ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ২:৪০ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

শেয়ারবাজার: ৩০০ কোটি টাকা ছাড় হচ্ছে

শেয়ারবাজার ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুদ মওকুফ সুবিধা কার্যকরে গঠিত বিশেষ তহবিলের দ্বিতীয় কিস্তির ৩০০ কোটি টাকা ছাড়ের  বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ সপ্তাহের মধ্যেই অর্থ ছাড়ের অনুমোদনের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানো হবে।

শেয়ারবাজার ধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ঋণের সুদ মওকুফে সরকারের পক্ষ থেকে ‘পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তা তহবিল’ নামে ৯০০ কোটি টাকার বিশেষ একটি তহবিল গঠন করা হয়। এ তহবিল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা আইসিবিকে। এরই মধ্যে তহবিলের প্রথম কিস্তির ৩০০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়। পরে তা বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

তহবিল গঠনের সময় বলা হয়েছিল, ৩০০ কোটি টাকা করে মোট তিন কিস্তিতে এ অর্থ ছাড় করা হবে। শেয়ারবাজার ধসের পর প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের এক বছরের সুদের ৫০ শতাংশ মওকুফের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই প্রণোদনা বাস্তবায়নে ২০১২ সালে এ তহবিল গঠন করা হয়। প্রাথমিকভাবে তহবিলটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১৬ সাল পর্যন্ত। তহবিলটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইসিবির পাঁচ কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে পাঁচ সদস্যের তদারকি কমিটি।
কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে প্রায় ১০ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর মধ্যে তহবিলের প্রথম কিস্তির প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ১৫টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এ অবস্থায় আইসিবি ও কমিটির পক্ষ থেকে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড়ের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়। ওই আবেদনের ভিত্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ কিস্তির টাকা ছাড়ের অনুমোদন দেয়।
নীতিমালা অনুযায়ী, তহবিলটির ঋণের সর্বোচ্চ সুদ নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ শতাংশ। এর মধ্যে ৫ শতাংশ সুদে সরকারের কাছ থেকে তহবিলের অর্থ পাবে আইসিবি। পরে আইসিবি তা ৭ শতাংশ সুদে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের কাছে বিতরণ করবে। আর সবশেষে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে বিনিয়োগকারীদের এই সুবিধা দেবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ গতকাল রোববার অর্থ ছাড়ের বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে। সূত্রে জানা গেছে,  এ সপ্তাহের মধ্যেই অর্থ ছাড়ের অনুমোদনের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক পেয়ে যাবে। নিয়ম অনুযায়ী, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাওয়ার পর কিস্তির এ অর্থ ছাড় করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।