ব্রেকিং নিউজ

রাত ৪:২৩ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

মতিয়া চৌধুরী
কৃষি মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী

শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলেই দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় : কৃষি মন্ত্রী

কৃষি মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী এমপি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলেই দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়। তাই আমাদেরকে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা ধরে রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, কৃষিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়া করাতে না পারলে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হবে। তাই কৃষির উন্নয়নে তথ্য প্রযুক্তি কাজে লাগাচ্ছে বর্তমান সরকার।

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়ীস্থ আ. কা. মু. গিয়াস উদ্দিন মিলকী অডিটোরিয়ামে কৃষি সম্প্রসারণের উদ্ভাবিত ৩টি সেবা অর্থাৎ এসকল মোবাইল অ্যাপ ভিত্তিক সেবার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানেরে আয়োজন করে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ হামিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আব্দুল্লাহ্, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক শেখ ইউসুফ হারুন, এবং এটুআই প্রোগ্রামের পলিসি এ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরী।

কৃষিমন্ত্রী মোবাইল অ্যাপ ভিত্তিক তিনটি সেবা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এগুলো উদ্ভাবন করেছেন তিনজন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। ‘বালাই নাশক নির্দেশনা’ সুকল্প দাস, ‘কৃষকের জানালা’ আব্দুল মালেক ও ‘কৃষকের ডিজিটাল ঠিকানা’ নামে সেবাটি শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী উদ্ভাবন করেন। অনুষ্ঠানে এই তিন কর্মকর্তাও তাদের অনুভুতি ব্যক্ত করেন।

বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, এসকল মোবাইল অ্যাপ ভিত্তিক সেবাগুলোকে কৃষকের দৌরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। এমনিতেই আমাদের কৃষক নিজেরাই উদ্ভাবন করেন।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে দেশে যে পরিমাণ জমি ছিল, বর্তমানে তার থেকে জমির পরিমাণ অনেক কমে গেছে। তারপরও আমাদের খাদ্যে ঘাটতি নেই।

মতিয়া চৌধুরী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে অনুষ্ঠানে আরও বলেন, যুদ্ধ বিধ্বস্থ একটা দেশে কৃষির উন্নয়নের মাধ্যমেই সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন তিনি। এমন একটা সময় ছিল, যখন ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের পথে ২৮টি ভাঙ্গা ব্রিজ ছিল। আমরা সকালে রওনা হয়ে রাতে টাঙ্গাইল পৌঁছাতাম। এই ছিল অনেক আগেকার অবস্থা। কিন্তু বর্তমানে নতুন প্রজন্ম তা শুনলে বলে, এসব বানিয়ে বলি। এটাই সত্যি। এই অবস্থার মধ্যেই বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছেন। বর্তমানে তাঁরই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মোবাইল অ্যাপ ভিত্তিক ৩টি সেবার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সারা দেশের কৃষি সংক্রান্ত সব তথ্য এক জায়গায় না থাকার কারণে অনেক সময় কৃষি সম্প্রসারণ সেবা প্রদানে সমস্যা হয়। এজন্য ফসল উৎপাদনের নানা প্রযুক্তি ও অন্যান্য দরকারি কৃষি তথ্যের সন্নিবেশ ঘটিয়ে ‘কৃষকের ডিজিটাল ঠিকানা’ সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ সেবা প্রদানকারীগণ কৃষকদের ফসলের সমস্যার সমাধান দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েন; যেমন, শত শত ফসলের হাজারো সমস্যা, অনেক সময় কৃষক সঠিকভাবে সমস্যা বলতে পারেন না, সমস্যা সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারেন না, ইত্যাদি। এজন্য ফসলের নানা সমস্যার (রোগ, পোকা-মাকড় ও সারের ঘাটতিজনিত) সমাধান সম্বলিত ছবি ভিত্তিক তথ্যভান্ডার ‘কৃষকের জানালা’ তৈরি করা হয়েছে।

বালাইনাশকের নানা তথ্যের সহজলভ্য ও সহজে ব্যবহারযোগ্য তথ্যভান্ডার ‘বালাইনাশক নির্দেশিকা’ তৈরি করা হয়েছে।

এসময় আরও জানানো হয়, আগামী ফেব্রুয়ারী মাসের মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণে নিয়োজিত ১৫ হাজার সরকারি কর্মকর্তা তাদের আওতাধীন এলাকার কৃষকদের কাছে এই ৩টি অ্যাপ পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে ৫ লাখ সেবা প্রদান করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে এটুআই-এর কর্মকর্তারা জানান, ইউএনডিপি এবং ইউএসএইড-এর কারিগরি সহায়তায় এটুআই প্রোগামের সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আসা অসংখ্য উদ্ভাবনী প্রস্তাবনা থেকে বাছাই হয়ে সেবা প্রদানে সবচেয়ে বেশি উদ্ভাবনী প্রস্তাবনাসমূহ স্বল্প আকারে স্বল্প সময়ে পাইলট প্রকল্প আকারে বাস্তবায়নের জন্যে সীমিত অনুদান পাচ্ছে। পাইলট শেষে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সাহায্য নিয়ে উদ্ভাবনী সেবাটি দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা হয়।