ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:১৪ ঢাকা, মঙ্গলবার  ১৯শে জুন ২০১৮ ইং

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ স্বনির্ভর হচ্ছে’

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ একটি আত্মপ্রত্যয়ী স্বনির্ভর দেশে পরিণত হচ্ছে।

তারা বলেন, শেখ হাসিনার রাষ্ট্রনায়কোচিত দৃঢ়তা, সততা, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতৃত্বের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে অচিরেই বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে উন্নত- সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

গত ২৪ জানুয়ারি চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করলে হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি তা সমর্থন করেন।

গত ২২ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশন শুরুর দিন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সংসদে ভাষণ দেন।

রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আজ ২২তম দিনে খাদ্যমন্ত্রী মো. কামরুল ইসলাম, সরকারি দলের রমেশ চন্দ্র সেন, মীর শওকত আলী বাদশা, বেগম সাবিহা নাহার, মনোয়ারা বেগম, বেগম আখতার জাহান, রহিমা বেগম, জাসদের মইনউদ্দিন খান বাদল ও ওয়ার্কার্স পার্টির ইয়াসিন আলী আলোচনায় অংশ নেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর বাংলার মানুষ স্বপ্ন দেখা ভুলে গিয়েছিল। তারা শুধু জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেনি, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধকে হত্যার চেষ্টা করেছে। হত্যাকারীরা বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বানানোর চেষ্টা করেছে। তারা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিল। তারা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে। দীর্ঘ ২১ বছর ঘাতকদের প্রেতাত্মারা বিভিন্ন লেবাসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছিল।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালের পর বিএনপি জামায়াতকে সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগসহ প্রগতিশীল মানুষের উপর যে নির্যাতন চালিয়েছে, তা ৭১-এর নির্মমতাকে হার মানিয়েছে। তাদের প্রহসনমূলক নির্বাচনের আকাঙ্খার কারণে ১/১১ এসেছিল।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। সারের জন্য এখন আর মানুষকে প্রাণ দিতে হয় না। ১০ টাকা দিয়ে কৃষক ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পারছে, কৃষি উৎপাদন বেড়েছে।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন খাদ্য ঘাটতি ছিল প্রায় ৪০ লাখ মেট্রিক টন। তাঁর ৫ বছরের শাসনামলে খাদ্য ঘাটতি পূরণ করে ২৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য উদ্বৃত্ত রেখে ২০০১ সালে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছিলেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে আবারও দেশকে খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিণত করে। ১৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি নিয়ে ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার আবার যাত্রা শুরু করে। এখন দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে খাদ্য রফতানির যোগ্যতা অর্জন করেছে। সরকার শ্রীলংকায় খাদ্য রফতানি করেছে। নেপালে দুর্যোগের সময় খাদ্য সহায়তা পাঠিয়েছে।

কামরুল ইসলাম বলেন, গত বছর বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ৬১ লাখ মেট্রিক টন। দেশের বাৎসরিক চাহিদা প্রায় ৩ কোটি মেট্রিক টন। এবছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩ কোটি ৭০ লাখ মেট্রিক টন। বিশ্বে চাল উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ।

তিনি বলেন, সরকার দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সক্ষমতা অর্জন করেছে। জনগণের নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার সরকার নিশ্চিত করেছে। এখন ১৬ কোটি মানুষের মুখে খাবার দিতে সরকার সক্ষম হয়েছে। উৎপাদন যেমন বেড়েছে তেমনি মানুষের চাহিদাও বেড়েছে। দেশের মানুষ আজ ভালো আছে। একজন রিকশা চালকও যা আয় করেন তা দিয়ে দৈনিক ৮ থেকে ১০ কেজি চাল কিনে ঘরে ফিরতে পারে। সরকার জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা দেয়ার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে। সরকার ২০১৩ সালে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ প্রণয়ন করেছে। ইতোমধ্যে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন থেকে শুরু করে উৎপাদিত খাদ্যের সকল উপাদান এবং প্যাকেটজাত করে খাবার টেবিল পর্যন্ত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ খাদ্য বলয় তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। এর সাথে নতুন একটি কর্মসূচি যোগ হয়েছে, তা হলো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় ৫০ লাখ পরিবারকে বছরে ৫ মাস ৩০ কেজি করে চাল ১০ টাকা কেজি দরে দেয়া হবে। এ কর্মসূচিতে অনিয়মের কারণে এ পর্যন্ত ১৩০ জনের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। ফৌজদারি মামলা, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দন্ড বিধি আইনে ৩৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৭জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালতে ৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ১০ লাখ ৪ হাজার ১৬৮ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। খাদ্য বিভাগের ৮ জন কর্মকর্তারা বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ৩জন ডিলারকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত আরো কিছু অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং প্রত্যেকটি অপরাধের জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিকে ডাটাবেজের আওতায় আনা হয়েছে। এখন থেকে যে কেউ সুবিধাভোগী এবং ডিলারদের তালিকা ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখতে পারবেন এবং এ বিষয়ে কোন অভিযোগ থাকলে তাও জানাতে পারবেন।

কামরুল ইসলাম বলেন, আগামীকাল থেকে আবার এ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত এ কর্মসূচি চালু করা হবে। এ কর্মসূচিটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত ও প্রশংসিত হয়েছে। তাই এ কর্মসূচিকে বিতর্কমুক্ত রাখতে চাই।

তিনি বলেন, সরকার কৃষকদের প্রণোদনা দেয়ার জন্য এবারই প্রথম সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ৭ লাখ মেট্রিক ধান বোরো মৌসুমে সংগ্রহ করেছে। মধ্যসত্ব ভোগীদের দৌরাত্ম্য থেকে কৃষকদের রক্ষা করার জন্য ব্যাংক একাউন্ট ও চেকের মাধ্যমে ধানের মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সমগ্র খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজ করা হয়েছে। সকল খাদ্য গুদামে সিসি টিভি, ক্যামেরা সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। খাদ্য গুদামগুলোর খাদ্য সংরক্ষণ ক্ষমতা ২১ লাখ মেট্রিক টন। আরো অত্যাধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৮টি বিভাগে ৮টি অত্যাধুনিক সাইলো নির্মাণ করা হচ্ছে। বগুড়ার সান্তাহারে বহুতল বিশিষ্ট দ্বিতল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সৌর বিদ্যুৎ সম্বলিত সাইলো নির্মাণ করা হয়েছে। যা সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছেন। ৩৬০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন এ খাদ্য সংরক্ষণাগারে ৩২০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ব্যয় হবে। অবশিষ্ট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। যে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ দিয়ে তাদের সাহায্য প্রত্যাহার করেছিল। তারাই এখন সহযোগিতা করতে চাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থ প্রত্যাহারে যারা ষড়যন্ত্র করেছে, তাদেরকে চিহ্নিত করার জন্য একটি কমিশন কেন গঠন করা হবে না, তার ব্যাখ্যা চেয়ে সরকারের প্রতি রুলনিশি জারি করেছে। সরকার অবশ্যই রুলের জবাব দেবেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ বংলাদেশ একটি আত্মপ্রত্যয়ী স্বনির্ভর দেশে পরিণত হচ্ছে। দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের কারণে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন প্রত্যাহার করে নিলে শেখ হাসিনাই স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা দেন নিজস্ব অর্থায়নেই স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মিত হবে। আর সে অনুযায়ী আজ পদ্মা সেতু নির্মিত হচ্ছে। ২০১৮ সালের মধ্যে এ সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।

তারা বলেন, শুধু তাই নয়, দেশ এখন সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের বর্তমান অর্থনীতির আকার ৮ লাখ কোটি টাকারও বেশী। জিডিপির দিক থেকে এটা বিশ্বের ৪৪তম এবং ক্রয় ক্ষমতার দিক থেকে ৩২তম অর্থনৈতিক শক্তি। মাথা পিছু আয় বর্তমানে ১ হাজার ৪৬৬ ডলার, রফতানি আয় ৩৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার, এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। তাছাড়া সরকারের গত ৮ বছরে দেশে দেড় কোটি লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। আর এ সময়ে ৫ কোটি মানুষ নিম্ন বিত্ত থেকে উচ্চ বিত্তে উন্নীত হয়েছে।