ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১:০১ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ডিএসই
মূল্যসূচকসমূহ বেড়েছে

সপ্তাহে ৪৭ শতাংশ লেনদেন কমেছে, সূচকের অবনতি

মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন ৪৭ শতাংশ কমে গেছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয় ৯৫৫ কোটি ২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা, যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা ৪৭ দশমিক ০১ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে পুঁজিবাজারটিতে মোট ১ হাজার ৮০২ কোটি ২৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয়। নতুন সফটওয়্যার চালু ও কার্যদিবস একটি কম হওয়ার কারণেই বাজারটির সাপ্তাহিক লেনদেন কমেছে বলে মনে করেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
বিজয় দিবসের সরকারি ছুটির কারণে গত সপ্তাহে একদিন বন্ধ থাকে ডিএসইর লেনদেন। তাই সপ্তাহিক মোট কার্যদিবস ছিল চারটি। তা ছাড়া গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস ছাড়া বাকি দিনগুলোতে ডিএসইর গড় লেনদেন ছিল ৪০০ কোটি টাকারও বেশি। কিন্তু ১১ ডিসেম্বর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর নতুন সফটওয়্যার চালু হলে ওই দিন লেনদেনের বড় ধরনের অবনতি ঘটে। ডিএসইর লেনদেন নেমে আসে ১৩৬ কোটি টাকায়। ফলে ওই সপ্তাহে ডিএসইর গড় লেনদেন নেমে আসে ৪০০ কোটির নিচে। তবে গত সপ্তাহে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটলেও সপ্তাহের প্রায় পুরোটাই ডিএসইর লেনদেনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেনি। লেনদেন আটকে থাকে ৩০০ কোটির নিচে। একই সময়ে মোট লেনদেনের পাশাপাশি কমেছে পুঁজিবাজারটির গড় লেনদেনও। আগের সপ্তাহের ৩৬০ কোটি টাকা থেকে গত সপ্তাহে ডিএসইর গড় লেনদেন নেমে আসে ২৩৮ কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা ৩৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ কম।
লেনদেনের অবনতির পাশাপাশি গত সপ্তাহের চার কার্যদিবসের তিনটিতেই সূচকের অবনতি ঘটতে দেখা যায়। ফলে সপ্তাহান্তে ডিএসইর সব ক’টি সূচকই নেতিবাচক ছিল। ৪ হাজার ৯৩৩ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা ডিএসইএক্স সূচকটি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে স্থির হয় ৪ হাজার ৮৫৬ দশমিক ৪২ পয়েন্টে। এভাবে ৭৬ দশমিক ৬১ পয়েন্ট হারায় সূচকটি। একই সময়ে ডিএসইর অন্য দুই সূচক ডিএসই-৩০ ও শরিয়াহ সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৩০ দশমিক ৭৮ ও ১০ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট। এ নিয়ে গত দুই সপ্তাহ পুঁজিবাজার সূচকের টানা অবনতি ঘটে।
সূচকের এ অবনতি কমিয়ে দেয় পুঁজিবাজারটির বাজার মূলধনও। ৩ লাখ ২৫ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা থেকে লেনদেন শুরু করা বাজারটির মূলধন বৃহস্পতিবার দিনশেষে দাঁড়ায় ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে দশমিক ৬৫ শতাংশ কম। কমেছে বাজারের গড় মূল্য-আয় অনুপাতও (পিই)। আগের সপ্তাহের ১৭ দশমিক ৮৮-এর স্থলে গত সপ্তাহে ডিএসইর গড় পিই নেমে আসে ১৭ দশমিক ৫৮-এ, যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ কম।
এ দিকে লেনদেনের অবনতির ফলে কমে গেছে ডিএসইতে লেনদেনকৃত শেয়ারসংখ্যাও। আগের সপ্তাহের ৪৭ কোটি ৭৬ লাখ ৪২ হাজারটির স্থলে গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট হাতবদল হওয়া শেয়ারসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ কোটি ২৭ লাখ ৬২ হাজারে, যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা ৪৭ দশমিক ০৮ শতাংশ কম। কমেছে হাওলা সংখ্যাও। গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট হাওলা হয় ৩ লাখ ১৮ হাজার ৭১২টি, যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা ৩০ দশমিক ৭৬ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে ডিএসইর মোট হাওলা ছিল ৪ লাখ ৬০ হাজার ৩২৯টি।
নতুন সফটওয়্যার চালুর পর মার্কেট লট উঠে যাওয়ায় গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারের আলোচিত বিষয় ছিল হাওলা চার্জ। কারণ প্রতিটি হাওলার বিপরীতে ব্রোকার হাউজগুলোর ডিএসইকে ৩ টাকা হাওলা চার্জ দিতে হয়। মার্কেট লট উঠে যওয়ায় এখন যে কেউ চাইলে যেকোনো কোম্পানির একটি শেয়ারও কিনতে পারেন। সে ক্ষেত্রে একটি শেয়ারের হাওলার জন্যও ব্রোকার হাউজকে ৩ টাকা গুনতে হতো। বিষয়টি নিয়ে নতুন সফটওয়্যার চালুর চার দিনের মাথায় ডিএসই বোর্ড হাওলা চার্জ উঠিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ব্রোকার হাউজ থেকে ডিএসইর প্রাপ্য লাগা চার্জ সামান্য বাড়ানো হয়।
চলমান মন্দাকে বিনিয়োগের উত্তম সময় হিসেবে দেখছেন বাজার বোদ্ধারা। তাদের মতে, টানা দরপতনে এখন বাজারের পিই অনেক নেমে এসেছে। এ মুহূর্তে বিনিয়োগে ঝুঁকির মাত্রা অনেক কমে যাবে। গত দুই মাসের টানা দরপতন ডিএসইর হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানি ছাড়া অন্যদের মূল্যস্তর ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। তা ছাড়া বরাবরই একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় সংশোধনের পর বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। সুতরাং বিনিয়োগকারীরা চাইলে চলমান এ মন্দা বাজারের সুযোগ নিতে পারেন যা পরে লোকসান সমন্বয়ে সহায়ক হতে পারে। কারণ নতুন বছরের শুরুতেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাজারে নতুন করে বিনিয়োগ শুরু করবে। তখন আবার নতুন করে গতি ফিরে পাবে পুঁজিবাজার। এখন যারা কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগ করবেন তারা এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন।
গত সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান অগ্নি সিস্টেমস। ৩৯ কোটি ৩৯ লাখ ৪৮ হাজার টাকায় গত সপ্তাহে কোম্পানিটির ১ কোটি ২০ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়। ৩০ কোটি টাকা লেনদেন করে সপ্তাহের দ্বিতীয় শীর্ষ কোম্পানি ছিল ফু-ওয়াং ফুড। ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় গত সপ্তাহে আরো ছিল ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, স্কয়ার ফার্মা, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, কাসেম ড্রাইসেল, বেক্সিমকো ফার্মা, গ্রামীণফোন ও কেয়া কসমেটিকস।