Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৯:৩৫ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

রুহুল কবির রিজভী
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ফাইল ফটো

সরকারের ছিটকে পড়ার সময় চলে এসেছে: রিজভী

বর্তমান সরকারকে গণবিরোধী অবৈধ সরকার হিসাবে আখ্যা দিয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গণবিরোধী অবৈধ সরকার ধাবমান বাঘের পিঠে সওয়ার হয়ে ছুটাছুটি করছে। যেকোন মুহুর্তে ছিটকে পড়ার সময় চলে এসেছে। আর এ পতনে বিশ্বের সকল স্বৈরাচার চমকে ওঠবে। 

বুধবার বেলা সোয়া ১১ টার দিকে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চলমান ইউপি নির্বাচন প্রসঙ্গে বিভিন্ন অনিয়ম, সরকার ও নির্বাচন কমিশন তথা প্রশাসনের অবস্থান, সরকারী দলের অবস্থান, নির্বাচনী পরিবেশ, নির্বাচনে ভোট ডাকাতি, বিএনপি নেতা কর্মীদের প্রতি নানা ধরণের অন্যায় অবিচারের বিবরণ দিতে গিয়ে রিজভী এ মন্তব্য করেন।
 
রিজভী বলেন, গতকালও নারায়ণগঞ্জের মুড়াপাড়া ইউনিয়নে একজনকে গাছে বেঁধে জাহাঙ্গীর নামে একজন ব্যাক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। গতকাল রুপগঞ্জের ভুলতায় বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্বাস উদ্দিন ভুইয়া গণসংযোগ করতে গেলে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তার ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এ সময় বিএনপি প্রার্থীসহ ১২জন আহত হয়েছে। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পুলিশের সামনে প্রকাশ্য অস্ত্র উঁচিয়ে বীরদর্পে তারা গ্রামকে গ্রামকে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনী তাদের দুস্কর্মের সহযোগী হিসেবে উৎসাহিত করছে।

তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার ময়মনসিংহের ফুলপুরে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পুলিশের সামনে প্রকাশ্য দিনে দুপুরে সশস্ত্র মহড়া দিয়ে এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এ সময় তারা বিএনপি প্রার্থী ও সমর্থদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা করে ব্যাপক তান্ডবলীলা চালায়। বান্দরবানের রুমা উপজেলায় এক ইউপি মেম্বারকে অপহরণ করে হত্যা করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। পরে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর নাম মং নু মারমা।

তিনি বলেন, গতকাল পুলিশের সামনে মুন্সিগঞ্জে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুরিতে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ ছাড়া গতকালও বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সহিংসতায় আরো দুই শতাধিক লোক আহত হয়েছে। গতকাল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় রাজাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী কুতুবউদ্দিনের ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র হামলা করে। এসময় বিএনপি প্রার্থীসহ ২০জন আহত হয়েছে।

তিনি বলেন, বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুরে বিএনপির নির্বাচনী সভা আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পন্ড করে দিয়েছে। বিএনপি প্রার্থীসহ সমর্থকদের ঘরবাড়ি, দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। উল্টো পুলিশ আওয়ামী সশস্ত্র ক্যাডারদের সাথে নিয়ে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় আক্রমন চালায় এবং দুইশ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। একই উপজেলার কাগইল ইউনিয়নে বিএনপির নির্বাচনী সভা পুলিশ আক্রমণ করে পন্ড করে দেয়। প্রতিদিন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।

রিজভী বলেন, প্রথম দু দফা ই্উপি নির্বাচনে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ভোট ডাকাতির পর আগামী ২৩ এপ্রিল তৃতীয় ও ৩রা মে চতুর্থ দফার নির্বাচনের প্রাক্কালেও তারা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দেশব্যাপি ভয়াবহ সশস্ত্র তান্ডব শুরু করেছে। দু দফা নির্বাচনসহ এ পর্যন্ত আওয়ামী সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে এ পর্যন্ত ৪৫জন নিহত ও পাঁচ সহস্রাধিক লোক আহত হলেও নির্বাচনী সহিংসতায় মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলছে। সারাদেশের মানুষ ভোটপ্রহসনে ক্লান্ত ও আতংকিত। ক্ষমতাসীনদের অস্ত্রের ঝনঝনাতিতে গ্রামে গ্রামে ভয়ঙ্কর আতংক ছড়িয়ে পড়ছে। তারা সশস্ত্র মহড়া দিয়ে সারাদেশে বিএনপি কর্মী ও ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে না যেতে হুমকি ধামকি আগের মতোই অব্যাহত রেখেছে। নির্বাচন নিয়ে প্রশাসন ও সরকারি দলের যৌথ নৃশংস তান্ডব বিরোধী দল গণমাধ্যম যতই চেঁচামেচি করুক নির্বাচন কমিশনের উচ্চপদস্থ পদাধিকারীরা ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে নির্লজ্জের মতো বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন। দুই দফা নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতায় প্রাণহানী ও আহতের ঘটনার মধ্যে দিয়ে নির্বিচারে ভোট জালিয়াতির সচিত্র সংবাদ দেশ বিদেশে দেশী বিদেশী মানুষেরা অবলোকন করলেও নির্বাচন কমিশন প্রতিনিয়ত শান্তির ললিত বাণী প্রচার করে চলেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনারবৃন্দ শাশ্বত মিথ্যাবাদী হিসাবে আজ দেশের মানুষের কাছে আখ্যায়িত হয়েছেন। ইউপি নির্বাচন নিয়ে শাসক দলের ক্যাডারদের বিরতিহীন রক্তপায়ী হিংস্র তান্ডবে দেশের মানুষ অপমানিত ও অত্যাচারিত হলেও নির্বাচন কমিশনের সর্বোচ্চ পদাধিকারীরা লাভজনক চাকুরির ঠান্ডাঘরের মায়ায় ভোটারবিহীন সরকারের নির্দেশে অনাচার আর জালিয়াতিকে বৈধতা দিয়ে যাচ্ছেন।

রিজভী বলেন, দুই ধাপের সহিংস নির্বাচন দেশে বিদেশে ঘৃনিত হলে নির্বাচন কমিশন সকল মিথ্যাচার করার পরেও এক পর্যায়ে প্রেসনোট দিয়ে বলেছিল নির্বাচনের পরবর্তী ধাপগুলো শান্তিপূর্ণ হবে। অথচ অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে তৃতীয় ও চতুর্থ দফা নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচনী পরিবেশ যেন ছায়াসুনিবিড় গ্রামে অসংখ্য নেকড়ের আক্রমনের মতো। প্রাণহানী, বিরোধী দলের প্রার্থীদের অপহরণ ও মনোনয়নপত্র কেড়ে নেওয়া, নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকির মাত্রা বৃদ্ধি করা ইত্যাদি নির্বাচন বিনাশী অপকর্ম অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনী সহিংসতা ও মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। ভোট সন্ত্রাসের অতিমাত্রার কারণ আওয়ামী সশস্ত্র ক্যাডারদের নির্বাচনী এলাকায় অবাধ বিচরণের সুযোগ দেয়া। যাদের অপকর্মে সরকার ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে বরাভয় দিচ্ছে। এ বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন মিলে নির্বাচনকে আগামী প্রজম্মের কাছে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শণ বানানোর অভিলাষ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। যাতে বর্বর একদলীয় আওয়ামী সরকার চিরদিনের জন্য ক্ষমতায় থাকতে পারে। গণবিরোধী অবৈধ সরকার ধাবমান বাঘের পিঠে সওয়ার হয়ে ছুটাছুটি করছে। যেকোন মুহুর্তে ছিটকে পড়ার সময় চলে এসেছে। আর এ পতনে বিশ্বের সকল স্বৈরাচার চমকে ওঠবে।