Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১২:৪৬ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২০শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

আসাদুজ্জামান খান কামাল
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফাইল ফটো

‘সবক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সাহায্য করতে প্রস্তুত ভারত’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, শুধু সন্ত্রাসবাদী তৎপরতার মোকাবেলা নয়, ভারত সবক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সাহায্য করতে প্রস্তুত রয়েছে। সম্প্রতি দিল্লিতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

দিল্লী সফরকালে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংসহ ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে হোটেল তাজপ্লেসে অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণ এবং আন্তরিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি জানান।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এসব আলোচনায় মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সকল দুর্যোগে ভারত যেমন বাংলাদেশের পাশে ছিল ভবিষ্যতেও সবক্ষেত্রে তেমনি আমাদের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছে।

তিনদিনের সরকারি সফরে রাষ্ট্রমন্ত্রী গত ২৭শে জুলাই এক প্রতিনিধিদল নিয়ে দিল্লীতে আসেন। শনিবার দুপুরে জেট এয়ারওয়েজ-এর একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে দিল্লী ত্যাগ করেন তিনি।

সফর থেকে কতটুকু অর্জন হয়েছে এই প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান বলেন, আমরা এখন মনে করছি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বন্ধুপ্রতীম দেশ ভারত আমাদের পাশে রয়েছে। ভারত শুধু সঙ্গে থাকবে না, প্রয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে বলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, বাংলাদেশে কোনও আইএস নেই। জঙ্গিরা সকলেই বাংলাদেশে জন্ম নেয়া সন্ত্রাসী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেভাবে উন্নয়ন এবং অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে তাকে প্রতিহত করতে এসব কিছু  স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক চক্রান্তের বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, কখনও জেএমবি, কখনও হুজি অথবা বিভিন্ন নামে পরিচালিত জঙ্গি সংগঠনগুলো আসলে শিবির নেতাদের দ্বারাই পরিচালিত। এসব জঙ্গি সন্ত্রাসীদের দমনে আমরা যখন কঠোর ব্যবস্থা নিলাম তখন তারা যুদ্ধপরাধীদের বিচার বানচালে বিভিন্ন সন্ত্রাসী তৎপরতা শুরু করে।

তিনি জানান, আগে জঙ্গিরা মাদ্রাসার কোমলমতি অবুঝ ছেলেদের সন্ত্রাসী তৎপরতার জন্যে ব্যবহার করতো। এখন তারা সমাজের শিক্ষিত এবং অবস্থাপন্ন পরিবারের মেধাবী ছেলেদের সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানোর জন্যে ব্যবহার করছে। সন্ত্রাসীদের উদ্দেশ্যই হচ্ছে বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর দেশে পরিণত করা।

মন্ত্রী বলেন, জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের ধরিয়ে দেয়ার জন্যে গ্রামে গ্রামে সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি গঠন করা হচ্ছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের দমন করাকে দেশের জনগণ একটি চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সফলভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে তখন জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা নিজেরাই আইএস-এর সাথে সম্পৃক্ত হবার ঘোষণা দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে আইএসয়ের কোনো সংগঠন নাই। স্থানীয় জঙ্গিরা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আইএস-এর সাথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তারা মানুষকে আইএস-এর নামে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে মাত্র।-বাসস।