ব্রেকিং নিউজ

রাত ৯:৩৮ ঢাকা, সোমবার  ২৩শে এপ্রিল ২০১৮ ইং

রুহুল কবির রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ফাইল ফটো

“সাংবাদিক নির্যাতনের ৫৭ ধারা বাতিল চাই” – বিএনপি

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারায় সরকার সাংবাদিকদের নির্যাতন করছে বলে দাবি করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

শুক্রবার সকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ দাবি করেন।

রিজভী বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ৫০জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবারও একজন সিনিয়র সাংবাদিককে ৫৭ ধারায় আটক করে কারাগারে প্রেরণ করেছে। আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা স্বাধীন মত প্রকাশের স্বাধীনতার অন্তরায়।

তিনি বলেন, বর্তমানে ৫৭ ধারার ভয়াবহতা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। যদিও আইনমন্ত্রী বলেছিলেন ৫৭ ধারা প্রত্যাহার করা হবে। পরে তিনি তার অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। গণমাধ্যমে জানতে পেরেছি ৫৭ ধারা থেকে আরও ভয়াবহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করতে যাচ্ছে সরকার। সে আইনের ১৯ ধারাতে গণমাধ্যমকে আরও শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণের বিধান রাখা হয়েছে। এ আইনের খসড়ার ১৯ ধারায় বিদ্যমান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার সব বিষয় বিদ্যমান রয়েছে। এই ১৯ ধারাতেও তথাকথিত মানহানি, সামাজিকভাবে অপদস্থ করার চেষ্টা বিশেষভাবে রাখা হয়েছে।

রিজভী বলেন, প্রস্তাবিত আইনের খসড়ার ১৫ (৫) ধারা চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আরেকটি বড় বাধা হবে। কারণ এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে কোনো বক্তব্য সরকারি ভাষ্যের বিপরীত হলে তা ‘ডিজিটাল সন্ত্রাসী অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের মনগড়া ইতিহাসের বিরুদ্ধে কথা বললেই মামলা, জেল জুলুম আর নির্যাতনের খড়গ নেমে আসবে। সরকারের এসব কালাকানুন ও নীতিমালা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম-তাদের সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল মিডিয়া তথা ওয়েবসাইট, অনলাইন সামাজিক মাধ্যমের সরাসরি হস্তক্ষেপ। বিএনপির পক্ষ থেকে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক বিধানসহ সকল কালাকানুন অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সম্পাদক ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় যত মামলা আছে, তা প্রত্যাহার এবং গ্রেফতারকৃত সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি করছি।