ব্রেকিং নিউজ

রাত ৩:০১ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

আবুল হাসান মাহমুদ আলী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী

‘শেখ হাসিনার সফরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক গভীরতর হবে’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক অনন্য, বহুমুখী ও বহুমাত্রিক। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বন্ধন ছাড়াও দু’দেশের ভবিষ্যৎ একই সূত্রে গাঁথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলতি মাসের প্রস্তাবিত ভারত সফরের মধ্য দিয়ে দু’দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ক আরো গভীরতর হবে।

সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও একটি যৌথ সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে দু’দেশকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আজ বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ভারত কর্তৃক ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ -এ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি প্রদান উপলক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী এবং উপমহাদেশের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযুদ্ধে ৮ নং সেক্টরের অধিনায়ক কর্নেল (অব:) আবু ওসমান চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউান্সলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) হেলাল মোরশেদ খান বীর বিক্রম, শহীদ পরিবারের সদস্য ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, ডা. নুজহাত চৌধুরী প্রমুখ ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মোহাম্মদ আলী আরো বলেন, ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান ভূমিকা প্রশংসনীয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০১০ সালের জানুয়ারী ভারত সফর, সেপ্টেম্বর ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং এবং ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের মাধ্যমে দু’দেশের সুসম্পর্ক এক নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

১৯৭১ সালে যে অনুভূতি ও সহযোগিতার আবহ তৈরি হয়েছিল সেই রকম একটি আবহ এই সময়েও বর্তমান এই মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ-ভারত একে অপরের প্রতি সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে কাজ করবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০২১ সালে বাংলাদেশকে একটি ʻমধ্যম আয়ের দেশ’ এবং ২০৪১ সালে একটি ʻউন্নত দেশ’ এ পরিণত করার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধকালে ভারতীয় জনগণ বাংলাদেশের পাশে থেকে অনেক রক্ত জড়িয়েছেন। তিনি বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহায়তা করতে ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরাগান্ধীর অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, অতীতের মত ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের শান্তি ও উন্নয়নে ভারত সরকার সব সময় পাশে আছে এবং থাকবে।

সভাপতির বক্তব্যে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের পক্ষে স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসন করে বাংলাদেশে অশান্তি তৈরির মাধ্যমে এই উপমহাদেশের সন্ত্রাসবাদের জন্ম দেয় এবং নিরাপত্তা বিঘিœত করে।