Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৯:২০ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

শোকের ছায়ায় স্তব্ধ গুলশান কার্যালয়

ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর থেকে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সময় স্লোগানে স্রোগানে মুখরিত কার্যালয়টিতে যেন নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কারো মুখে নেই কোন কথা। পুরো ভবন জুড়ে নীরবতা বিরাজ করছে।

চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং এর কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানান, বেগম জিয়া যখন ছেলের মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছেন তখন তার পাশে কেউ ছিলেন না। মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং এর আরেক কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার জানান, দীর্ঘদিন দেশান্তরে থাকা প্রিয় ছেলের মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর একজন কোমলময়ী মা হিসেবে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়াটা খুবই স্বাভাবিক। ছেলের মৃত্যুর সংবাদ শোনার সঙ্গে সঙ্গে স্তব্ধ হয়ে যান তিনি।

এদিকে মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর থেকে খালেদা জিয়ার আত্মীয় স্বজনরা গুলশান কার্যালয়ে আসতে শুরু করেছেন।

বিকেলে এই প্রতিবেদন লেখার সময় কার্যালয়ের ভেতর থেকে চিৎকার করে কান্নার আওয়াজ শোনা গেছে।
শনিবার বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২ টায় মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেয়ার পথে কোকো ইন্তেকাল করেন।

coco2আরাফাত রহমান কোকোর বাবা বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ, একজন ব্যবসায়ী। এছাড়া আরাফাত রহমান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও সিটি ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
২০০৭ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর ভোরে সেনানিবাসের মঈনুল রোডের বাসভবন থেকে খালেদা জিয়া ও ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ২০০৮ সালের ১৭ই জুলাই জামিনে মুক্তি পান কোকো। পরদিন স্ত্রী শর্মিলী রহমান ও দুই কন্যা জাফিয়া রহমান, জাহিয়া রহমানকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড যান। ২০১২ সালে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়া সিঙ্গাপুরে গেলে সেখানে মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় কোকোর। এদিকে একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থাইল্যান্ড থেকে মালয়েশিয়ায় চলে আসেন কোকো। এরপর থেকে সেখানেই পরিবার নিয়ে বসবাস করতেছিলেন তিনি।

নিহত আরাফাত রহমান কোকোর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে তার পরিবার।