ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:২৩ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ হবে ‘উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ’

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চ মধ্যম আয়ের একটি দেশ হবে।

তারা বলেন, ইতিমধ্যে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের আগেই দেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।

গত ২৪ জানুয়ারি চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করলে হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি তা সমর্থন করেন।

গত ২২ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশন শুরুর দিন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সংসদে ভাষণ দেন।

রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আজ ২৪তম দিনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, সরকারি দলের মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, হাবিবুর রহমান মোল্লা, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোরশেদ আলম, মো. ইসরাফিল আলম , হোসনে আরা বেগম ও জাতীয় পার্টির বেগম মাহজাবিন মোরশেদ আলোচনায় অংশ নেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে আর কোন জরাঝীর্ণ স্কুল থাকবে না। আগামী ৬ বছরে ৬৫ হাজার ক্লাসরুম তৈরি করা হবে। এ খাতে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ৩৭ হাজার স্কুলে ইতোমধ্যে প্রাক-প্রাথমিক স্কুল চালু করা হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগও সম্পন্ন হয়েছে। ৩ হাজার বাকী আছে, এগুলোও শিগগিরই চালু করা হবে। বাকী জাতীয়করণকৃত ২৬ হাজার স্কুলেও পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এখানেও শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। দারিদ্র্যপীড়িত এলাকার ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। প্রায় ৬শ’ এলাকার স্কুল ‘মিড ডে মিল’ এর আওতায় আনা হয়েছে। সারাদেশে ঝরেপড়ার সংখ্যা ৩৮ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশে নেমে এসেছে। ঝরে পড়ার হার শিগগিরই শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা হবে।

তিনি বলেন, ১ কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উপবৃত্তি দেয়া হচ্ছে। ৫৪ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৮৪ লাখ শিক্ষার্থীকে এখন বৃত্তি দেয়া হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সকল শিক্ষককে বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। ঢাকা শহরে শিগগিরই পিটিআই প্রতিষ্ঠা করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে দেখলে এখন মনে হয়, যেন একটা শিক্ষা নগরী। মসজিদ, মন্দির প্যাগোডা সর্বত্র শিক্ষালয় রয়েছে। দুই মন্ত্রণালয়ে মিলে গতবার শিক্ষা খাতে বাজেট ছিল ৩২ হাজার কোটি টাকা, এবারের বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫৮ হাজার কোটি টাকা। এতেই বোঝা যায় শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের মনযোগ কি পরিমাণ বেড়েছে। দুই মন্ত্রণালয় মিলে ১ কোটি ৭৩ লাখ শিক্ষার্থীকে সরকার বৃত্তি ও উপবৃত্তি দিচ্ছে। শুধু দুই মন্ত্রণালয়ই নয়, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সারাদেশে মসজিদ ভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগকে সরকার অতি মূল্যবান বিনিয়োগ মনে করে। কারণ এর সুদূর প্রসারী ফল আছে। সরকার মনে করে ১৬ কোটি মানুষকে যদি উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে মানব সম্পদে পরিণত করা যায়, তাহলে সেটা হবে টেকসই উন্নয়ন।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশে ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেছেন। একটা জাতিকে সুশিক্ষিত করতে বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষার ভিত রচনা করেছেন। এরপর আর কোন সরকার একটি স্কুলও জাতীয়করণ করতে পারেনি। জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই আবার ২৬ হাজার ১৯৩টি স্কুল জাতীয়করণ করেছেন। শিক্ষকদের সরকার উপযুক্ত সম্মানী দেয়ার ব্যবস্থা করেছে। তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষকরা এখন সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছেন, এটা তারা গর্ব করে বলতে পারছেন।

মন্ত্রী বলেন, সারাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বছরের প্রথম দিন বিনামূল্যে নতুন বই দেয়া হয়েছে। প্রতি বছর শুধু প্রাথমিক পর্যায়ে সাড়ে ১১ কোটি বই দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এজন্য এই খাতে সরকার বিনিয়োগ করে যাচ্ছে। বিগত ৮ বছরে ১ লাখ ৪২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৩৬ হাজার শিক্ষককে নিয়োগ দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোন স্কুলই এখন আর শিক্ষকবিহীন থাকবে না।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহারিয়ার আলম বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে পৃথিবীর দ্রুততম অর্থনীতির গতিশীল দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশ একমাত্র দেশ, যারা ধারাবহিকভাবে গত সাড়ে ৮ বছর সাড়ে ৬ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জন করে যাচ্ছে। পৃথিবীতে মাত্র ৩টি দেশ ৭ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, এর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এ অর্থবছরে বাংলাদেশ হবে, পৃথিবীর একমাত্র দেশ, পরপর দুই বছর ৭ এর উপরে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, সন্ত্রাস একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এই সন্ত্রাসের কবলে পরে পাকিস্তান গত কয়েক বছরে ১শ’ বিলিয়ন ডলারের উপরে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ২০৩০ সালে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চ মধ্যম আয়ের একটি দেশ।

তিনি বলেন, ২০০২ সালে বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টরের রপ্তানি আয় ছিল মাত্র ২ বিলিয়ন ডলার। ২০০৬ সালে ছিল ৬ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান ২০০৬ সাল পর্যন্ত সমপরিমাণ রপ্তানি করেছে। পাকিস্তানের রপ্তানি আয় এখন আটকে গেছে ১০ বিলিয়ন ডলারে। আর কেবলমাত্র পোশাক খাত থেকে গত অর্থ বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ২৮ বিলিয়ন ডলার।

সরকারি দলের সদস্য নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশকে বিশ্বে একটি উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করছে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শিক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচনসহ দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে। এ ধারাবাহিকতা অবশ্যই বজায় রাখতে হবে।