Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৭:৪৩ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

‘শ্রমিক-কৃষকই আমার সন্তান-আমার শেষ ভরসা’- খালেদা

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমার বাবা নেই, মা নেই, ভাই নেই, বোন নেই। আপনারাই আমার সব, এই শ্রমিক-কৃষক মেহনতি জনতাই আমার সন্তান। আপনারাই আমার শেষ ভরসা।’

রোববার বিকেল রাজধানীর সোহরাওর্য়াদী উদ্যানে “নিরাপত্তার কর্মক্ষেত্র বাচাঁর মত মজুরী এবং গুম-খুন, হয়রানী নির্যাতন বন্ধের দাবিতে” শ্রমিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। মহান মে দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল এ সমাবেশের আয়োজন করে।

তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশ ছেড়ে কোথাও যাব না। আমাদের ছেলেদের বলা হয়েছিল, তোমরা দেশ ছেড়ে চলে যাও তোমাদের কিছু হবে না। কিন্তু আমার ছেলেরা বলেছে, আমরা দেশ ছেড়ে যাব না। বিদেশে আমাদের আমাদের কিছু নেই। আমাদের মা এখানে আছেন, আমাদের বাবা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা যেতে চায়নি বিধায় তাদের এই পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। আমার একমাত্র ছেলে তারেক, সে বিদেশে বসে আপনাদের কথা ভাবে। আমি যখন লন্ডনে গেলাম তাদের কাছে বেশ কিছুদিন ছিলাম। কিন্তু এ সময়েও তারা রটিয়ে দিল যে, আমি নাকি দেশে আসব না। আমি ফিরে এসেছি আপনাদের মাঝে।

এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে জেলে থাকাকালীন বৃদ্ধ মায়ের সঙ্গে চেষ্টা করেও দেখা না হওয়া এবং তারপর তাঁর মারা যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

বেগম খালেদা জিয়া বলেন, সাংবাদিক শফিক রেহমানকে সাংবাদিক পরিচয়ে ভোরবেলা ধরে নিয়ে যাওয়া হল। তিনি রাজনীতি করেন না। আমাদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে যোগাযোগ রাখতেন। শফিক রেহমানের দোষ কি? আজকে স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিদেশে নিয়ে গেছেন। এর কাগজপত্রই তিনি সংগ্রহ করেছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি এটা করতেই পারেন। তিনি কিন্তু কোথাও সেটা প্রচার করেননি, লেখেননি। সেই কাগজ তারা নিয়ে গেছেন। শফিক রেহমানকে ধরা না হলে এই কথাটা আপনারা জানতে পারতেন না। তারা মনে করেন, কাগজগুলো নিয়ে গেলেই বোধ হয় শেষ। কিন্তু না। এই কাগজ শুধু বাংলাদেশে না, আরো অনেক জায়গায় আছে। এটা আর চাপা দেওয়া যাবে না। শফিক রেহমানের সঙ্গে মাহমুদুর রহমানকে জড়ানো হয়েছে। বলা হচ্ছে, তারা নকি জয়কে গুম ও খুন করতে চেয়েছিল। তারা এর সঙ্গে জড়িত না। এরা এ ধরনের লোক না। তাই অবিলম্বে, শফিক রেহমান, মাহমুদুর রহমান ও শওকত মাহমুদের মুক্তি দাবি করছি।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, শেখ হাসিনা বলে, বিএনপি নাকি ক্ষমতায় আসতে না পেরে গুপ্তহত্যা করছে। ক্ষমতায় যাব কীভাবে, নির্বাচন কী হয়েছে। বিএনপি চোরাপথে ক্ষমতায় যেতে চায় না। আপনি (শেখ হাসিনা) তো ক্ষমতায় গেছেন চোরাপথে। তাই বলছি, আপনি ক্ষমতা থেকে সরে গিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচন দিন। দেখুন, বিএনপি আছে কি নাই। জনগণ কাদের পক্ষে যাচাই করুন। আমরা গণতন্ত্রের দাবি করছি। গণতন্ত্র না থাকলে মানবাধিকার থাকে না, কিছুই থাকে না। মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। আমি বলতে পারি, এতো মানুষ মারা গেল। এর একটাও কি বিচার হয়েছে? কাউকে ধরতে পেরেছেন? কেন ধরতে পারা যায় না। কারণ, এরা সবাই আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তার জন্যই তাদের ধরা যায় না। আজকে আমি জানতে চাই, সাংবাদিক সাগর-রুনির হত্যাকারীরা কি ধরা পড়েছে, বিচার হয়েছে? হত্যাকারীরা নির্ভয়ে ঘুরে বেড়ায়, তারপর আবার হত্যা করে। কারণ, তারা জানে তাদের প্রটেকশন দেওয়ার লোক আছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার বিচার হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরি হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। এই সরকারের সময় ব্যাংক থেকে টাকা লুট করা হয়েছে। বিদেশে টাকা পাচার করা হয়েছে। সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক থেকে টাকা লুট হয়েছে। হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে। রিজার্ভ চুরি ও ব্যাংক লুটের ঘটনার বিচার হবে।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, এ দেশের শ্রমিকরা আজ ভালো নেই। তাঁদের ওপর নানা নির্যাতন-অত্যাচার হচ্ছে। ইতিহাসের ভয়াবহতম রানা প্লাজা ধবসের কথা উল্লেখ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের এক নেতা দখল করা জায়গায় রানা প্লাজা গড়েছিলেন। সেই রানা প্লাজা ধসে শত শত শ্রমিক মারা গেল। অনেকে আহত হয়েছে। এখনো অনেক নিখোঁজ শ্রমিকের খোঁজ পায়নি স্বজনরা। এই সরকার আহত-নিহতদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। এই হচ্ছে অবৈধ সরকারের কার্যক্রম। রানা প্লাজার শ্রমিকদের জন্য অনেক টাকা ওঠানো হয়েছে। কোথায় গেল সেই টাকা? শ্রমিকদের ভাগ্যে সেই টাকা গেল না কেন?

এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন মহান মে দিবস উপলক্ষে দেশ-বিদেশের শ্রমিক শ্রেণীর প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। বেগম খালেদা জিয়া তাঁর আমলে শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন আরো বলেন, আজকে দেশে সরকারি দল ছাড়া কারো কোনো অধিকার নেই। শ্রমিকদের কোনো অধিকার নেই। এই সরকার মানুষকে মানুষ মনে করে না।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমান সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে বলেন, এই সরকারের আমলে কোনো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বঅচন হওয়া সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশনের সমালোচনাও করেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।

লেখক, ব্লগার ও মুক্তমনা মানুষদের হত্যাকান্ড সরকারের মদদেই হচ্ছে। তা না হলে তাদের কেন গ্রেফতার করা হলো না। সরকারের মদদ না থাকলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতো না,’ বলেন তিনি।

খুন, গুম নির্যাতন করে এতো মানুষ খুন করছেন বিচার হয়নি। কিন্তু তাদেরও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আল্লাহই আপনাদের কঠিন বিচার করবে।

আওয়ামী লীগকে মানুষ বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, তারা যত উন্নয়ন করে তার চেয়ে বেশি চুরি করে। বাংলাদেশকে তারা মনে করে পৈত্রিক সম্পত্তি। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা দখলবাজি করছে। আর মানুষ আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করে না বলেই ক্ষমতায় থেকে তারা নির্বাচন করতে চায়। নির্বাচনের নামে তারা ভোট কেন্দ্র দখল করে জোর করে নিজেদের প্রার্থীদের বিজয়ী করছে। আর তাদের সহযোগিতা করছে আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন দিতে চায়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে কেমন নির্বাচন হয় তা সবাই দেখছে। ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভরে ফেলে। সন্ত্রাসী করে সাধারণ মানুষকে মেরে ফেলে। নির্বাচন কমিশন কোন পদক্ষেপ নেয়না। তাই হাসিনাও যে রকম আর নির্বাচন কমিশনও সে রকম।

শ্রমিকদের কল্যানার্থে শ্রমিক কল্যান ফাউন্ডেশন বিএনপি তৈরি করেছিল বলে জানান তিনি।

শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে বিএনপির অন্তত ২৫ নেতা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।