Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১০:০৭ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

সমাজের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আরো মনোযোগী হওয়ার এবং সরকারের সমাজ কল্যাণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, কোন শিশু খাদ্য ও আশ্রয়হীন থাকবে না।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না কোন শিশু আশ্রয়হীনভাবে রাস্তায় থাকবে, অথবা কোন ব্যক্তি ফুটপাতে বাস করবে। আমরা প্রত্যেকের মৌলিক চাহিদা পূরণে একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দিতে চাই।’
তিনি বলেন, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় অবশ্যই এ ব্যাপারে আরো সচেতন হবে।
প্রধামন্ত্রী আজ রাজধনাীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় সমাজ সেবা দিবস ২০১৫ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, সরকার অতিদরিদ্র, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদ বিধবা ও আশ্রয়হীনদের কল্যাণে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
এসব কার্যক্রম দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক অবদান রাখছে উল্লেখ করে তিনি আরো নতুন ধারণা ও কার্যক্রম খুঁজে বের করার জন্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে জনগণ আরো বেশি উপকৃত হতে পারে।
সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. মোজাম্মেল হোসেন।
মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম ও সমাজ কল্যাণ অধিদফতরের মহাপরিচালক সাইদুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করে নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে অনেক সমাজসেবা কার্যক্রম গ্রহণ করে।
২০০৯ সালে কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণ করা হয় এবং শিশু, শারীরিক প্রতিবন্ধী দুস্থ নারী ও বৃদ্ধদের কল্যাণে অনেক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।
‘এখন আমরা কার্যক্রম গ্রহণ করেছি যা সুবিধাভোগীদের আরো দ্রুত ও ইতিবাচক সেবা নিশ্চিত করবে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে আগামী ৪ বছরের মধ্যে দারিদ্র্য হার কমে ১৪ শতাংশে দাঁড়াবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ কল্যাণ অধিদফতরের কার্যক্রম বাস্তবায়নে এবং সমাজকর্মীদের উদ্বুদ্ধকরণে জাতীয় সমাজ সেবা দিবস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৯৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর আগারগাঁওয়ে সমাজ কল্যাণ ভবনের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার পর থেকে প্রতিবছর ৩ জানুয়ারি জাতীয় সমাজসেবা দিবস হিসেবে উদযাপিত হচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ে তুলতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দরিদ্রদের সুযোগ-সুবিধা দিতে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু সর্বপ্রথম দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি প্রবর্তন করেন। যা সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে ‘পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রম’ নামে আজ সারাদেশে বিস্তৃত।
শেখ হাসিনা বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ অধিদফতরের তদারকিতে বর্তমান সরকার বৃদ্ধ, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত নারী, শারীরিকভাবে অক্ষম দরিদ্র ব্যক্তি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ভাতা প্রদানের মতো অনেক সমাজ কল্যাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, ১৯৯৭-৯৮ সালে বৃদ্ধদের জন্য এবং ১৯৯৮-৯৯ সালে বিধবা ও তালাকপ্রাপ্ত মহিলাদের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের চালু করা কার্যক্রমের আওতায় মোট ২৭ লাখ ২২ হাজার ৫শ’ ব্যক্তি এ পর্যন্ত ভাতা পেয়েছেন। এই ভাতা সুবিধা পরিবারে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা বাবদ ১ হাজার ৩০৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এ বছর তালাকপ্রাপ্ত বিধাবাদের ভাতা বাবদ বরাদ্দ রয়েছে ৪৮৫ দশমিক ৭৬ কোটি টাকা এবং অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধীদের জন্য ২৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকার ২৫ দশমিক ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দের বিধান রেখেছে এবং এর আওতায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থী ভাতা পাবে।
হিজড়া, দলিত, হরিজন এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠির কল্যাণে সরকারের গৃহিত সমাজ কল্যাণ কর্মসূচির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের কল্যাণে দু’টি কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।
চা- বাগান শ্রমিকদের খাদ্য সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যে আরেকটি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজ কল্যাণ কর্মসূচিসমূহ দারিদ্র বিমোচন ও জনগণের সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠির আইনি সুরক্ষার জন্য নতুন আইন ও নীতি প্রণয়ন করে।
ভবঘুরে ও অসহায় মানুষদের পুনর্বাসন আইন- ২০১১, শিশু আইন- ২০১৩ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষা আইন- ২০১৩, যেমন প্রণয়ন করা হয়েছে, তেমনি বার্ধক্যে মা- বাবার সহায়তার লক্ষ্যে ‘মাতাপিতার ভরন-পোষণ আইন’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, দরিদ্র শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ এবং তাদেরকে যাতে খাদ্য, আশ্রয়, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ দেয়া যায় সেজন্য প্রত্যেক উপজেলায় সরকারি শিশু পরিবারের কার্যক্রম বিস্তারে তাঁর সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা এবং তাদের প্রতিবন্ধীতার প্রকৃতি নিরূপণের লক্ষ্যে ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যেক উপজেলায় শিশু নিবাস, দিবাযতœ কেন্দ্র এবং শিশু-কিশোর প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ডাটাবেজের উপর ভিত্তি করে সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পরিচয়পত্র প্রদান এবং তাদের কল্যাণে কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।