আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচত সংসদ সদস্যদের উচিত সংসদে এসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করবো, এক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিতরা শপথ গ্রহণ করবেন, সংসদে ভূমিকা রাখবেন। আমি মনে করি, তারা সংসদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন, ধ্বংসাত্মক এবং নৈরাজ্যমূলক কাজ তারা করবেন না।’

মোহাম্মদ নাসিম আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনে শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্ট শপথ না নিয়ে নির্বাচন কমিশন বরাবর স্মারকলিপি দিচ্ছে, বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে যে কোনও জোট বা দল প্রতিবাদ করতেই পারে। এটাকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখি। তবে আমরা আশা করবো নির্বাচিতরা শপথ গ্রহণ করবেন, সংসদে তারা ভূমিকা রাখবেন।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, রাজাকার এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে চিরতরে নির্মূল করার জন্য জনগণের কাছ থেকে যে ম্যান্ডেট পেয়েছি, এটা আমরা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাবো।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ চলতে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বাংলাদেশ সরকার হবে। বিরোধী যারা থাকবে তারাও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হবে।

সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল প্রতিষ্ঠা হবে কিনা, জানতে চাইলে নাসিম বলেন, আমাদের সবারই আশা যারা বিরোধী আসনে বসবেন, সংখ্যায় যতই কম হোক না কেন, তারা ভূমিকা রাখতে পারবে। সরকারকে সহযোগিতা করতে পারবেন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য, গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তারা তাদের ভূমিকা রাখবে। আসন দিয়ে বিচার করলে হবে না। সংসদে তাদের ভূমিকা রাখাটাই বড় বিষয়। তারা সংসদে আসুক, ভূমিকা রাখুক, আলোচনা করুক, আমরা তাদের সহযোগিতা করবো।

এর আগে মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া, তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, জাদসের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দিলীপ রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ বনানী কবরো স্থানে ১৫ আগস্টের ঘটনায় নিহত বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।