Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৩:০০ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

মাহিন্দা রাজাপাকসে।
মাহিন্দা রাজাপাকসে। ছবি: সংগৃহীত

‘শ্রীলংকার রাজনীতিকরা সবাই জোচ্চোর’

টানা দুই সপ্তাহ ধরে রাজনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহত শ্রীলংকায়। ক্ষমতার দখল নিয়ে দাঁতে দাঁত কামড়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে দুই প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে ও মাহিন্দা রাজাপাকসে।

টানাটানিতে কেউ কাউকে এক চুল ছাড় দিচ্ছেন না। দুই পক্ষের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ জনগণ। সরাসরি প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতে। লাথি পড়ছে খেটে খাওয়া মানুষের পেটে।

একদিকে কাজ নেই অন্যদিকে হু হু করে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। এ অবস্থায় রাজনৈতিক নেতাদের ‘স্বার্থপরতায়’ চরম অতিষ্ঠ ও ক্ষুব্ধ তারা। সংকট সমাধানে আগামী সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার পার্লামেন্ট অধিবেশনের ডাক সত্ত্বেও সঠিক সমাধান দেখছে না জনগণ।

প্রধানমন্ত্রীর লড়াইয়ে কে টিকে থাকবে, শেষ পর্যন্ত কে হবেন ‘সাংবিধানিক প্রধানমন্ত্রী- সেটা এখন বড় চিন্তার বিষয় নয় তাদের। নয়া প্রধানমন্ত্রী রাজপাকসেকে নিয়ে চলমান সংকট সমাধানে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে চায় দেশটির জনগণ। একটাই দাবি, দেশে আগাম নির্বাচন দিতে হবে।

আলজাজিরার সরেজমিন এক প্রতিবেদনে দ্বীপরাষ্ট্রটির বর্তমান চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজাপাকসের ফেরার মধ্যদিয়ে দেশে আগের মতোই একটা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে তামিল ও মুসলিম অধিবাসীদের মধ্যে।

বুধবার দেশটির এমপি কুমার ওয়েলগামা বলেছেন, এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিদেশিদের কাছে শ্রীলংকাকে ‘হাসির পাত্র’ করে তুলেছে। তিনি বলেন, ‘এই সংকটের কারণে সরকার ব্যবস্থা এখন পক্ষাঘাতগ্রস্ত।’

রাজনীতিকদের প্রতি সাধারণ মানুষ এতটাই ক্ষুব্ধ যে কে ক্ষমতায় এলো, কে গেল তা নিয়ে আর মাথা ঘামাচ্ছে না তারা। তাদের একমাত্র ভাবনা, দুই বেলা দু’মুঠো পেট পুরে খেতে পারবে কিনা। কলম্বোর বাসিন্দা ৮৩ বছরের বৃদ্ধ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী একে পিয়াদাসা। রাজনীতিকদের চরিত্র নিয়ে তার কণ্ঠেও বিরক্তির সুর।

বলেন, ‘সব রাজনীতিককেই চেনা আছে। সবগুলোই জোচ্চোর, সবগুলোই। আমাদের সাহায্য করার কেউ নেই।’ পিয়াদাসা একা নয়, এই বিরক্তি কলম্বোর বেশিরভাগই অধিবাসীর মধ্যেই। একরাশ হতাশা ছড়িয়ে পিয়াদাসা জানান, সব জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। আমাদের জীবনের একটুও উন্নতি হয়নি। রাজনীতিকরা আমাদের কোনো খোঁজ নেয় না।’

সাধারণ মানুষের এই বেহাল দশার মধ্যে ক্রমেই জোরদার হচ্ছে আগাম নির্বাচনের দাবি। কলম্বোর প্রত্যেক নাগরিকের মুখে মুখে ফিরছে একই কথা।

তাদের সবার বিশ্বাস, ইতিমধ্যে যারা নির্বাচিত রাজনীতিক জনগণের স্বার্থে কোনো কাজই করবে না। রাজনীতিকরা যে ঘুষ-দুর্নীতি ছাড়া কোনো কাজই করে না তা ভালোভাবেই উপলব্ধি করছে তারা।

বিক্রমাসিংহের সরকারের জায়গায় রাজাপাকসের সরকারকে নিয়েও একই ধারণা তাদের। জনগণের কাছে আগাম নির্বাচনই এর একমাত্র সমাধান। নেতাদের প্রতি সেই আহ্বানই জানাচ্ছেন তারা।

এক তামিল নারী বলেন, ‘কে নেতৃত্ব দেবে তার সিদ্ধান্ত জনগণকেই দিন।’ ২১ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী বলেন, ‘আমরা পরিবর্তন চাই।’