরু করে ৮ কার্যদিবস ট্রাইব্যুনালে দেয়া রায়, সাক্ষীদের সাক্ষ্য-জেরা এবং রায় সংক্রান্ত অন্যান্য নথিপত্র (পেপারবুক) উপস্থাপন করেন আইনজীবী এসএম শাহজাহান। এরপর গত ৩০ জুন এবং ১ ও আজ ৭ জুলাই তিন কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মানবতাবিরোধী অপরাধে সাকা চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনালে দেয়া মৃত্যুদন্ড বহাল থাকা ন্যায় ও অতি প্রয়োজন দাবী করে যুক্তি পেশ করেন।
তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় সাকা চৌধুরী পাকিস্তানি বাহিনী ও নিজস্ব বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তান্ডব চালিয়েছে। একই দিনে চার স্থানে পর্যন্ত তান্ডব চালানো হয়। ৭১’এর এপ্রিল থেকে জুলাই পযর্ন্ত এসব অপরাধ হয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের ওপর বেশি হামলা করা হয়। যেন তারা দেশ ছেড়ে চলে যান। এসব অপরাধের চারটি অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল এ আসামিকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে রায় দিয়েছে। এ দন্ড বহাল রাখার আর্জি পেশ করে রাস্ট্রপক্ষ।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের চূড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদন্ড বহাল রাখার পর পরই গত ১৬ জুন শুরু হয় আপিল বিভাগে আসা ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে পঞ্চম আপিলের শুনানি। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদন্ড রায়ের বিরুদ্ধে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিল আবেদনটি আপিল বিভাগে পঞ্চম আপিল মামলা। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এডভোকেট অন রেকর্ড জয়নাল আবেদীন ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর এ আপিল দায়ের করেন।
এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, “এ রায়ের বিরুদ্ধে রাস্ট্রপক্ষ আপিল করেনি। তবে আপিলে আসামীপক্ষের শুনানির বিপরিতে রায় বহাল রাখার পক্ষে আর্জি পেশ করে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে।”
২০১৩ সালের ১ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল-১ এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল সাকা চৌধুরীকে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদন্ড দিয়ে রায় দেয়। রায়ে বলা হয়, সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনীত ২৩টি অভিযোগের মধ্যে ৯টি সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে প্রসিকিউশন।
এর মধ্যে ৩,৫,৬ ও ৮ নং অভিযোগের প্রতিটিতে তাকে মৃত্যুদন্ড. ২,৪ ও ৭নং অভিযোগের প্রতিটিতে তাকে ২০ বছর করে জেল এবং ১৭ ও ১৮ নং অভিযোগে তাকে ৫ বছর করে জেল দিয়ে রায় ঘোষণা করেছে ট্রাইব্যুনাল-১। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ২৩টি অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়।
যে চারটি হত্যা-গণহত্যার দায়ে সাকাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে সেগুলো হলো ৩ নম্বর অভিযোগ-অধ্যক্ষ নুূতন চন্দ্র সিংহকে হত্যা, ৫-নম্বর অভিযোগ-রাউজানের সুলতানপুর গ্রামে তিনজনকে গণহত্যা, ৬ নম্বর অভিযোগ-রাউজানের ঊনসত্তরপাড়ায় ৫০ জনেরও বেশী লোককে গণহত্যা এবং ৮ নম্বর অভিযোগ- চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মোজাফফর আহম্মদ ও তার ছেলে শেখ আলমগীরকে হত্যার অভিযোগে। ২-নম্বর অভিযোগ রাউজানের গহিরা গ্রামের হিন্দুপাড়ায় গণহত্যা, ৪ নম্বর অভিযোগ জগৎমল্লপাড়ায় ৩২ জনকে গণহত্যা এবং ৭ নম্বর অভিযোগে রাউজানের সতীশ চন্দ্র পালিতকে হত্যার অভিযোগে সাকা চৌধুরীকে ২০ বছর করে কারাদন্ড দেয়া হয়। এছাড়াও ১৭ নম্বর অভিযোগ- মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক নিজাম উদ্দিন আহম্মেদ, সিরাজ ও ওয়াহেদ ওরফে ঝুনু পাগলাকে অপহরণ করে নির্যাতন এবং ১৮ নম্বর অভিযোগে চান্দগাঁওয়ের সালেহউদ্দিনকে অপহরণ করে সাকা চৌধুরীর পারিবারিক বাসভবন গুডসহিলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে সাকা চৌধুরীকে পাঁচ বছর করে কারাদন্ড দেয়া হয়।
সাকা চৌধুরীকে ২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাতে হরতালে গাড়ী পোড়ানো ও ভাংচুরের এক মামলায় গ্রেফতার করা হয়। তদন্তের স্বার্থে এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সে থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।