ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:৪১ ঢাকা, রবিবার  ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

‘সন্ত্রাসবাদ দমনে শেখ হাসিনার প্রশংসায় কংগ্রেসম্যান’

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যান চালর্স ডব্লিউ বুস্তানী জুনিয়র বাংলাদেশের মাটি থেকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনন্য সাহসের প্রশংসা করেছেন।

আজ এখানে প্রাপ্ত এক বার্তায় জানা যায়, শুক্রবার কংগ্রসম্যানের সঙ্গে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাতকালে বুস্তানী প্রধানমন্ত্রীর সন্ত্রাস বিরোধী কর্মকান্ডের প্রশংসা করেন।

বৈঠকে জিয়াউদ্দিন জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়সহ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতা এবং জঙ্গি চরমপন্থী নির্মূলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে কংগ্রেসম্যানকে ব্রিফ করেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সব ধরনের চরমপন্থী ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাস করেন।

১৯৭৫ সালে তার পিতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের হত্যাকান্ড এবং এ পর্যন্ত তাঁর জীবন নাশের জন্য ১৯ বার আঘাতের নির্মম স্মৃতি তাঁর মাঝে হিংস্র চরমপন্থীর বিরুদ্ধে সহজাত ঘৃণার জন্ম দিয়েছে।

জিয়াউদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে ৫ জন নিহতসহ ১১ পুলিশ গুলিবিদ্ধের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। এ সময় বুস্তানী গুলশানের রেস্তোরাঁয় হত্যাকান্ডের ঘটনায় শোক ও সমবেদনা জানান।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বাংলাদেশের অন্যান্য উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়েও আলোচনা হয়।

মার্কিন কংগ্রেসের এই সিনিয়র সদস্যকে রাষ্ট্রদূত জানান যে, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় পোশাক রফতানিকারক দেশ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার পায় না। অথচ ‘এজিওএ’ নামে আফ্রিকার স্বল্পোন্নত ৩৪টি দেশই এই সুবিধা পায়। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মতো যুক্তরাষ্ট্রকেও তিনি স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা দেয়ার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের অনেক উন্নয়ন অগ্রাধিকারের উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সরকার মাদ্রাসা শিক্ষা আধুনিকায়নে পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা সমাজের মূল স্রোতের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে এবং এভাবে ধর্মীয় চরমপন্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব।

রাষ্ট্রদূত বলেন, পোশাক শিল্পের ৯০ শতাংশ কর্মী হচ্ছে নারী। নারীরা সমাজকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিচ্ছে। এটি দেশকে চরমপন্থা থেকেউত্তরণেরও একটি পন্থা।

বাণিজ্য ও অন্যান্য বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের ব্রিফিংয়ের প্রশংসা করে কংগ্রেসম্যান বলেন, তিনি বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা সক্ষমতা গড়ে তুলতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে পছন্দ করেন।

দূতাবাসের কাউন্সিলর (রাজনৈতিক) তৌফিক হাসান এবং কংগ্রেসম্যান বুস্তানীর আইন বিষয়ক পরিচালক কাইতলিন সাঈনোলফি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।