ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:১৭ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

হাইকোর্ট
হাইকোর্ট

‘শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার তদন্ত প্রতিবেদন দায়সারা গোছের’

নারায়ণগঞ্জের শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার ওসির দেয়া প্রতিবেদন দায়সারা গোছের বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট। ভবিষ্যতের এই ধরনের প্রতিবেদন দেয়া হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে আদালত কুণ্ঠাবোধ করবে না। একই সঙ্গে আগামী ৮ জুন আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ঐ তিন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রবিবার বিচারপতি মঈনুল  ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের  ডিভিশন বেঞ্চ  শুনানি শেষে এই আদেশ দেয়।

শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় কি আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সে বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে নারয়ণগঞ্জের ডিসি, এসপি ও ওসিকে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে দেয়া ঐ আদেশের পর  প্রশাসনের ঐ তিন কর্মকর্তা এফিডেফিড আকারে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেন।

ডিসির প্রতিবেদনে ঐ ঘটনায় তদন্তের জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে কমিটি করা হয়। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মাউসির করা তদন্ত প্রতিবেদনের পর কমিটির কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। অপরদিকে পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কান-ধরানোর ঘটনা  অআমলযোগ্য অপরাধ। এই ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অনুমতি নিয়ে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনা তদন্ত করছে।

অআমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও জিডিতে সুনির্দিষ্ট ধারার বিষয়টি উল্লেখ না থাকার বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিতে আনেন অ্যাডভোকেট এম কে রহমান ও মহসিন রশীদ।

এ পর্যায়ে হাইকোর্ট বলেন, জিডি একটি লিগ্যাল প্রসেস। তবে সুনির্দিষ্ট ধারা উল্লেখ থাকলে বিষয়টি ভাল হতো। ডিসির প্রতিবেদনের বিষয়ে হাইকোর্ট বলেছে, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখার দায়িত্ব হলো ডিসির। কিন্তু এই ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক কোনো প্রতিবেদন দেননি তিনি। এই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে ডিসি ব্যর্থ হয়েছে। আগামী ৮ জুনের মধ্যে এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে হবে। পরদিন এই বিষয়ে আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে সকালে আদালতের ডিসি ও এসপির পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করেন  অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহের হোসেন সাজু।