Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:৫৭ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২০শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

আর কোন মায়ের কোল খালি না করতে খালেদাকে-প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন। আপনাদের সহযোগিতা আমাদেরকে অনুপ্রানিত করবে।

 

সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে আর কোন মায়ের কোল খালি না করতে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী আজ সংসদে তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য তাজুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পুত্রের মৃত্যুতে শোকাহত হয়েছেন, যার কারণে তাকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখতে হয়েছে। পুত্র শোকে একজন মা কাতর হবেন এটাই স্বাভাবিক। ওনার ছেলের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে তারপরও তিনি এর শোক সহ্য করতে পারছেন না। আর যাদের সন্তান, স্বামী, স্ত্রী, বাবা বা ভাই পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়ে হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। আবার অনেকের স্বজন যন্ত্রণায় ছটফট করে চোখের সামনে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন, তারা কিভাবে এ শোক সহ্য করছেন, প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ২০ দলীয় জোটের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ বিষয়টি উপলব্ধি করে আর কোন মায়ের সন্তানকে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে পুড়িয়ে না মারার আহ্বান জানান।
গত বছরের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বিএনপি নেত্রীর সাথে আলোচনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার ছেলে মারা যাওয়ার পর গুলশান কার্যালয়ে তাকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। কার্যালয়ের গেটে ভেতর থেকে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি আমি যখন গাড়ি থেকে নেমে পকেট গেট দিয়ে ভিতরে যেতে চাই, জানতে পারলাম ওই গেটটিও বন্ধ। তখন নিরুপায় হয়ে সেখান থেকে চলে আসতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০ দল মানুষকে পুড়িয়ে মারা, গাড়ি ভাঙচুর করাসহ জঘণ্য ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। দোষ করে খালেদা আর দুঃখজনক হল কিছু মানুষ আমাদেরকেও দোষ দেয়। আমাদের দোষটা কি? ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করছিল। দেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ কথা নেই, বার্তা নেই অবরোধ আর হরতালের নামে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো শুরু হল।
তাদের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য এখন তারা সরকারের নেই, বিরোধীদলেও নেই উল্লেখ করে সংসদ সদস্যসহ অন্যান্যদের সতর্ক করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপিকে এখন আর বিরোধীদল বলার কোন সুযোগ নেই। সংসদীয় গণতন্ত্রের বিধান হচ্ছে যারা সংসদে বিরোধীদলের আসনে বসেন তারাই বিরোধীদল। সেই হিসেবে জাতীয় পার্টি এখন বিরোধীদল। আর বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল- যে দল একটি সন্ত্রাসী দল, জঙ্গির দল, খুনীর দল। যারা মানুষ খুন করে।
তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের জনগণকে সাথে নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সন্ত্রাসী ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর আহ্বান জানান।
সরকারি দলের ইসরাফিল আলমের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে ইউনিয়ন থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি প্রশাসনিক স্তরে ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টারে ইন্টারনেট সার্ভিস দেয়া হয়। যেখানে বিদ্যুৎ নেই সেখানে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ডিজিটাল সেন্টারগুলো চালু রাখা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ইন্টারনেট স্পীড বাড়ানোর জন্য আরো একটি সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনসহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নামে একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে ইন্টারনেট স্পীড আরো অনেক বেড়ে যাবে। পর্যায়ক্রমে আমরা ৩-জি থেকে ৪-জি-তে চলে যাবো। ইন্টারনেট স্পীড এমনভাবে বাড়ানো হবে যাতে সকলে অবাধে ব্যবহার করতে পারে।
সরকারি দলের মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উচ্চ শিক্ষার প্রসারে দেশের প্রতিটি জেলায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে একটি করে সাধারণ-বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।