ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:৩২ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

সংকটের সমাধান রাজপথেই হবে

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন। আপনাদের সহযোগিতা আমাদেরকে অনুপ্রানিত করবে।

 

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, রাজনীতি থেকে অগণতান্ত্রিক ও জঙ্গিবাদী শক্তিকে দূর করতে হবে। জঙ্গিবাদি শক্তির সঙ্গে কোনো আপস হবে না।
তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান আলোচনার টেবিলে নয়। রাজপথেই হবে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের জঞ্জাল মাথায় নিয়ে কোনো আলোচনা করবো না। আর জালাও-পোড়াও, নাশকতা ও অন্তর্ঘাত পরিস্থিতির মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর প্রয়োজন হবে না। নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারই যথেষ্ট।
তথ্যমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ের বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
সংগঠনের সভাপতি শ্যামল সরকারের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা তসির আহমেদ ও অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা জয়নুল আবেদিন।
বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘খালেদা জিয়া যদি জঙ্গিবাদ না ছাড়েন, নাশকতা বন্ধ না করেন তাহলে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। খালেদা সন্ত্রাসের পথে হাঁটছেন। অবরোধের নামে চলন্ত বাসে পেট্রোল মেরে মানুষ হত্যা করে রাজনৈতিক কর্মকা-ে না গিয়ে সন্ত্রাস ও মানুষ হত্যার পথেই এগিয়ে চলেছেন।’
তথ্যমন্ত্রী নিজেই প্রশ্ন করেন, ওনার (খালেদা জিয়া) এত অস্থিরতা কেন ? আলোচনা তো হতেই পারে। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে আলোচনা অসম্ভব কিছু নয়; কিন্তু বেগম জিয়ার আলোচনা নির্বাচন, গণতন্ত্র, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য নয়; তার অস্থিরতা বাড়ছে যুদ্ধাপরাধের বিচারে দ-প্রাপ্ত সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরী, মুজাহিদ ও নিজামীদের জন্য।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা নিজেও দোষী হয়ে যেতে পারেন, তার পুত্র তারেক রহমান ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অভিযোগে দোষী প্রমাণ হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাদের রক্ষা করাই এখন তার মূল এজেন্ডা। তার (খালেদা) সামনে অন্য কোনো এজেন্ডা নেই। বেগম জিয়া তার রাজনৈতিক দাবির পক্ষে কোনো যৌক্তিক প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারেননি।
যারা আলোচনার পরামর্শ দিচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগে খালেদা জিয়াকে নাশকতা-অন্তর্ঘাত বন্ধ করার পরামর্শ দিন। আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা বন্ধ করতে বলুন। এসব উস্কানিমূলক কর্মকা- বন্ধ না হলে ওনাকে (খালেদা জিয়া) আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে। তিনি যদি দোষী সাব্যস্ত হন তাহলে তার জায়গা হবে কাশিমপুর কারাগার। কারণ বোমাবাজরা যদি জেলে যায় তার উস্কানিদাতাকেও জেলে যেতে হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০ দলীয় জোট শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার গ্যারান্টি দিলে, অনুমতি দেয়া হবে। ‘জঙ্গিবাদের সাথে মিটমাটের কথা বলা, জঙ্গি কর্মকা-কে হালাল করার অপচেষ্টা মাত্র। মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সাথে মিটমাটের জায়গা নেই।’ ‘জঙ্গিবাদী শক্তির সাথে রাজনৈতিক শক্তির আলোচনা হবে না।’
মন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত পাঁচ বছরের সরকার ও বর্তমান এক বছরের তথ্য মন্ত্রণালয়ের কিছু উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কর্মকা-ের বর্ণনা তুলে ধরেন। তথ্য অধিকার আইন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট, চলচ্চিত্র টেলিভিশন ইনস্টিটিউট, সম্প্রচার নীতিমালা বিষয়গুলোও তুলে ধরেন।
তিনি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন দপ্তর-অধিদপ্তরের কার্যালয় একই স্থানে নেয়ার জন্য ১৫ তলা বিশিষ্ট তথ্যভবন নির্মাণ হবে বলে জানান। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তর চত্বরে এই ভবন নির্মাণ হবে। ভবন নির্মাণের জন্য অর্থের যোগান পাওয়া গেছে বলেও মন্ত্রী জানান।
হাসানুল হক ইনু বলেন, প্রেস কাউন্সিল, প্রেস ইনস্টিটিউট-এর আইন হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং অনলাইন গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
পরে মন্ত্রী বাংলাদেশ টেলিভিশন মিলনায়তনে ঢাকা বিভাগের ক্যাবল অপারেটর্স মালিক উন্নয়ন পরিষদ-এর সাথে অপর আরেকটি সভায় মিলিত হন। সংগঠনের আহ্বায়ক মীর হোসেন আখতারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যাবল চ্যানেলে এক থেকে ৩০-এর মধ্যে কোনো বিদেশি চ্যানেল রাখা যাবে না এবং বাংলাদেশি সিনেমার পাইরেসি বন্ধে কোনো ক্যাবল অপারেটর বাংলা সিনেমা প্রদর্শন করতে পারবে না।’ সভায় অপারেটরদের দাবির প্রেক্ষিতে সন্ত্রাসী কর্মকা- বন্ধের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় ও ক্যাবল অপারেটর্স মালিকদের সমন্বয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।