ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:৪২ ঢাকা, সোমবার  ২৩শে জুলাই ২০১৮ ইং

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

‘সরকার মিয়ানমারকে সমর্থনকারীদের ভয় পায়’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকার মিয়ানমারকে সমর্থনকারীদের ভয় পায়’ তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা গণহত্যায় বাংলাদেশের সরকার এখনও কোনো নিন্দা জানায়নি।

নিউইয়র্কে জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শনিবার বিকালে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আপনারা (সরকার) এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের রাখাইনে যা হচ্ছে তাকে গণহত্যা বলতে পারলেন না, এখন পর্যন্ত একে আপনারা গণহত্যা বলেননি, এখন পর্যন্ত মিয়ানমার সরকারের (কার্যকলাপে) আপনারা কোনো নিন্দা জানাননি। এই বিষয়গুলো থেকে বোঝা যায়, এখনও আপনারা সেই বংশবদ রাজনীতির মধ্যে রয়েছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এখনও আপনারা (সরকার) ভয় পান অন্যরা যারা মিয়ানমারকে সমর্থন দিচ্ছে, তারা আপনাদের প্রতি বিরাগভাজন হয়ে যান, সেজন্য আপনারা একথা (জাতীয় ঐক্য না করার) বলছেন। এখানেই পার্থক্যটা। সেজন্য আমাদের (বিএনপি) সঙ্গে ঐক্য করতে চাইবে না।

শুক্রবার নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিএনপির মতো একটি সন্ত্রাসী দল, জঙ্গিবাদী দল-তাদের সঙ্গে বসতে হবে। তাদের সঙ্গে বসে সমাধান করতে হবে-এই কথাটা আর কেউ বলবেন না, যেটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য না।

বিএনপির বিরুদ্ধে হত্যা, দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, বিএনপিকে কেন টেনে আনেন বলেন তো? কেন তাদের সঙ্গে বসতে হবে, কেন তাদের রক্ষা করতে হবে?

রোহিঙ্গা ইস্যুতে অন্যান্য বিরোধী দলসহ বিএনপি সরকারের সঙ্গে আসবে কিনা এক সাংবাদিক জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধীরা কী বলল না বলল সেটা নিয়ে তো রাজনীতি করি না।

সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের সঙ্গে ঐক্য অন্য কোনো কারণে করতে বলিনি, জনগণের ঐক্য তৈরি করতে বলেছি। আমি বলব, এই সংকীর্ণতা বাদ দিয়ে, এই আমিত্ব বাদ দিয়ে আসুন সমগ্র জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করুন। ইনশাল্লাহ জনগণের ঐক্য তৈরি করেই আমরা এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের ব্যাপারে, রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে আমাদের কথা খুব স্পষ্ট, এই অমানবিক গণহত্যা বন্ধ করতে হবে অবিলম্বে।

১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও ১৯৯২ সালে বেগম খালেদা জিয়ার আমলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সফল আলোচনা ও চুক্তির মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি তুলে ধরেন ফখরুল।

জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এটিএম ফজলে রাব্বি চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব এএসএম শামীমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ, জাগপার চেয়ারম্যান রেহানা প্রধান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএমএম আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।