ব্রেকিং নিউজ

রাত ২:৪৫ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২১শে জুন ২০১৮ ইং

(বাঁ থেকে) সাবেক পাক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মিয়া সুমরো, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ মন্ত্রী ইসহাক খান খাকওয়ানি, ফিজিতে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ওসমান সিদ্দিকী ও ডন মিডিয়া গ্রুপের চেয়ারপারসন আম্বার হারুন সাইগল

সাকার পক্ষে পাকিস্তানিসহ ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের আবেদন

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর পক্ষে রিভিউ শুনানিতে পাঁচ পাকিস্তানি নাগরিকসহ আটজন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন জানানো হয়। সাকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুজ্জাতুল ইসলাম খান আল ফেসানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পাঁচ পাকিস্তানি হলেন- পাকিস্তানে বসবাসরত বিশিষ্ট স্থপতি মুনিব আরজুমান্দ খান, সমাজকর্মী আম্বার হারুণ সায়গল, রাজনীতিবিদ ও মন্ত্রী ইসহাক খান খাকোয়ান, রিয়াজ আহম্মদ নুন যিনি ভিকারুন্নেসা নূনের নাতি এবং পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মিয়া সুমরো।
এছাড়া পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে সাকার সহপাঠী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কূটনীতিক মোহাম্মদ ওসমান সিদ্দিক এবং বাংলাদেশের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শামীম হাসনাইন ও তার মা সাকার পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
এদিকে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন, বিচারের শেষ পর্যায়ে এসে এ ধরণের আবেদন ‘নজিরবিহীন’।
তিনি বলেন, রিভিউ আবেদনের সময় শেষ, যুদ্ধাপরাধী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে সাফাই সাক্ষী অন্তর্ভুক্তির কোন সুযোগ নেই।
গত ১৪ অক্টোবর সাকার পক্ষে তার আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেন।
ওইদিনই আলজাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাকা চৌধুরীরর পক্ষে চার পাকিস্তানি নাগরিকসহ পাঁচ বিদেশী নাগরিক সাফাই সাক্ষী দিতে আগ্রহী। `Pakistanis ask to testify in Bangladesh war-crimes case’ শিরোনামে এ প্রতিবেদনটি লিখেছেন বাংলাদেশে বসবাসরত ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান।
এই পাঁচ সাক্ষী মনে করেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ব্যাপারে তৎকালীন ঘটনার ব্যাপারে প্রকৃত সাক্ষ্য দিতে পারলে তাকে দণ্ডাদেশ মুক্ত করা সম্ভব। তাদের দাবি, ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী করাচিতে অবস্থান করছিলেন। তাই যেসব অপরাধের জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে এর দায় তার ওপর যায় না।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর চেয়ারম্যান বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন সাকা চৌধুরী। আপিলেও মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখা হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের সঙ্গে তার মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেন আপিল বিভাগ।
এরপর দুজনের রায়েরই পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি একসঙ্গে আসে ট্রাইব্যুনালে। গত ১ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল মৃত্যু পরোয়ানা জারি করলে তা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছে দেয়া হয়।
এরপর নিয়ম অনুযায়ী ১৫ দিন শেষ হওয়ার আগের দিন রিভিউ আবেদন করেন সাকা চৌধুরী। রিভিউ খারিজ হলে রাষ্ট্রপতির কাছে তাকে প্রাণভিক্ষা করতে হবে। প্রাণভিক্ষা মঞ্জুর না হলে সাকা চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর করবে সরকার।