ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:১১ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

সাংসদকে অবরুদ্ধ রাখে আ. লীগ

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য (স্বতন্ত্র) ও জেদ্দা আওয়ামী লীগ সভাপতি রহিম উল্ল্যাহকে তিনঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয় আওয়ামী লীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার দুপুরে রহিম উল্ল্যাহ সোনাগাজী শহরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে আসছেন এমন খবরে নেতাকর্মীরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এর আগে সকাল থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা সোনাগাজী মুহুরী প্রজেক্ট সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশের সহায়তায় সোনাগাজীতে আসতে পারলেও জুমার নামাজ পড়তে পারেননি তিনি।

Feni12-12প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দেড়টার দিকে এমপি রহিম উল্যাহ তার সমর্থকদের নিয়ে সোনাগাজীর জিরো পয়েন্টে এসে পৌঁছলে এমপি সমর্থক ও আওয়ামী লীগ নেতারা মুখোমুখি অবস্থান নেন। এ সময় এমপির সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন বিটুর বাকবিতণ্ডা হয়।

এতে আওয়ামী লীগ নেতাদের তোপে পড়ে এমপি পায়ে হেঁটে তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘একরামের হত্যাকারী নিজাম হাজারী আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করছেন। তার নেতারা আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমি ফেনী এসেছি। এখন থেকে স্থায়ীভাবে ফেনীতে অবস্থান করবো। ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম হাজারী আমার কিছু করতে পারবেন না। আমি তাকে ভয় পাইনা। ভয় করলে দেশ স্বাধীন করা যাবেনা। মৃত্যুকেও আমি ভয় পাইনা।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সোনাগাজী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক হিরণ, ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম এমপিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

সোনাগাজীতে এমপি রহিম উল্যাহ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান করলেও পুলিশের কড়া নিরাপত্তার কারণে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় ফেনী সার্কিট হাউজে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিতিতে লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হয়ে ওইদিন রাতে তিনি ঢাকায় চলে যান। এরপর গত ৯ ডিসেম্বর তিনি ফেনী আসেন। ওইদিন তার আসার খবরে ফেনীর লালপুল ও সোনাগাজী জিরো পয়েন্টে তার গাড়ি বহরে হামলা করে গাড়ি ভাঙচুর করে।