Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:৫১ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

‘সরকার শহর ও গ্রামের তফাৎ কমিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি মজবুত করতে কাজ করছে’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শহর ও গ্রামের তফাৎ কমিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চালনের মাধ্যমে মজবুত করার লক্ষ্যে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের গোলাম দস্তগীর গাজীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আজ সংসদে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, শহর ও গ্রামের তফাৎ কমিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে প্রাণ সঞ্চালনের মাধ্যমে মজবুত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের বিগত মেয়াদে গৃহীত ‘বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনার মাধ্যমে সুদূর প্রসারি লক্ষ্য ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
তিনি বলেন, গ্রামীণ বাংলার প্রধান অর্থনৈতিক কার্যক্রম কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যার মাধ্যমে দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলা সম্ভব হয়েছে। উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার জন্য এই পরিকল্পনায় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কৃষি ও সামাজিক বনায়ন বিস্তৃত করার কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের বিগত মেয়াদে মধ্যমেয়াদি ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় শহর ও গ্রামের বৈষম্য নিরসনে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সুষম প্রবৃদ্ধি এবং মানব সম্পদ উন্নয়নে নিশ্চিয়তামূলক কৌশল এবং নীতিমালা গ্রহণ করা হয়। দারিদ্র্য নিরসন সংক্রান্ত নীতিমালাসমূহ পিছিয়ে পড়া অঞ্চলসমূহের মানুষের প্রয়োজন অনুসারে প্রণয়ন করা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করা হয়।
তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় শহর ও গ্রামের বৈষম্য নিরসণের জন্য সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো সমগ্র বাংলাদেশে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য অ-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে পশ্চাদপদ অঞ্চল তহবিল গঠন, অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরিতে প্রাধান্য দেয়া, পশ্চাদপদ জেলাসমূহে ম্যানুফ্যাকচারিং-এর সুযোগ তৈরি করা, পশ্চাদপদ অঞ্চলসমূহ থেকে বিভিন্ন দেশে অভিবাসনের সুযোগ তৈরি করা, প্রতিকূল জলবায়ু ও পরিবেশগত পরিবর্তনের আঘাতের বিরুদ্ধে সহিষ্ণুতা তৈরি করা এবং পশ্চাদপদ অঞ্চলসমূহের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি সাধন করা ও আন্তঃদেশীয় সড়ক যোগাযোগ প্রকল্পে প্রাধান্য দেয়াসহ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হবে।
তিনি বলেন, পিছিয়ে পড়া অঞ্চলসমূহের দুর্বল গ্রামীণ অবকাঠামো এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় খামার এবং কৃষিভিত্তিক আয় বৃদ্ধিতে সুনির্দিষ্ট বাধাসমূহ অপসারণে মনোযোগ দেয়া হয়েছে। সবচেয়ে দরিদ্র উপজেলার কৃষকদের কৃষি ভর্তুকি, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয়বর্ধনমূলক কর্মসংস্থান, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সমবায়ভিত্তিক ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপনের জন্য সহজ শর্তে মূলধন যোগান দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, গ্রামীণ দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চলসমূহে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম পরিচালনায় বিশেষ সুবিধাদি প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেমন যদি ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ দরিদ্র এলাকায় ঋণ দেয়, তাহলে এসব প্রতিষ্ঠানসমূহকে কম সুদে তহবিল প্রদান করা হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ প্রদান এবং অর্থায়ন করার মাধ্যমে অ-খামার অর্থনৈতিক কর্মকা-সমূহকে উৎসাহিত করাসহ সরকারের গ্রামীণ উন্নয়ন কার্যক্রমকে পরিচালনার জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দুর্গম এলাকা, চরাঞ্চল ও দারিদ্র্যপীড়িত এলাকাগুলোতে বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসরত ১ কোটি পরিবারের প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষকে পর্যায়ক্রমে দারিদ্র্যমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এছাড়া সরকার ৭টি বিভাগের উপজেলাভিত্তিক গ্রোথ সেন্টারের ৭টি এলাকায় প্রতিটি ৩.৭৫ একর জমির ওপর স্বল্প ব্যয়ে আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত পল্লী জনপদ নির্মাণের কাজ হাতে নিয়েছে। নতুন শহর এলাকা গড়ার পরিবর্তে গ্রামেই নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ভূমিহীন, গৃহহীন, ঠিকানাহীন এবং নদী ভাঙ্গা পরিবারকে সরকারি খাস জমিতে পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে ২৫৪টি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের মাধ্যমে ১০ হাজার ৭০৩টি ভূমিহীন, গৃহহীন, ঠিকানাহীন এবং নদীভাঙ্গা পরিবারকে সরকারি খাস জমিতে পুনর্বাসন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আশ্রয়ণ’ প্রকল্পের মাধ্যমে সমাজের গৃহহীন, ভূমিহীন, ছিন্নমূল-অসহায় মানুষের জন্য ঘর নির্মাণ করে পুনর্বাসন, পুনর্বাসিত পরিবারসমূহের জীবনমান উন্নয়নের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১ লাখ ৪০ হাজার পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে গ্রামাঞ্চলে কুড়ে ঘরের সংখ্যা ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে।