Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৮:৪১ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

‘ষড়যন্ত্র করেও পদ্মা সেতু প্রকল্প আটকাতে পারেনি’

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল বলেছেন, ‘কোন ষড়যন্ত্র পদ্মা সেতু প্রকল্প আটকাতে পারেনি। নিজস্ব অর্থায়নেই আমরা পদ্মা সেতু করছি। ২০১৮ সালের মধ্যেই এই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে।’

শুক্রবার পদ্মা সেতু কাজের অগ্রগতি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে মাওয়া প্রান্তে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় পরিকল্পনা বিভাগের সচিব তারিক-উল-ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলামসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিড়িয়ার সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে মন্ত্রী আজ পদ্মা সেতু এলাকা পরিদর্শন করেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে কামাল বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক পরবর্তীতে এই প্রকল্পে আসতে চেয়েছিল। আমরা তাদের অর্থায়ন নেইনি।’ তবে বিশ্বব্যাংক আমাদের ভালো বন্ধু উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে মোট উন্নয়ন বাজেটের মধ্যে বৈদেশিক সহায়তার ২৯ শতাংশ অর্থ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

সময় মতো নির্মাণ কাজ শেষ করতে কোন ধরনের গাফিলতি যেনো না হয়, এ জন্য তিনি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

পদ্মা সেতু প্রকল্পটিকে ঐতিহাসিক প্রকল্প উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন,এ ই সেতু চালু হলে জাতি হিসেবে আমরা অনেক উচ্চতায় পৌঁছাবো। এই সেতুর নিচ দিয়ে রেল চলবে, এতে যশোরের সাথে ঢাকার দূরত্ব কমবে ১৭২ কিলোমিটার।

সংবাদ সম্মেলনে পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করা হয়।

এতে বলা হয়, পদ্মা সেতুর মোট ভৌত কাজের ৩৩ শতাংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আর পৃথকভাবে কাজের হিসাব করলে মূল সেতুর কাজ শেষ হয়েছে ২১ দশমিক ৫০ শতাংশ, নদী শাসন কাজের অগ্রগতি ১৮ দশমিক ২৩ শতাংশ, জাজিরা সংযোগ সড়কের ৬৮ দশশিক ৭০ শতাংশ, মাওয়া সংযোগ সড়কের ৭৯ দশমিক ২০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। সার্ভিস এরিয়া-২-এর বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৮৫ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। অন্যদিকে পুনর্বাসনের কাজ প্রায় শতভাগই শেষ হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বহুল আলোচিত পদ্মা বহুমুখী সেতুর কাজ শুরু হয়। এটি নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮ হাজার ৭৮৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। পদ্মা নদীর মাওয়া পয়েন্টে দেশের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী এবং ফরিদপুর জেলার উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখবে। এ সেতুটি দক্ষিণাঞ্চলের ১৯টি জেলার সঙ্গে ঢাকাসহ পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ স্থাপন করবে।

এ ছাড়া পদ্মা সেতু এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করবে। পদ্মা সেতু নির্মিত বাংলাদেশের জিডিপি ১ দশমিক ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে সরকার আশা করছে।