ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:১২ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডন্ট
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডন্ট

সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির প্রতি বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের ‘পূর্ণ আস্থা’ প্রকাশ

বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির প্রতি আজ ‘পূর্ণ আস্থা’ প্রকাশ করেছেন সফররত বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম।

আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতকালে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডন্ট এ আস্থা প্রকাশ করেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এবিষয়ে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জানান, দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের গৃহিত পদক্ষেপগুলোর সাথে একমত প্রকাশ করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম।

জিম ইয়ং কিম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিযোজন ও প্রশমনের বিষয়ে বিশ্বব্যাংক পুরোপুরিই অঙ্গীকারাবদ্ধ।

প্রেস সচিব জানান, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট নিজ থেকেই জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে তহবিল আরও বৃদ্ধির ব্যাপারে সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, তাঁর (বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট) বিশ্বাস বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
এক্ষেত্রে, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে সহজে ব্যবসা করার সুযোগ সম্পর্কে অন্য দেশগুলোর সাথে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রস্তাব দেন।

দেশের উন্নয়নে তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর মূল লক্ষ্য জনগণের জন্য খাদ্য ও আশ্রয়সহ মৌলিক প্রয়োজনগুলো নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, ‘দেশের দ্রুত উন্নয়নের লক্ষ্যে আমাদের সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকারের বিভিন্ন বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের ব্যাপারে বিএনপি’র মনোভাব উল্লেখ করে বলেন, ওই দলটি (বিএনপি) অতীতে জাতীয় সংসদে বলেছিল, দেশ যদি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় তাহলে বিদেশী সহায়তা পাওয়া সহজ হবে না।

নারীর ক্ষমতায়নের ব্যাপারে তাঁর সরকারের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারীদেরকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনসহ স্থানীয় সরকার কাঠামোর ৩০ শতাংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। স্থানীয় সরকারের সর্বনি¤œ স্তর, ইউনিয়ন পরিষদের বিগত নির্বাচনে প্রায় ৪৫ হাজার নারী প্রতিদ্বন্ধিতা করে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সর্বত্র নারীরা সাফল্য লাভ করছে এবং বর্তমানে তারা শিক্ষা, খেলাধুলা এবং সৃজনশীল কর্মকান্ডে তাদের পুরুষ অংশীদারদের সাথে একই সাথে সমান অবস্থানে রয়েছে।

তিনি এ বিষয়ে আরও উল্লেখ করেন, দেশের নারীরা বর্তমানে প্রশাসন, বিচার বিভাগ, শিক্ষা, ক্রীড়া এবং সশস্ত্র বাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীসহ সকল ক্ষেত্রের উচ্চপদে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। সে সময়ে ঘাতকরা কাউকে জাতির পিতার নামটি পযর্ন্ত উচ্চারন করতে দেয়নি।

শেখ হাসিনা দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সম্পর্কে বলেন, ১৯৯৬ সালে তার সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো বেসরকারি টিভি চ্যানেলের লাইসেন্সের অনুমোদন দেয়। এর ফলে বর্তমানে দেশে ২৪ চ্যানেল চলছে এবং আরো অনেক চ্যানেল চলু হবার অপেক্ষায় রয়েছে। এতে এ সেক্টরে অনেক কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী টেলিকম সেক্টরের উন্নয়ন সম্পর্কে বলেন, তার সরকার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি মন্ত্রীর মালিকানাধীন মাত্র একটি কোম্পানির একচেটিয়া ব্যবসা ভেঙ্গে দিয়ে এ সেক্টরে আরো কোম্পানি করার সুযোগ করে দেয়।

তিনি বলেন, এ খাতে ব্যবসা আরো প্রতিযোগিতা পূর্ণ হয় এবং কলরেট উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমে যায়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড.গওহর রিজভী, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, ইআরডি সিনিয়র সচিব মেজবাউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, বিশ্ব ব্যাংকের নিবার্হী পরিচালক সুভাস চন্দ্র গার্গ এবং বিকল্প নিবার্হী পরিচালক এম মুশাররফ হোসেন ভূইয়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।