ব্রেকিং নিউজ

রাত ৪:৩৪ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

সংযত মুদ্রানীতি ঘোষণা করলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন।

 

বেসরকারি ও উৎপাদনশীল খাতে ঋণ প্রবাহ গতিশীল করে বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং মূল্যস্ফীতি পরিমিত রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি (২০১৪-১৫) অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য ‘সংযত মুদ্রানীতি’ ঘোষণা করেছে।
বৃহস্পতিবার গভর্নর ড. আতিউর রহমান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি-জুন মেয়াদের ষান্মাসিক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন।
এ সময় তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি পরিমিতির জন্য প্রয়োজনীয় সংযত ও সতর্ক মুদ্রানীতি ভঙ্গির শৃঙ্খলার মধ্যে থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের উন্নয়ন কৌশলের সমর্থনে দেশের আর্থিক খাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন যোগানে সচেস্ট রয়েছে। বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি এখনো ৬ দশমিক ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে, মূল্যস্ফীতির উর্ধ্বমুখী প্রবণতা এবং চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতাজনিত প্রেক্ষাপটে আগামী ৬ মাসের মুদ্রানীতিতে নতুন কোন শিথিলতা বা কঠোরতা না এনে আগেকার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হচ্ছে।’
তিনি ঘোষিত এই মুদ্রানীতিকে বছরের প্রথমার্ধের ন্যায় বাস্তবানুগ সংযত মুদ্রানীতি বলে উল্লেখ করেন।
মুদ্রানীতি প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের জন্য চলমান সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, দূর্ভাগ্যবশত্ রাজনৈতিক অস্থিরতাজনিত বিঘেœর পুনরাবির্ভাব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনায় অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলেছে। যদি এটা দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে অর্থনীতির রক্তক্ষরণ বাড়বে। যারা সহিংস কর্মসূচি চালাচ্ছে, সাধারন মানুষের কথা ভেবে তাদের এই কর্মসূচি বন্ধের শুভবুদ্ধির উদয় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নতুন মুদ্রানীতি প্রোগ্রামে সংশোধনী এনে বেসরকারি খাতে ঋণ যোগানের ঊর্ধ্বসীমা আগেকার ১৬ দশমিক ৫ শতাংশের বদলে কমিয়ে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে; ব্যাপক মুদ্রার যোগানে প্রবৃদ্ধি সীমা আগেকার মতই ১৬ দশমিক ৫ শতাংশে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী বৈদেশিক অর্থায়ন ব্যবহারের সুযোগও উন্মুক্ত থাকছে।
মুদ্রাযোগানে প্রবৃদ্ধির যে পরিসর মুদ্রানীতি প্রোগ্রামে রাখা হয়েছে, তা অনুকূল পরিবেশে সরকার নির্ধারিত জিডিপির উচ্চতর প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পর্যাপ্ত অর্থায়ন দেয়া সম্ভব হবে বলে গভর্নর আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, মুদ্রানীতির ভঙ্গির ধারাবাহিকতার পাশাপাশি মুদ্রানীতি অনুষঙ্গ ঋণ ও অর্থায়ন নীতি কাঠামোতে বিবিধমূখী বিনিয়োগ ও উৎপাদনবান্ধব সংস্কারের ধারাবাহিকতায় বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বজায় রাখা হবে। জোরদার করা হবে মুদ্রানীতির ট্রান্সমিশন চ্যানেলগুলো।
এক প্রশ্নের উত্তরে গভর্নর বলেন, ঋণ নিয়মাচারের মধ্যে থেকে সব দেশে ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ দেয়া হয়। আমরাও সেটা করেছি নিয়মের মধ্যে থেকে । ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ না দিলে যেসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে কেবলমাত্র তারা এর সুযোগ পাবেন। কেননা এ সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে বড় ধরনের বেকারত্ব দেখা দেবে।
ঘোষিত মুদ্রানীতিতে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার পাশাপাশি পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়ক ভূমিকা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম, এস কে সূর চৌধুরী ও নাজনীন সুলতানা, চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট এডভাইজার আল্লাহ মালিক কাজমী, প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. বীরূপাক্ষ পাল, অর্থনৈতিক পরামর্শক ড. আখতারুজ্জামানসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।