ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১:০৬ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

সংসদে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ (সংশোধন) বিলের রিপোর্ট উপস্থাপন

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ (সংশোধন) বিল-২০১৫ এর ওপর অর্থমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়েছে।
কমিটির সভাপতির পক্ষে সদস্য আবদুল ওয়াদুদ রিপোর্টটি উপস্থাপন করেন। রিপোর্টে বিলটি সংশোধিত আকারে পাসের সুপারিশ করা হয়।
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ কার্যকারিতা বৃদ্ধি, বিশেষত: তদন্ত সংক্রান্ত বিধানসমূহ আরো কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণে বিভিন্ন সংশোধনীর প্রস্তাব করে গত ১৬ নভেম্বর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিলটি উত্থাপন করেন।
বিলে বিদ্যমান আইনের ধারা-৩ এর সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া ধারা-৪ এর উপ-ধারা-২ এ তবে শর্ত থাকে যে, আদালত কর্তৃক ধার্যকৃত সময়সীমার মধ্যে অর্থদন্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে আদালত অপরিশোধিত অর্থদন্ডের পরিমাণ বিবেচনা অতিরিক্ত কারাদন্ডে দন্ডিত করার আদেশ প্রদান করতে পারবে এ বিধান বিলে সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিলে বিদ্যমান আইনের একই ধারার উপ-ধারা-৪ এর পরিবর্তে নতুন উপ-ধারা-৪ প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন উপ-ধারায় বলা হয়েছে, কোন সত্তা এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংগঠন করলে বা অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা, সহায়তা বা ষড়যন্ত্র করলে ধারা ২৭ এর বিধান সাপেক্ষে, উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে এবং অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মূল্যের অন্যূন দ্বিগুন অথবা ২০ লাখ টাকা, যা অধিক হয়, অর্থদন্ড প্রদান করা যাবে এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিলযোগ্য হবে।
বিলে বিদ্যমান আইনের ধারা-৯ এর পরিবর্তে নতুন ৯ ধারা প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ ধারা ২(ঠ)তে উল্লিখিত তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তা বা এতদুদ্দেশ্যে সরকারের সাথে পরামর্শক্রমে গঠিত একাধিক তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ের যৌথ তদন্তকারী দল কর্তৃক তদন্ত করা যাবে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সত্তার সম্পত্তি অনুসন্ধান ও সনাক্তকরণের লক্ষ্যে তদন্ত কর্মকর্তা কর্তৃক এই আইনের বিধান অনুসরণ করতে হবে এবং ক্ষেত্রমতে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ (২০০৪ সালের ৫নং আইন) এর বিধান অনুসরণ করতে পারবে।
তদন্তকারী সংস্থা এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ অনুসন্ধান বা তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে অবহিত করবে।
বিলে বিদ্যমান আইনের ধারা-১২ এর উপান্তটিকা এবং উপ-ধারা-১ এ উল্লিখিত দুর্নীতি দমন কমিশনের শব্দগুলোর পূর্বে সরকার অথবা শব্দগুলো সন্নিবেশি করার প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া উপ-ধারা-২ এ উল্লিখিত কমিশন শব্দটির পরিবর্তে সরকার অথবা দুর্নীতি দমন কমিশন শব্দগুলো প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব করা হয়।
বিলে বিদ্যমান আইনের ধারা-১৪ এর উপ-ধারা-১ এর পরিবর্তে নতুন উপ-ধারা-১ প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন উপ-ধারায় বলা হয়, তদন্তকারী সংস্থার লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে আদালত বাংলাদেশে বা বাংলাদেশের বাইরে অবস্থিত মানি লন্ডারিং অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত সম্পত্তি বা অপরাধলব্ধ আয় বা সম্পত্তি অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোক আদেশ প্রদান করতে পারবে। উপ-ধারা-২ এ দুর্নীতি দমন কমিশন বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি বা সংস্থা শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘তদন্তকারী কোন সংস্থা কর্তৃক’ শব্দগুলো সন্নিবেশ করার প্রস্তাব করা হয়।
বিলে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট গঠনের প্রস্তাব করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদমর্যাদার ১ জন কর্মকর্তা এর সার্বক্ষণিক প্রধান থাকবেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে গঠিত বাছাই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী নির্ধারিত শর্তে সরকার থেকে চুক্তি ভিত্তিক বা অন্যভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন।
এছাড়া বিলে বিদ্যমান আইনের ধারা-২৫ সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়।