Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:৪৪ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

সরকার চাইলেই ব্যাংক এক্সপোজারের সংশোধন!

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের বাধা অপসারণের লক্ষ্যে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের বিষয়ে আপত্তি নেই বাংলাদেশ ব্যাংকের। সংস্থাটি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাথে আলোচনা চালিয়ে যেতেও আগ্রহী। সরকার চাইলেই ব্যাংক এক্সপোজারের সংশোধন করতে পারে।

বুধবার বিকেলে আর্থিক খাতের রেগুলেটরদের সমন্বয় সভায় এমন অবস্থানের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ), রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (আরজেসি) এবং মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে বিএসইসির পক্ষ থেকে ব্যাংক এক্সপোজারের সংজ্ঞা সংশোধনের প্রস্তাব তোলা হয়। এর জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়,  কোন কোন খাতের বিনিয়োগ ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপোজার হিসেবে গণ্য হবে, তা সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইনে বলা আছে। তারা সে অনুসারেই ব্যাংকের বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ণয় করছেন। এ সংজ্ঞা বদলাতে হলে, আইনটি সংশোধন করতে হবে। সরকার চাইলেই আইনটি সংশোধন করতে পারে।

সীমাতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ে কয়েকটি ব্যাংককে চাপ দেওয়া হচ্ছে- বিএসইসি এমন প্রসঙ্গ উপস্থাপন করলে বাংলাদেশ ব্যাংক তা অস্বীকার করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই বিনিয়োগ সমন্বয়ের জন্য ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় আছে। এখনই তা বাড়ানো বা কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কিছু নেই। তাছাড়া মাত্র তিনটি ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমার বাইরে আছে। তারা এসব ব্যাংককে মৌখিকভাবে বা লিখিতভাবে কোনো চাপই দিচ্ছেন না।

বৈঠক শেষে এক অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, পুঁজিবাজার গতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সব সময়ই সাপোর্ট দিয়ে আসছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে আইনী সীমাবদ্ধতা আছে। এ কারণে চাইলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে অনেক কিছু করা সম্ভব হয় না।

এক প্রশ্নের জবাবে সুর চৌধুরী বলেন, পুঁজিবাজারে ব্যাংকের সীমাতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে নেই। সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইনে এ সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এটি পরিবর্তন করতে হলে আইনটিই সংশোধন করতে হবে। আইন সংশোধনের কাজ বাংলাদেশ ব্যাংকের নয়; আইন সংশোধনের দায়িত্ব সরকারের।

তিনি বলেন, আমাদের কাজ মনিটরিং করা। আর সেই কাজটি বাংলাদেশ ব্যাংক করে যাচ্ছে।

এস কে সুর চৌধুরী বলেন, সরকার যদি মনে করে তবে আইন সংশোধন করে এর মেয়াদ ২০২৪ সাল পর্যন্তও করতে পারে। সরকার আইন পাশ করলে বাংলাদেশ ব্যাংক তা পালন করবে।

তিনি বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের (ওপেন অ্যান্ড ক্লোজিং) বিষয়ে একটি চিঠির ব্যাপারে ব্যাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংক আইন অনুযায়ী সব ধরণের সুবিধা দেবে।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ণয়ে সহযোগী প্রতিষ্ঠানের (ব্রোকারহাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক) পরিশোধিত মূলধন, বন্ডে বিনিয়োগ, তালিকা বহির্ভূত কোম্পানিতে করা বিনিয়োগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

স্টক এক্সচেঞ্জের ব্রোকার, বিনিয়োগকারী, এমনকি অর্থনীতিবিদরা বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ণয়ের এ পদ্ধতির সমালোচনা করছেন। তারা বিধিমালা সংশোধন করে সহযোগী প্রতিষ্ঠানের  মূলধন ও তালিকা বহির্ভুত কোম্পানির বিনিয়োগকে বাদ দেওয়ার তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন।