শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৭:১৫ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৩ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

আনিসুল হক

‘সাংবাদিকতা সুরক্ষায় প্রয়োজনে উপধারা হবে’ – আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্রয়োজনে জনস্বার্থে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সুরক্ষায় প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারায় একটি উপধারা সংযোজন করা হবে।

আজ মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ল’রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ) আয়োজিত ‘মিট দ্যা প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এলআরএফ সভাপতি আশুতোষ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম পান্নু, সহসভাপতি মাশহুদুল হক, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক কাজী আবদুল হান্নান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ন্যায়সঙ্গত কারণ থাকলে দরকার হলে জনস্বার্থে ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সুরক্ষায় ৩২ ধারায় একটি সাব সেকশন অন্তর্ভূক্ত করা হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, কোন তথ্য নেয়া গুপ্তচর বৃত্তি নয়। একটা অপরাধের জন্য মূল বিষয় হলো মেনসরিয়া (অপরাধমূলক মন)। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অপরাধগুলোকে অনেক স্পষ্ট করা হয়েছে। ছোট অপরাধের জন্য ন্যূনতম সাজা। বড় অপরাধের জন্য বড় রকম সাজা। নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য কোনো বাধা হবে না।

আনিসুল হক বলেন, সাংবাদিকরা অনুসন্ধানী রিপোর্টের জন্য গোপনভাবে তথ্য সংগ্রহ করলে সেটা গুপ্তচরবৃত্তির মধ্যে পড়বে না। গুপ্তচরবৃত্তি তাকেই বলে, যখন কেউ রাষ্ট্র ও সরকারের গোপন তথ্য সরকারের শত্রুর কাছে পাচার করে দেয়। তখন তার বিরুদ্ধে এ আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সময় তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরির বিষয় উল্লেখ করে বলেন, এই অপরাধীদের সাজা কীভাবে দেব? সেজন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে সুনির্র্দিষ্টভাবে ১১টি অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তার মানে এই অভিযোগ যখন হয়েছে, যেই কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান বা তদন্ত করা উচিত তারা তা করবে।

বেগম খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করছে, খালেদা জিয়ার এ বক্তব্য সঠিক নয়। তার বিরুদ্ধে এই মামলাটি হয়েছিল তারই নিয়োগকৃত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফখরুদ্দীন আহমেদ ও সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদের সময়। মামলাটি সরকারের কোনো সংস্থা তদন্ত করেনি। এটা তদন্ত করেছে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই মামলা নিয়ে তিনি হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে অন্তত ১০ থেকে ১৫ বার আবেদন করে তারা হেরেছেন।

তিনি বলেন, ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আলাদা হওয়ার পর লজিস্টিক অনেক সমস্যা ছিল। অবকাঠামো খারাপ ছিল। বিচারকরা এজলাস ভাগাভাগি করে বিচার কাজ করতেন। সেগুলো ধীরে ধীরে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। বিচারক স্বল্পতার কারণে ৩৩ লাখ মামলার জট খোলার জন্য ইতোমধ্যে সহকারী জজ নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।

ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানে কোন কিছু প্রতিস্থাপনের এখতিয়ার শুধুমাত্র জাতীয় সংসদ তথা পার্লামেন্টের। কোন আদালতের এ এখতিয়ার নেই।