ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:৪০ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

‘সাইবার সিকিউরিটি সক্ষমতা বাড়াতে হবে’- প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, ডিজিটাল সুবিধা ব্যবহার করে কেউ যেন অপরাধ কার্যক্রম চালাতে না পারে সে ব্যবস্থাও আমাদের নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটালাইজেশনের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।… বিশেষ করে আর্থিক খাত এবং গোপনীয় বিষয়ের নিরাপত্তা যাতে কোনভাবেই বিঘিœত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এ বিষয়ে জনসম্পদ তৈরি এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি, বসুন্ধরায় দেশের সর্ববৃহৎ তথ্য প্রযুক্তি মেলা ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৬’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

‘নন স্টপ বাংলাদেশ’ থীমকে সামনে রেখে সরকারের আইসিটি বিভাগ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফর্মেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের সহযোগিতায় তিনদিন ব্যাপী এই মেলার আয়োজন করা হয়।

সরকারের ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট প্রণয়নের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, আমরা ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০১৬ প্রণয়ন করতে যাচ্ছি। এর আওতায় বাংলাদেশে বিশ্বমানের ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন, সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি গঠন, সাইবার ইন্সিডেন্স রেসপন্স টিম (সিইআরটি) প্রতিষ্ঠা এবং উচ্চ পর্যায়ের ডিজিটাল সিকিউরিটি কাউন্সিল গঠন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামাত সরকার বিনা খরচে সাবমেরিন কেবলে সংযুক্ত হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও, নিরাপত্তার অজুহাতে তাহাতছাড়া করে। আমরা সরকার গঠন করে দেশের স্বার্থে টাকা খরচ করে সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হই।

তিনি বলেন, দেশে কোন বিকল্প সাবমেরিন কেবল না থাকায় আমরা দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে বাংলাদেশকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছি। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে বাংলাদেশ প্রায় ১ হাজার ৩০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ অর্জন করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উড্ডয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ২০১৭ সালে এর যাত্রা শুরুর পর নিজস্ব চাহিদা পূরণের সাথে সাথে আমরা স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করতে পারবো।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের সভপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কাযালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও অ্যাক্সেস টু ইনফর্মেশন (এটুআই) কর্মসূচির পরিচালক কবির বিন আনোয়ার,তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফর্মেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সভাপতি মোস্তফা জব্বার।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে নারীদের কম্পিউটার প্রযুক্তি প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে ৬টি স্মার্ট বাসেরও উদ্বোধন করেন।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তাঁর সরকার শিক্ষাখাতকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৬ষ্ট থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ১৭টি টেক্সট বইকে ডিজিটাল টেক্সটবুক বা ই-বুকে রূপান্তর করেছি। শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে আমরা সারাদেশে ৩০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম স্থাপন করেছি।

সারাদেশে ২ হাজার ১টি ‘শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব’ স্থাপন করেছি। আরও ৯০০টি ল্যাব প্রতিষ্ঠার কাজ শেষের পথে। ৬৪ জেলায় ৬৫টি ল্যাংগুয়েজ ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে সাড়ে ৫ হাজারেরও অধিক ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করেছি।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের মধ্যে আরও ১০ হাজার ‘শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব’স্থাপন করা হবে।

আইসিটি খাতে গবেষণার জন্য ফেলোশিপ ও বৃত্তি প্রদান এবং উদ্ভাবনীমূলক কাজের জন্য অনুদান সম্পর্কিত নীতিমালা-২০১৩ প্রণয়নের মাধ্যমে আমরা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’এর শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছি-উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উদ্ভাবনী কর্মকা-কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং আইটি স্টার্ট-আপ উদ্যোগকে সম্প্রসারণ করতে তাঁর সরকার ‘ইনোভেশন ডিজাইন এন্টারপ্রেনারশীপ একাডেমী (আইডিইএ) প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। পাশাপাশি উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা ‘ওয়ান থাউজেন্ড ইনোভেশন-২০২১’ নামের এক বিস্তৃত কর্মযজ্ঞও শুরু করেছে।

এছাড়া, গেমিং শিল্পে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠা করতে ‘স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর মোবাইল গেম অ্যান্ড অ্যাপলিকেশন’ প্রকল্পও গ্রহণ করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রযুক্তি ভিত্তিক উন্নয়নে আমাদের প্রচেষ্টা বিশ্ববাসীর সুনাম অর্জনে সক্ষম হয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তিতে অবদানের জন্য ‘আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট এওয়ার্ড ২০১৬’ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

তাকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অন্যতম কারিগর আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘ওর কাছ থেকেই আমি কম্পিউটার চালানো শিখেছি। মা হিসেবে এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এ পুরস্কারে আমি সম্মানিত বোধ করেছি। এ অর্জন শুধু সরকারের নয়, এ কৃতিত্ব দেশের জনগণের।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের মেয়াদে আরো বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হবার তথ্যও তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী দেশের বর্তমান আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। বর্তমানে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ। মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৬৬ মার্কিন ডলার। ৫ কোটি মানুষ নিম্ন আয়ের স্তর থেকে মধ্যম আয়ের স্তরে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার আমরা ২২ দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী দেশের আইসিটি শিল্পের বিকাশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, জাতির পিতা যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুুক্তিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থা (আইটিইউ)-এর সদস্যপদ লাভ করে। তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে পুনরায় জনগণের সেবার সুযোগ পায়। আমরা সরকার গঠন করে মানুষকে উন্নত জীবনদানের প্রতিজ্ঞা করি। তারই অংশ হিসেবে আমরা টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে ঢেলে সাজাই।

এ সময় তিনি বিএনপি সরকারের সময় মোবাইল ফোনের একক মনোপলী ব্যবসা ভেঙ্গে দিয়ে ব্যক্তিখাতকে উন্মুক্ত করেন দেয়াতেই আজ সবার ঞাতে মোবাইল ফোন আসতে পেরেছে বলেও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে আমাদের সরকার বিগত সাড়ে সাত বছরে আইসিটি খাতে আমূল পরিবর্তন এনেছে। আজ দেশের প্রতিটি উপজেলা ফাইবার অপটিক কেবলের আওতায় এসেছে। যে ব্যান্ডউইথ এর দাম ২০০৭ সালে ছিল ৭৬ হাজার টাকা, তা কমিয়ে বর্তমানে মাত্র ৬২৫ টাকায় এনেছি। ইতোমধ্যে প্রায় সব উপজেলায় থ্রি-জি সেবার আওতায় এসেছে। আগামী ২০১৭ সালের মধ্যেই ফোর-জি চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন,দেশে আজ প্রায় ১৩ কোটির বেশি মোবাইল সিম ব্যবহৃত হচ্ছে। ৬ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। ৫ হাজার ২৫০টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের লোকজন ২০০ ধরণের ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করছে। ৩ হাজার ডাকঘরেও ডিজিটাল সেবা দেওয়া হচ্ছে। কয়েকটি উন্নত দেশসহ প্রায় ৪০টি দেশে আমরা সফটওয়্যার ও আইসিটি সেবা রপ্তানি করছি।

সরকারি সেবা পেতে এখন আর মানুষকে অযথা হয়রানির শিকার হতে হয় না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম জমা দেওয়া লাগে না। এক সময় এদেশে ‘হাওয়া ভবন’ সৃষ্টি করে ঘুষ বাণিজ্যকে যে প্রাতিষ্ঠানিকরূপ দেওয়া হয়েছিল, আমরা তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে তা বন্ধ করেছি। টেন্ডার বাণিজ্য বন্ধ হয়েছে। সরকারি টেন্ডারগুলো এখন ই-জিপিতে চলে গেছে।

যুব সমাজের কর্মসংস্থানে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইসিটি ব্যবহার করে তরুণ জনগোষ্ঠীর আউটসোসিং-এর দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আমরা ‘লার্নিং এন্ড আর্নিং’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। এ প্রকল্পের আওতায় ৫৫ হাজার তরুণ-তরুণীকে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে ২০ হাজার জনকে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি উপার্জনের পথ সুগম করতে ‘বাড়ি বসে বড়লোক’ কর্মসূচির আওতায় ১৪ হাজার ৭শ’ ৫০জনকে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭০ শতাংশই নারী।

তিনি বলেন, কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিসহ সারাদেশে আরও ২০টির মত হাই-টেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, আইটি ভিলেজ আমরা গড়ে তুলছি। যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে এ বছরেই পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাওরান বাজারে জনতা টাওয়ারে শুরু হয়েছে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের অপারেশন। আমাদের ছেলে-মেয়েরা যাতে হাতে-কলমে কারিগরি শিক্ষা নিতে পারে সে জন্য গড়ে তুলছি আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান জানিয়ে বলেন, আসুন, দলমত নির্বিশেষে সকলে মিলে সরকারের রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলি।

প্রধানমন্ত্রী আলোচনা পর্ব শেষে মেসলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

উল্লেখ্য, এবারের মেলায় ৪০টি মন্ত্রণালয় ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে কি কি সেবা দিচ্ছে তার আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হবে। মেলায় শীর্ষস্থানীয় শতাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের ডিজিটাল কার্যক্রম তুলে ধরবে। তিন দিনব্যাপী আয়োজনে মাইক্রোসফট, ফেসবুক, একসেন্সার, বিশ্বব্যাংক, জেডটিই, হুয়াওয়েসহ খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠানের ৪৩ জন বিদেশি বক্তাসহ দুই শতাধিক বক্তা ১৮টি সেশনে অংশ নেবেন।

এছাড়া নেপাল, ভুটান, সৌদি আরবসহ ৭টি দেশের ৭ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে অংশ নেবেন।