ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১০:৪৩ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, ছবিঃ সংগৃহীত

সংসদে অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা, তোপের মুখে তিনি

দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের ‘বিশৃঙ্খলা’ নিয়ে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের তোপের মুখে পড়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

আজ রোববার ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক মালিকদের বাড়তি সুবিধা দেয়ায় তারা অর্থমন্ত্রীর সমালোচনায় খই ফোটার মতো মুখর হয়ে ওঠেন। অর্থমন্ত্রী মুহিত এসময় অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আশরাফ সম্পূরক বাজেটের আলোচনায় বলেন, ব্যাংকিং খাতকে সুষ্ঠু শৃঙ্খলার মধ্যে আনা প্রয়োজন। না হলে আর্থিক খাত ভেঙ্গে পড়বে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, খেলাপিদের একটু ধরেন। অর্থ পাচারকারীদের ধরেন। ব্যাংকের লুটপাট থেকে বেরিয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে না পারলে বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবে না। লুটপাটকারীদের ধরেন, মানুষের কনফিডেন্স ফিরে আসবে। সুশাসন নিশ্চিত হবে। দৃঢ় হাতে এগুলো করতে হবে। আপনাদের তো সদিচ্ছার অভাব নেই। মানুষের কল্যাণ করতে হবে। বিশাল বিশাল অবকাঠামো করবেন, কিন্তু খেতে তো দিতে হবে। বাইরের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে।

সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। আল্লাহর দরবারে বিচার হবে। কাদের টাকা নিয়ে যাচ্ছেন। তুঘলকি আমল নাকি? মাহমুদ গজনীর সোমনাথ মন্দির লুটের পর আর এত বড় লুট হয়নি, যা হয়েছে আমাদের ব্যাংকে। অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ডাকাতদের কেন সুযোগ দিলেন? তাদের কেন প্রটেকশন দিলেন? সারচার্জ নেন। মাঝে মাঝে মেসেজ আসে ১০-২৫ টাকা নিয়ে নেয়। ইনভ্যালিড সারচার্জ। এখন প্রতি মুহূর্তে টাকা কাটে। এই টাকা লুট হয়। ব্যাংকওয়ালারা কী ভোট দেবে? সাধারণ মানুষের দিকে তাকালেন না! নির্বাচনের আগে বড়লোকরা দেশত্যাগ করবে, লিখে রাখেন। গরিবরা, মজুররা ভোট দেবে। বড়লোকদের পাবেন না। পাসপোর্ট দেখেন না কেন? সব তো হাতে।

‘মানুষ এখন ব্যাংকে আমানত রাখতে ভয় পায়’ মন্তব্য করে স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ব্যাংকে টাকা রাখে মানুষ নিরাপত্তার জন্য। মানুষ ভীত হয়ে গেছে। টাকা পাচার হয়ে যায়। ঋণের নামে টাকা পাচার করে। লক্ষ লক্ষ হাজার কোটি টাকা বিদেশে গেছে। ঋণ খেলাপি কারা অনেকেই জানেন। ব্যাংক, বীমাসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট করহার কমানোর সমালোচনা করে ফরাজী বলেন, ব্যাংক মালিকদের আমরা আবার সুযোগ করে দিয়েছি। সর্বনাশ করে ফেলবে, ব্যাংক বলতে আর কিছু রাখবে না। এক পরিবার থেকে চারজন পরিচালক রেখেছেন। আবার তাদের ট্যাক্স কমিয়ে দেয়া হলো। যে টাকা খেলাপি, সেই টাকা আদায়ের জন্য কী করা যেতে পারে? ভবিষ্যৎ সরকার না, কমিশন আপনিই (অর্থমন্ত্রী) করেন। ভারতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সরকারকে টাকা দেয়। আর আমরা ব্যাংককে ক্যাপিটাল দেই। তারা পারছে, আমরা কেন পারবো না?

জাপার সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, ২-৩ বছর ধরে আমরা বারবার ব্যাংক লুট নিয়ে কথা বলে যাচ্ছি। লুটকারীরা টাকা নিয়ে যাচ্ছে। অর্থমন্ত্রী মানুষের করের টাকা দিয়ে মূলধন সরবরাহ করে যাচ্ছেন। সেখান থেকে আবার কিছু মানুষ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।