Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:৩৩ ঢাকা, রবিবার  ১৮ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

সকলকে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সঙ্গে বসবাসের আহবান প্রধানমন্ত্রীর

দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দেশের আরো উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সকলকে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সঙ্গে বসবাস করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় থাকা একটি বিরাট বিষয়। এছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশ এ পর্যন্ত যতটুকুই এগুতে পেরেছে, তা কেবল সম্ভব হয়েছে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বলবৎ থাকায়।

pm217

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে তাঁর রাষ্ট্রীয় বাসভবন গণভবনে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক বছর দেশে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় থাকায় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশের বেশী এবং পাশাপাশি মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৬৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, একইসঙ্গে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগোষ্ঠীও এখন ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষের উৎসবের জন্য শুধু উপলক্ষ্য লাগে। তারা বছর জুড়েই ঈদ, পূজা এবং পহেলা বৈশাখ উদযাপন করে।’

তিনি আরও বলেন, পহেলা বৈশাখ উদযাপনে কোন ধর্মীয় বাধা নিষেধ নেই।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বুঝি না কেন কেউ কেউ পহেলা বৈশাখ উদযাপনে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করে এবং তারা আদৌও কোন ধর্মের অনুসারি কি না আমার সন্দেহ রয়েছে।’

আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের মধ্যে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এবং সতীশ চন্দ্র রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রিয় নেতা মুহম্মদ ফারুক খান, আব্দুস সোবহান গোলাপ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বাংলা নববর্ষ ১৪২৩ এর শুভেচ্ছা জানান।

সমাজের চিহ্নিত অপশক্তি যারা চিরাচরিত উৎসবকে ধর্মের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করে তাদের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা ধর্মের নামে এসব উৎসব উদযাপন বন্ধ করার হুমকি দেয় তারা প্রকৃতপক্ষে ধর্মকেই অবমাননা করে।

তিনি বলেন, ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি করে এদের কেউ কেউ বোমা মেরে মানুষ পর্যন্ত হত্যা করেছে এবং হত্যার হুমকি দিচ্ছে। তারা আসলের আমাদের শান্তির ধর্ম ইসলামকে ক্ষতিগ্রস্থ করে অন্যদের এ সম্পর্কে কথা বলার সুযোগ করে দিচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এটা দুভার্গ্যজনক কতিপয় ব্যক্তি বা দল অন্য ধর্মের সমালোচনা করে যদিও ইসলামে এ সম্পর্কে স্পষ্ট বলা হয়েছে-যার যার ধর্ম-কর্ম সে সে পালন করবে এবং অন্যের ধর্মমতে কোনভাবেই আঘাত করা যাবে না।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রিয় নবী ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সা:) নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ইসলাম কোনভাইে ধর্মের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, হুমকি-ধমকি এবং বোমা মেরে মানুষ হত্যাকে সমর্থন করে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এসব করে তারা প্রকৃতপক্ষেই আমাদের ধর্মের ক্ষতি সাধন করে, বদনাম সৃষ্টি করে। যে কারণে অন্যরাও আমাদের ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পায়। তারা আদৌও এই ধর্মকে বিশ্বাস করে কি না তিনি সে প্রশ্নও তোলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনন্তকাল ধরেই এ দেশের মানুষ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান ও রীতিনীতি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালন করে আসছে। তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে বাঙালি জাতি বৈশাখের প্রথম দিনটি বাংলা নববর্ষ হিসেবে উদযাপন করে আসছে। যদিও অনেকেই একে ভিন্ন আঙ্গিকে ব্যাখা করার চেষ্টা করে থাকেন।

তিনি বলেন, আমরা মুসলিম এবং বাঙালি এবং আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেই বিজয় অর্জন করেছি। তার মানে এই নয় যে, আমরা বাঙালি হলেই আর মুসলিম থাকতে পারব না।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরব দেশগুলোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, আরব (সৌদি আরব), কাতার, কুয়েত এবং ফিলিস্তিনিরা আরব জাতি বলে পরিচিত, তাদের ভৌগলিক অবস্থানের কারণে। কিন্তু তারাওতো মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত।

পহেলা বৈশাখের নিরাপত্তাজনিত কড়াকড়ি নিয়ে সমালোচনাকারিদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশেও বোমা হামলার ঘটনা ঘটছে। ফ্রান্স, বেলজিয়াম এবং যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলার ঘটনা সারা বিশ্বকে মর্মাহত করেছে, ভীতির সঞ্চার করেছে।

তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আমি আশা করব, সরকার যে নিরাপত্তা গ্রহণ করছে তার নিদের্শনা ও পরামর্শ সকলেই মেনে চলবেন। তিনি বলেন, যদি কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেই যায় তাহলে এর দায়-দায়িত্ব কে নেবে।

প্রধানমন্ত্রী এদিন তথাকথিত লেখনির মাধ্যমে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করারও তীব্র সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, আজকের দিনে মুক্ত চিন্তার নামে ধর্মের বিরুদ্ধে কিছু একটা লিখে দেয়াই যেন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু তিনি এসব লেখনিকে মুক্ত চিন্তার না বলে নিম্ন মানের লেখনি হিসেবে আখ্যায়িত করে এগুলো গ্রহণযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করেন। সরকারও কোনভাবেই এ সবের দায়-দায়িত্ব নেবে না বলেও তিনি জানান।

বক্তৃতার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশি এবং প্রবাসি সকল বাংলাদেশীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। তিনি এ উপলক্ষ্যে সবার জীবনে সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য ও শান্তি কামনা করেন।

তিনি বলেন, সরকার এবারই প্রথম সরকারি চাকুরেদের জন্য বৈশাখি ভাতা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করায় এ বারের বর্ষবরণে এটি একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন কর্মসূচি আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

তিনি এসময় আগামী ২০২১ সালের মধ্য্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

পরে দলের নেতাকর্মীদের দেশীয় ফলমূল, পিঠা, মুড়ি, নারু, কদমা, জিলেপী এবং বিভিন্ন মিষ্টান্ন দিয়ে আপ্যায়ণ করা হয়।