ব্রেকিং নিউজ

রাত ১:৪৯ ঢাকা, বুধবার  ২০শে জুন ২০১৮ ইং

“সরকারের দেয়া সুযোগ-সুবিধা ব্যবসায়ীরা কাজে লাগাতে না পারায় প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিল্প ও বাণিজ্যের উন্নয়নে সরকারের দেয়া সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আমরা নিজেরা ব্যবসা করি না, বরং অধিকতর অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমরা ব্যবসাকে উৎসাহিত করি- এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিকাশমান অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আজ তাঁর কার্যালয়ে ফেড়ারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র (এফবিসিসিআই) নবনির্বাচিত কর্মকর্তাদের এক প্রতিনিধি দল তার সাথে সাক্ষাকালে এ আহ্বান জানান তিনি।
এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমদের নেতৃত্বে এ প্রতিনিধি দলে সংগঠনটির অন্যান্য পরিচালক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ছিলেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফকালে বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন যে, বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ঘরে ও বাইরের সম্ভাবনাময় বাজারে প্রবেশ করতে সরকারের দেয়া অনেক সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতে তার উৎকর্ষের স্বাক্ষর রেখেছে। বিশাল সমুদ্র এলাকায় এখন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় বিশেষ করে গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ বিপুল সামুদ্রিক সম্পদের সদ্ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় সাথে ব্যবসায়ীদের এখন রফতানি বৃদ্ধি ছাড়াও সম্প্রসারিত অভ্যন্তরীণ বাজারের সুবিধা কাজে লাগাতে এগিয়ে আসতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে ব্যবসার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার সব সময়ই ব্যবসাবান্ধব সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার দক্ষ নেতৃত্বে কঠোর সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে দেশের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারছেন। এজন্য বঙ্গবন্ধুর ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীদের চেষ্টা করতে হবে।
শিল্পায়ন ও বাণিজ্য বিকাশে নির্দিষ্টমাত্রায় ব্যাংকের সুদের হার কমাতে তাঁর সরকারের পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনার চেষ্টা করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এই অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ, ভূটান, ভারত এবং নেপাল রুট এবং বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মায়ানমার করিডোর আঞ্চলিক কানেকটিভিটি প্রতিষ্ঠা করবে।
প্রধানমন্ত্রী কর প্রদানে ব্যবসায়িদের উৎসাহিত করতে এফবিসিসিআই’র প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের দেয়া কর ব্যবসায়িদেরকে ইনসেনটিভ প্রদানে সরকারকে সহায়তা করে। তিনি ছোট ব্যবসায়িদেরকে সহায়তা করার জন্য বড় ব্যবসায়িদের প্রতি আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন,সরকার স্থানীয় পর্যায়ে বিনিয়োগকারীদেরকে উৎসাহিত করতে প্রতিটি জেলায় একটি করে অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে।
শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নেয়া সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে বলেন, তাঁর সরকার শিল্পে গ্যাস পৌঁছে দিতে ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপনের পাশাপাশি নতুন গ্যাস কুপ খননেরও পদক্ষেপ নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এলপিজির উপর থেকে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের উল্লেখ করে বলেন, তাঁর সরকার এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়িদের কাছ থেকে কোন সাড়া পায়নি। তিনি এলপিজি গ্যাস বাজারজাত করার জন্য সিলিন্ডার তৈরি করতে ব্যবসায়িদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি সম্প্রতি গ্যাস ও বিদ্যুতের দর বাড়ানো সম্পর্কে বলেন, সরকার এর আগে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য উচ্চ মূল্যে জ্বালানি তেল ক্রয় করেছে। এতে সরকারের কাঁধে ৩৮ হাজার কোটি টাকার লায়াবিলিটি জমে। এর মধ্যে মাত্র ৮ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী পরিকল্পিত এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন করতে শিল্পপতি ও ব্যবসায়িদের প্রতি পরামর্শ দেন।
প্রধানমন্ত্রী ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-সিলেট ফোরলেন প্রকল্পের পাশাপাশি চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের কাজ এগিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের কানেকটিভিটি শিল্পায়নকে বিকশিত করবে।
তিনি চামড়ার সর্বোত্তম ব্যবহারে গুরুত্বারোপ করে বলেন, তাঁর সরকার ঢাকায় কসাইখানা স্থাপনের জন্য উপযুক্ত জায়গা খোঁজা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই’র সভাপতি আব্দুল মতলুব আহমেদ বলেন, দেশের ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নে সরকারের সাথে হাতে হাত রেখে কাজ করে যাবে। তিনি দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও সাফল্যের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।