ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১০:৫১ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

সংসদ ‘বিচারক অপসারণ’ ক্ষমতা পাবে না, ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা

উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে নিয়ে করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

যারফলে সংসদ ‘বিচারক অপসারণ’ ক্ষমতা পাবে না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ এই রায় দেন।

বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল।

এর আগে সংশোধনীটির বৈধতার প্রশ্ন তুলে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ১০ মার্চ রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন।

এই সংশোধনীর আলোকে বিচারপতি অপসারণের জন্য একটি খসড়া আইন প্রস্তুত করেছে সরকার। সম্প্রতি খসড়া আইনটিতে মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে প্রণীত মূল সংবিধানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ছিল। ১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে অর্পণ করা হয়। পরে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা দেওয়া হয় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে। ওই ক্ষমতা পুনরায় সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস করা হয়। ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশ পায়। এ অবস্থায় সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ৯ আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এ আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট ওই সংশোধনী কেন অবৈধ, বাতিল ও সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। এই রুল শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। রুলের ওপর শুনানি শুরু হয় গত বছর ২১ মে। মোট ১৭ কার্যদিবস শুনানি হয়।

রিটকারীরা হলেন- অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী, ইমরুল কাউসার, মামুন আলিম, এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া, সারওয়ার আহাদ চৌধুরী, মাহবুবুল ইসলাম, নুরুল ইনাম বাবুল, শাহীন আরা লাইলী ও রিপন বাড়ৈই।