Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:৪৮ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রীঃ জীবননাশের আশঙ্কা! – যুবলীগ

শনিবার দুপুর ২টায় কানাইঘাট রামিজা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম.এ মান্নান। সমাবেশকে কেন্দ্র করে উপজেলা যুবলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। সমাবেশ না হওয়ার জন্য সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে গত বৃহস্পতিবার রাতে এক লিখিত পত্র পাঠিয়েছেন কানাইঘাট পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক, যুগ্ম-আহ্বায়কসহ কানাইঘাট উপজেলা যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের বেশ কয়েকজন সদস্য। তারা ওই পত্রে বলেন, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জনসভার জন্য যে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে, সে স্থান জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত এলাকা। ওই স্থানে জনসভা করলে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানের জীবন হুমকির সম্মুখীন হবে।

ওই পত্রে কানাইঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়কও স্বাক্ষর করে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে সুপারিশ করেছেন। তবে এ ধরনের আশঙ্কার ব্যাপারটি উড়িয়ে দিয়েছেন জনসভার অন্যতম আয়োজক ও কানাইঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মাসুক আহমদ।

পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘গত দুই তিন দিন থেকে কানাইঘাটে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর নামে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানের নামে মাইকিং চলছে। কিন্তু এ ব্যাপারে তৃণমূল যুবলীগের কোনো নেতাকর্মী কিছুই জানে না। যারা এই মাইকিং করছে, তারা ব্যতিত উপজেলা যুবলীগের কোনো নেতাকর্মীর এই অনুষ্ঠানের ব্যাপারে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। ইতিপূর্বে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে অধিকাংশ সদস্য পদত্যাগ করেন। ওই কমিটি দীর্ঘ দুই বছরে একটি ইউনিয়ন কমিটিও গঠন করতে পারেনি।’

পত্রে লেখা হয়েছে, ‘ইতিপূর্বে উপজেলা যুবলীগের অন্যতম সদস্য নজরুল ইসলাম জামায়াত-শিবির সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হলে, আজ সে সব যুবলীগ নামধারী নেতাকর্মীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর নামে একজন সজ্জন ব্যক্তি স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ এম এ মান্নানকে বিতর্কিত করতে চায়। অথচ যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পর একটি প্রতিবাদ সভাও করতে পারেনি তারা। যে জায়গায় জনসভার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে, সেই জায়গা থেকে মাত্র পঞ্চাশ গজ দূরে জামায়াত-শিবিরের হাতে যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম নিহত হন। এই জায়গাটি জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত এলাকা। এখানে জনসভা করা হলে মন্ত্রীর জীবন হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়াবে।’

তারা ‘সকল সহযোগী সংগঠন ও আওয়ামী পরিবারের সমন্বয়ে একটি উপযুক্ত স্থানে জনসভা করার পক্ষপাতি’ বলে পত্রে উল্লেখ করেছেন। ‘যারা একজন সুনামধন্য মন্ত্রীকে বিতর্কিত করতে চায়, তাদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে সকলের সমন্বয়ে মন্ত্রীকে কানাইঘাটে আমন্ত্রণ জানানোর’ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সহযোগিতা চাওয়া হয়।

পত্রে স্বাক্ষর করেছেন কানাইঘাট পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক এনামুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইয়াহইয়া, সেলিম আহমদ, সদস্য কাওছার আহমদ, কানাইঘাট উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সদস্য আব্দুল্লাহ আল মুমিন, সদস্য ফরিদ উদ্দিন, কামাল উদ্দিন, আলম আহমদ, দেলওয়ার হোসেন, উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন, সদস্য নুরুল ইসলাম জালালী, এনাম উদ্দিন, পৌর যুবলীগের সদস্য শহিদুর রহমান প্রমুখ।

এ ব্যাপারে জনসভার অন্যতম আয়োজক ও কানাইঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মাসুক আহমদ জানান, ‘আমরা স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ প্রশাসনিকভাবে ওই স্থানে জনসভা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। কিন্তু যুবলীগ নামধারী কতিপয় লোক এ ব্যাপারে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’ জনসভার বিষয়টি সিলেটের জেলা প্রশাসককেও অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

জানা যায়, প্রতিমন্ত্রীর সফরসূচি পাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সমাবেশস্থল ও আশপাশ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মঞ্চের কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।