ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১:৩২ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

সহিংসতা থামান, আলোচনায় বসুন, ক্ষয় ক্ষতির দায়ভার নিন: (ক্যাব)

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব) চট্টগ্রাম এক বিবৃতিতে সহিংসতা থামিয়ে আলোচনার টেবিলে সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসার জন্য সকল রাজনৈতিক শক্তির কাছে আহবান জানিয়ে  দুই প্রধান রাজনৈতিক জোটকে অসহিষ্ণু রাজনীতির শিকার দেশের ১৬কোটি ভোক্তাদের ক্ষয় ক্ষতির দায়ভার নিতে দাবী করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয় ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের বর্ষপুর্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুর্নবহালের দাবীকে কেন্দ্র করে দেশে চলমান অবরোধ, হরতাল, সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ১৬ কোটি ভোক্তা। যদিও প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াগুলি ব্যবসা বানিজ্য ও শিল্প কলকারখানার ক্ষতি বেশী বলে প্রচারনা চালালেও দেশব্যাপী চলমান অবরোধ, হরতাল, জ্বালাও পোড়াও, পেট্রোল বোমা ও আগুণে পুড়ে মরা, অসহিষ্ণু রাজনীতির বলি হচ্ছে দেশের ভোক্তা হিসাবে সাধারন জনগন। ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋনের সুদ মওকুপ, ক্ষতিপুরনসহ সরকারের নানা সুবিধা পেলেও সাধারন ভোক্তারা বেশী দামে নিত্যপ্রয়্জোনীয় ভোগ্যপণ্য, বাস, পরিবহন ভাড়া, শিক্ষা চিকিৎসাসহ অত্যাবশ্যকীয় সকল সেবা সার্ভিস এর জন্য বিপুল পরিমান অতিরিক্ত অর্থ গুনতে বাধ্য হলেও তাদের ক্ষতির বিষয়ে কোন পক্ষ কথা বলছেন না, অন্যদিকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা চরম হুমকিতে, রোগি পরিবহন নিরাপদ না হওয়ায় বিনা চিকিৎসায় অনেকে মৃত্যুবরণ করার উপক্রম হলেও দেশের সকল মহল উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় দিনাযাপনে বাধ্য হচ্ছে, সাধারন মানুষের নিরাপদ জীবন জীবিকা নির্বাহ করা ও বেঁচে থাকার বিষয়ে কোন রাজনৈতিক মহল চিন্তা না করায় বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্য সরবরাহ, অত্যাবশ্যকীয় সেবা সার্ভিসের অব্যাহত সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ঠ ঘোষনা না থাকায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং রাজনৈতিক সংকট সমাধানে দুই প্রধান জোটের মধ্যে সংঘাতের পথ পরিহার করে অবিলম্বে সংলাপে বসা, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্য ও অত্যাবশ্যকীয় সেবা সার্ভিস(শিক্ষা, গণপরিবহন, চিকিৎসা)কে অবরোধ, রাজনৈতিক সহিংসতা, হরতাল ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডের আওতা বর্হিভুত রাখার দাবী জানিয়েছেন দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও মহানগর কমিটি।

নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে আরো বলেন দেশের চলমান অবরোধ, সহিংসতা, রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ সব সময় দেশের ১৬ কোটি ভোক্তার স্বার্থটি বারংবারই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋনের সুদ মওকুপসহ নানা সুবিধা পেলেও সাধারন ভোক্তাদের অতিরিক্তি খরচের দায়ভার কে নিবে? অবরোধ, হরতাল ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিপুল পরিমান প্রাণহানি, নিরাপদ শিক্ষা জীবন, চিকিৎসা ও জীবনযাত্রা ব্যাহত হবার ক্ষতি কে পুষিয়ে দিবে? এ প্রশ্ন করেন ক্যাব নেতৃবন্দ। দেশের মানুষ যখন চাল, ডাল, পিয়াঁজ, সবজি, সয়াবিন তেল, চিনি, আটা, ময়দা, জীবনরক্ষাকারী ওষধ ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি, নকল-ভেজালে ও প্রতারনায় ছেয়ে গেছে, অত্যাবশ্যকীয় সেবা সার্ভিস বিশেষ করে রিকসা, সিএনজি, বাস ভাড়া, বাড়ী ভাড়া, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা সেবা, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন চরম অনিশ্চয়তায় যেতে বসেছে, জীবন রক্ষাকারী ওষুধের সীমাহীন উর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্ত ও সাধারন মানুষের জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করা দুরহ হয়ে পড়েছে, সেখানে কোন রাজনৈতিক দল এ সমস্ত বিষয়ে একটিও উচ্চ বাক্য করেনি। যদিও সকল রাজনৈতিক দলগুলি দেশের সাধারন মানুষের জন্য রাজনীতি করেন বলে সর্বক্ষন বুলি আওলিয়ে থাকেন। আর এখন ৫ জানুয়ারির র্ন্বিাচন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে অবরোধ, জ্বালাও, পোড়াও, ভাঙচুর, হরতাল ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল ভোগ্য পণ্যের পরিবহন সমস্যাসহ নানা অজুহাতে ব্যবসায়ীরা পণ্যমুল্যের বাজারে হু হু করে আগুন দিচ্ছে। আর একশ্রেনীর মজুতদাররা পণ্যের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে সাধারন ভোক্তাদের পকেট কাটছে। সীমিত আয়ের মানুষ ও দৈনিক আয়ের উপর নির্ভরশীল একটি বড় গোষ্ঠি অবরোধ, হরতালও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে সীমাহীন দুঃখ ও কষ্ঠের মধ্যে দিন যাপান করতে বাধ্য হচ্ছে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলের নেতা ও কর্মীদের বিশেষ দৃষ্ঠি রাখা প্রয়োজন ছিল, তাদের এ ধরনের নেতিবাচক কর্মকান্ড জাতিকে হতাশ করছে। তাই সাধারন জনগনকে জিম্মি করে রাজপথে বল প্রয়োগে সমস্যার সমাধান না করে আলোচনার টেবিলে সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসার জন্য সকল রাজনৈতিক শক্তির কাছে ক্যাব আহবান জানাচ্ছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অবরোধ, হরতাল ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রতিদিনই ভাংচুরের শিকার হচ্ছেন গণপরিবহনের বাস, ট্রাক, সিএনজি ও কাভার্ড ভ্যান। অথচ এ গুলি জাতীয় অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছে। কিছুদিন ধরেই জাতীয় পরিবহন রেলও এ আক্রমন থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এছাড়াও অবরোধ, হরতাল পরবর্তী সহিংসতায় গণমাধ্যম, দোকান, ব্যাংক, বীমা, ক্ষুদ্র ঋনদান প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হামলার মতো ন্যাক্কার জনক ঘটনার কারনে দেশে নেতিবাচক রাজনীতিকে উস্কে দেয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করে অবিলম্বে এ ধরনের ঘটনা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনে সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মতৈক্য প্রতিষ্ঠার দাবী করছে।

নেতৃবৃন্দ আরো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যুদ্ধকালীন সময়েও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গণমাধ্যম কর্মীদের উপর হামলার আওতা বর্হিভুত থাকলেও চলমান রাজনৈতিক সহিংষতায় সাংবাদিক, পত্রপত্রিকা, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান। অবিলম্বে এ ধরনের ন্যাক্কারজন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটার জন্য আহবান জানান। কারন এ সমস্ত ঘটনা আমাদেরকে আবারো মধ্যযুগীয় যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন।

বিবৃতিদাতারা হলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটি সদস্য এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, ক্যাব নেতা সাংবাদিক এম নাসিরুল হক, অধ্যক্ষ দবির উদ্দীন খান, আবদুল ওয়াহাব চৌধুরী, অধ্যক্ষ মনসুর হাবিব, হাজী ইকবাল আলী আকবর, আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, রাশেদ খান মেনন, হাজী আবু তাহের, উপাধ্যক্ষ কুতুব উদ্দীন, শিক্ষক নেতা লকিয়ত উল্লাহ, অঞ্চল চৌধুরী, শাহাদৎ হোসেন, তৌহিদুল ইসলাম, জানে আলম, সেলিম মিয়া, আবু ইউনুচ, ইসমাইল ফারুকী, হারুন গফুর ভুঈয়া, মোনায়েম বাপ্পী, নারী নেত্রী আবিদা আজাদ, দীপিকা বড়–য়া, জেসমিন পারভীর জেসি, সায়মা হক, রুখসানা আখতারুন্নবী, অ্যাডভোকেট বাসন্তী প্রভা পালিত, জান্নাতুল ফেরদৌস, কাজী সমিতির নেতা ইউসুফ চৌধুরী  প্রমুখ।