Press "Enter" to skip to content

‘সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে ‘উৎসে কর’ পরিবর্তন’

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে ‘উৎসে কর’ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারী এবং অবসর গ্রহণকারীদের সুবিধায় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পারিবারিক সঞ্চয়পত্রসহ সকল প্রকাল সঞ্চয়পত্রে ৫ শতাংশ উৎসে কর কাটা হবে। তবে ৫ লাখ টাকার উপরে বিনিয়োগে ‘উৎসে কর’ ১০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পারিবারিকসহ সকল প্রকার সঞ্চয়পত্রে ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর আদায় করব । এ বিষয়ে শিগগির একটি এসআরও জারি করা হবে। ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হবে।

তিনি বাংলাদেশ সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। এ সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুইয়াঁ উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বল্প আয়ের লোকদের সহায়তায় সঞ্চয়পত্র প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। অথচ আমরা দেখতে পাচ্ছি, নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে অনেকে বিভিন্ন ব্যাংকে হিসাব খুলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছে। সমাজের স্বল্প আয়ের লোকদের পরিবর্তে বিত্তবানরাও এই সুবিধা লুফে নিচ্ছে। তিনি পেনশনভোগীদের জন্য সঞ্চয়পত্র স্কীমের বর্তমান সুবিধা অপরিবর্তিত থাকবে উল্লেখ করে বলেন, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ ৫ লাখ টাকার বেশি হলে তাদেরকে ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর দিতে হবে। তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতির একটি শক্তিশালী খাত, কাজেই আমরা সঞ্চয়পত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চাই।

বিকল্প উৎস হিসেবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের বিনিয়োগের জন্য ভারতের মতো বাংলাদেশেও একটি বন্ড মাকের্ট চালু করার পরিকল্পনা করছে। বন্ড মার্কেটে বিনিয়োগ বেশ ভাল। আমরা যদি বন্ড মার্কেট চালু করতে পারি, তাহলে বিনিয়োগকারীরা একটি নির্দিষ্ট অংকের মুনাফা পাবে। এতে দেশের অর্থনীতি আরো সুদৃঢ় হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বন্ড মাকের্টে বিনিয়োগে কোন অস্পষ্টতা নেই। বিনিয়োগকারীরা নির্ধারিত হারে মুনাফা পাবেন। তিনি বলেন, বন্ড মার্কেটে হয়রানির কোন সুযোগ থাকবে না। ৬ মাস থেকে এক বছর অন্তর বিনিয়োগকারীরা মুনাফা পাবেন। সরকার সঞ্চয়পত্রের যথাযথ মনিটরিংয়ে একটি ডাটাবেজ করবে।

সরকার চলতি অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্রে মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ উৎসে কর আরোপ করে।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, সরকার রেমিটেন্সের ওপর ২ শতাংশ প্রণোদনা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ বছরের ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হবে। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেট ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে, অথচ সিস্টেম এখনো ডেভোলপ হয়নি। এটি হতে আরো দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে।

তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ১ জুলাই থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেয়া হবে। তিনি ঈদের আগে লিগেল চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠিয়ে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনার সুযোগ নেয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এটি স্বাভাবিকভাবেই কার্যকর হয়ে যাবে। প্রবাসীদের বঞ্চিত হবার কোন সুযোগ নেই। অর্থমন্ত্রী এক প্রশ্নের জবাবে বালে, এ বিষয়ে দু’থেকে তিন মাসের মধ্যে একটি সার্কুলার জরি করা হবে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ওপর কোন কর আরোপ হবে না।

শেয়ার অপশন: