Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:০৭ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

সরকারি চাকুরেদের গ্রেফতারে পূর্ব অনুমতির বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক

কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সরকারের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া গ্রেফতার করা যাবে না মর্মে একটি বিধান সংযোজন করে সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৫-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিপরিষদ। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানবিরোধী বিধানটি বাতিলের দাবি টিআইবি।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংবিধান অনুযায়ী একই অপরাধের জন্য কোনো বিশেষ শ্রেণীর জন্য বিশেষ মাপকাঠি প্রয়োগের সুযোগ নেই। প্রস্তাবিত বিধানটি সংবিধান প্রদত্ত সকল নাগরিকের সমান অধিকারের অঙ্গীকারের পরিপন্থী। বিশেষ একটি শ্রেণী ও পেশার মানুষকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করে প্রস্তাবিত সরকারি কর্মচারী আইনে বৈষম্যমূলক যে বিধান রাখা হয়েছে তা সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয়লাভের অধিকারী’- এই ধারণার লঙ্ঘন। যার ফলে সরকারি খাতে দুর্নীতেকে প্রশ্রয় দেয়া ও ক্ষমতার অপব্যবহারকে উৎসাহিত করা হবে।
তিনি আরো বলেন, ঔপনিবেশিক আমলের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৭ ধারা এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৯৭ (১) ধারার উদাহরণ টেনে সরকারি চাকরিজীবীদের আলাদা মর্যাদা প্রদানের ব্যাপারে যে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে তা থেকে এটি সুস্পষ্ট যে সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৫-এর বিতর্কিত বিধানটিই শুধু নয় বরং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৭ এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৯৭ (১) ধারাকেও বাতিল করতে হবে, কারণ তা সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদের মর্মবাণীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সংসদে উত্থাপনের পূর্বে প্রস্তাবিত আইনের পরিপূর্ণ খসড়ার ওপর সংশ্লিষ্ট খাতে বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনের মতামতসহ জনমত যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিৎ বলে মনে করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।