ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:৩২ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

‘সমুদ্র বন্দর পায়রার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু’

বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের মধ্য দিয়ে দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রা বন্দরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আজ শুরু হয়েছে ।

বাড়তি সুবিধা আর নানা প্রণোদনা দিয়ে এ সোনালি স্বপ্নের দ্বার উন্মুক্ত হল। পদ্মা সেতুর জন্য ৫৩ হাজার টন পাথর নিয়ে প্রথম বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি ফরচুন বার্ড রামনাবাদ চ্যানেলের বহির্নোঙ্গরে পৌঁছেছে । সড়ক ও রেলপথ ছাড়াই মাদার ভেসেল থেকে লাইটার জাহাজে নৌপথে পণ্য পরিবহনের মধ্য দিয়ে পায়রা সমুদ্র বন্দরের কর্যক্রম শুরু হলো।

বন্দরটি চালুর মধ্য দিয়ে নিরাপদ বাল্কপণ্য নদীপথে পরিবহনের মাধ্যমে আমদানি-রফতানি সুযোগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পরে এ বন্দরের কার্যক্রম শুরুর খবরে দক্ষিণ উপকূলে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে । এ অঞ্চলের মানুষের কাছে দিনটি ঐতিহাসিক ক্ষণ হিসাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সাথে সংগতি রেখে দেশের সমুদ্রবন্দর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার রাবনাবাদ চ্যানেলের তীরে দেশের এ তৃতীয় সমৃদ্র বন্দর নির্মিত হয়েছে । দেশের বিদ্যমান দুটি বন্দরের পাশাপাশি তৃতীয় এ সমুদ্র বন্দর নির্মান করে বিশেষ একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদী ও চতুর্মুখী পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে ।

দশ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মহাপরিকল্পনা নিয়ে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর পায়রা বন্দর আইন ২০১৩ সংসদে পাস হয় । একই বছর ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্দরের ভিত্তি ফলক উন্মোচন করেন ।

বর্তমানে পায়রা সমুদ্র বন্দর এলাকায় বিরামহীন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড চলছে । ১৬ একর জায়গায় জেটি ও অত্যাধুনিক কনটেইনার ক্যারিয়ার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক স্টেশন, নিরাপত্তা ভবন এবং বন্দর পন্টুনে সরাসরি ট্রাক বা কনটেইনার লরি প্রবেশের জন্য অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে । শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডও নিয়োগ দেয়া হয়েছে । রামনাবাদ চ্যানেলের লালুয়া ও ধুলাসার থেকে প্রায় সাত হাজার একর জমি আধিগ্রহণের কাজও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।

বিমানবন্দর গড়ে তোলাসহ নৌবাহিনীর ঘাঁটি বিএনএস শের-এ-বাংলা এ এলাকায় থাকবে । পর্যায়ক্রমে এটি গভীর সমুদ্রবন্দরের রূপ নিয়ে চার লেনের মহাসড়ক ও ডাবল গেজ রেললাইনে যুক্ত হয়ে পরিপূর্ণভাবে ২০২৩ সালে চালু হবে।

পায়রা সমুদ্র বন্দর নির্মাণের ফলে অজানা, অচেনা এ জনপদ এখন কর্মমুখর। হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক কর্মকান্ডে মানুষ সারা বছর সম্পৃক্ত থাকবে ।

এদিকে পায়রা বন্দর থেকে প্রথমবারে পণ্য খালাস করে পরিবহনের সুযোগ পেয়ে গর্বিত ও খুশী লাইটারেজ জাহাজের এমভি ফরচুন বার্ড এর কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পারে না এমন বড় জাহাজ জোয়ার-ভাটার অপেক্ষা না করে সারা বছরই পায়রা বন্দরে ভিড়তে পারবে । নেপাল ও ভুটান খুব সহজেই এ বন্দর ব্যবহার করতে পারবে। এই এমনকি এ বন্দর বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডর বিসিআইএমের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে সরকার আশা করছে।