Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:২৪ ঢাকা, রবিবার  ১৮ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

‘শিশু ফাতেমাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় ২ যু্বকের ফাঁসির আদেশ’

পিরোজপুরে শিশু ফাতেমা আক্তার ইতিকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় দুই যুবককে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. গোলাম কিবরিয়া এ চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার মেহেদি হাসান  স্বপন (২২) ও সুমন জোমাদ্দার (২০)।

এর আগে মামলাটি বিচারের জন্য জেলা জজ গোলাম কিবরিয়ার আদালতে এলে তিনি সর্বমোট ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মেহেদি হাসান স্বপন ও সুমন জোমাদ্দারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

এ ছাড়া তিনি দণ্ডিত দুজনের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা এবং এই জরিমানার অর্থ ইতির মা-বাবাকে প্রদানের নির্দেশ দেন।

দণ্ডিতদের উপস্থিতিতে বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ দেশে স্বপন ও সুমনের মতো জঘন্য অপরাধীদের বেঁচে থাকার কোনো সুযোগ দেয়া হলে এ ধরনের অপরাধীরা অপরাধকর্মে উৎসাহিত হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়িয়া উপজেলার ঝাটিবুনিয়া গ্রামের ফুলমিয়ার ৯ বছরের মেয়ে ফাতেমা আক্তার ইতি বুখাইতলা বান্দ্ববপাড়া গ্রামে তার নানা মো. আব্দুর রব মাস্টারের বাড়িতে থাকত। সেখান থেকে স্থানীয় হাতেম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেণিতে পড়াশুনা করছিল।

২০১৪ সালের ৫ অক্টোবর সকালে ইতি তার নানার একটি গরু স্কুল মাঠে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যায়। দুপুর গড়িয়ে গেলেও ইতি ঘরে ফিরে না আসায় নানা বাড়ির লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে।

পরদিন দুপুরে প্রতিবেশী শাহজাহান জমাদ্দারের মেহগিনি ও চাম্বল বাগানে ওড়না পেঁচানো মৃতদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্তে চিকিৎসক ননী গোপাল রায় তার রিপোর্টে উল্লেখ করেন, ইতিকে ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত শেষে সন্দেহভাজন ইতির মামাতো ভাই স্বপন ও তার বন্ধু সুমনকে গ্রেফতার করে।

পরে সুমন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দীতে দোষ স্বীকার করে বলেন, বন্ধু স্বপনের প্ররোচণায় তারা দুজনে মিলে ওই দিন ইতিকে বাগদাস (মেছোবাঘ) দেখানোর কথা বলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পাশের চম্বল বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তারা ইতিকে ধর্ষণ করে এবং ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

পিরোজপুর আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের পিপি আব্দুর রাজ্জাক খান বাদশা জানান, মামাতো ভাই স্বপন ইতির বড় বোন বিথিকে বিয়ে করতে চেয়েছিল। এতে বিথির পরিবার রাজি না হওয়ায় স্বপন প্রতিশোধ নিতে বন্ধু সুমনকে নিয়ে পরিকল্পনা করে ইতিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে।