ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:৩৮ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ফাইল ফটো

সরকার কিভাবে বিচার বিভাগের ওপরে হস্তক্ষেপ করে?

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের প্রেক্ষাপটে বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের বক্তব্য নজিরবিহীন উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রশ্ন রেখেছেন যে, একটি বেসামরিক ব্যবস্থায় সরকার কিভাবে বিচার বিভাগের ওপরে এ ধরনের হস্তক্ষেপ করে? তিনি অভিযোগ করে বলেন,  ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার বিচার বিভাগের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে ।

তার মতে, বেআইনিভাবে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

শুক্রবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) সভাপতি প্রয়াত সাংবাদিক-রাজনীতিক আনোয়ার জাহিদের নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দলটি ‘বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সহায়ক সরকারের কোনো বিকল্প নেই’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা প্রমুখ।

ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভের ওপর হাত দিয়েছে। এখন তারা হাত দিয়েছে জুডিশিয়ারির (বিচার বিভাগ) ওপর।

আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার প্রচেষ্টা করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সাধারণত সংবিধানের রায় যখন আসে, তখন কোনো একটা দল সংক্ষুব্ধ হয়। এ রায়ে আওয়ামী লীগ সংক্ষুব্ধ হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, রায়ে যদি আওয়ামী লীগ সংক্ষুব্ধ হয়েই থাকে, তাহলে তারা রিভিউ করতে পারে। কিন্তু তা না করে আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিচ্ছে যে তারা এই রায়কে পরিবর্তন করে দেবে। নাহলে তারা প্রধান বিচারপতি ও রাষ্ট্রপতির বাসায় বৈঠক করত না।

তিনি বলেন, আলোচনায় আওয়ামী লীগ নেতারা রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির কাছে কী বলেছেন, সেটা না বললেও গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে রায় নিয়ে আলোচনার বিষয়টিই প্রকাশ পেয়েছে।

আদালতের বিরুদ্ধে মন্ত্রীদের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন রেখে ফখরুল বলেন, মানুষ প্রশাসনের কাছে আক্রান্ত হলে যায় বিচার বিভাগের কাছে। কিন্তু বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে তাদের (আওয়ামী লীগ) মন্ত্রীদের বক্তব্য নজিরবিহীন। একটি বেসামরিক ব্যবস্থায় সরকার কিভাবে বিচার বিভাগের ওপরে এ ধরনের হস্তক্ষেপ করে?

সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের বিচার দাবি করে তিনি বলেন, পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে ষোড়শ সংশোধনীর মূল রূপকার বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকই। তিনি জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাই তার বিচার ও শাস্তি হওয়া উচিত।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের সেবাদাস নয়, গণমানুষের দল। বিএনপিকে এত সহজে পরাজিত করা যাবে না। যারা দেশকে ভালোবাসে, তারা বিএনপির সঙ্গে আছে।

 

আরো পড়ুন 

‘বন্যার্তদের কাছে না গিয়ে ত্রান প্রদানের নামে পাহাড়ে নাটক করেছে বিএনপি’

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে সরকার