ব্রেকিং নিউজ

রাত ৪:৫৯ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

আদালত

‘শিশু আইনের অস্পষ্টতা নিরসনে ব্যাখ্যা চেয়েছে হাইকোর্ট’

শিশু আইনের অস্পষ্টতা নিরসনে সরকারের দুই সচিবের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ৭ দিনের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজেসলেটিভ ও ড্রাফটিং উইংয়ের সচিব, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রাণালয়ের সচিবকে এই ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের ডিভিশন বেঞ্চ আজ রবিবার এই আদেশ দেয়।

এদিকে আজ মামলাটির রায়র জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু আদালত রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ এ কে এম মনিরুজ্জামান কবির এই ব্যাপারে বলেন, রায় দেয়ার পূর্বে আইনের এই অস্পষ্টতার বিষয়ে সরকারের বক্তব্য জানা দরকার। এরপরই আদালত দুই সচিবের কাছে ব্যাখ্যা তলব করে।

এদিকে শিশু আইনের অস্পষ্টতা নিরসনে আইন সংশোধনের সুপারিশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম।

এর আগে শুনানিতে তিনি বলেছিলেন, শিশু আইনে বলা হয়েছে এই আইনের অধীনে কোন অপরাধের শিকার বা ভিকটিম এবং সাক্ষী শিশু হলে ওই মামলার বিচার শিশু আদালতে হবে। কিন্তু শিশুকে ধর্ষণ বা হত্যার মত গুরুতর অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাপ্তবয়ষ্ক হলে তার বিচার কোন আইনে বা আদালতে হবে সেটি এই শিশু আইনে স্পষ্ট করা হয়নি। আইনে এটি স্পষ্ট করা উচিত ছিল। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আইনের এই অস্পষ্টতা দূর করতে শিশু আইন সংশোধন করা প্রয়োজন। আর সাংবিধানিক আদালত হিসেবে হাইকোর্ট আইনটি সংশোধনের জন্য আইন, স্বরাষ্ট্র ও জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিতে পারে।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে শিশু আইনে সর্বশেষ সংশোধনী আনা হয়। এই আইনের অধীনে প্রতিটি জেলায় গঠন করা হয় শিশু আদালত। শিশুকে ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে সম্প্রতি ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রংপুরে দায়েরকৃত চারটি মামলার আসামিদের জামিন আবেদনের শুনানি করে শিশু আদালত। কিন্তু শিশু আদালত তাদের জামিন দেয়নি। পরে আসামিরা হাইকোর্টে এসে জামিন চান। ওই জামিন আবেদনগুলোর শুনানিকালে হাইকোর্ট বলেন, আসামিরা প্রাপ্ত বয়ষ্ক হওয়ার পরেও কেন শিশু আদালতে তাদের জামিন আবেদনের শুনানি করা হয়েছে? পরে এ বিষয়ে রুল জারি করে সংশ্লিষ্ট চার নিম্ন আদালতের বিচারকের ব্যাখ্যা তলব করে। হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক বিচারকরা নিজ নিজ ব্যাখ্যা লিখিতভাবে আদালতে দাখিল করেন।

ব্যাখ্যায় ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দি চিলড্রেন অ্যাক্ট, ১৯৭৪ এর বিধান অনুযায়ী যে সব মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা ভিকটিম শিশু ওইসব মামলা বিচারের জন্য কিশোর আদালতে প্রেরণ করা হতো। কিন্তু শিশু আইন, ২০১৩ এর ১৭(১) ধারার প্রেক্ষিতে এই বিষয়ে অস্পষ্টতা দেখা দিয়েছে।

কারণ ওই ধারায় বলা হয়েছে, “আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু বা আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু কোন মামলায় জড়িত থাকলে যে কোন আইনের অধীনেই হোক না কেন, উক্ত মামলা বিচারের এখতিয়ার কেবল শিশু আদালতের থাকিবে।” তবে শিশু আইনের ধারা ১৮, দফা-(ক) এ শিশু আদালতকে ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন দায়রা আদালতের ক্ষমতাসূমহ প্রদান করা হলেও ঐ আইনে শিশু আদালতকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর কোন ধারার অপরাধ আমলে নেয়া কিংবা বিচারের সুনির্দিষ্ট এখতিয়ার প্রদান করা হয়নি। শিশু আইনের ৩৩(১) ধারা অনুযায়ী শিশু আদালত অভিযুক্ত কোন শিশুকে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করতে পারবে না। আইনের ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী কোন শিশু মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দোষী সাব্যস্ত প্রমাণিত হলেও তাকে অনুর্দ্ধ ১০ বছর এবং নিম্নে ৩ বছর মেয়াদে আটকাদেশ প্রদানের বিধান রয়েছে। এই আইনে অপরাধের শিকার বা সাক্ষী শিশু হলে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাপ্তবয়ষ্ক হলে তার সাজার বিধান সন্নিবেশিত করা হয়নি। ফলে অভিযুক্ত শিশু অপরাধীর অপরাধ প্রমাণিত হলে শিশু আদালতের বিচারক সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড বা আটকাদেশ প্রদানের ক্ষমতা থাকলেও ভিকটিম বা সাক্ষী শিশু এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাপ্ত বয়ষ্ক হলে উক্ত অপরাধীর সাজা কি হবে তা এই শিশু আইনে স্পষ্ট করে এ ধরনের কোন বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ব্যাখ্যায় আরো বলা হয়, শিশু আইনের অস্পষ্টতা বা সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে ন্যায় বিচারের স্বার্থে এ বিষয়ে হাইকোর্টের সুনিদ্দিষ্ট নির্দেশনা চাচ্ছি। এই নির্দেশনা পেলে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন সকল মামলায় তা অবশ্যই অনুসরন করবে।