Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:৫৪ ঢাকা, বুধবার  ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

শিশুর মুক্তিযোদ্ধা সনদ !

১৯৭১ সালে বয়স ছিল ৮ বছর। তবুও তিনি মুক্তিযোদ্ধা! বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পাল্লা গ্রামের বাসিন্দা তিনি। বাবা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান মহম্মদ। ৭১-এর  ১৯ নভেম্বর মহম্মদপুরের যুদ্ধে তিনি শহীদ হন।

এসএসসি পাসের সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যানুযায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের জন্ম ১৯৬৩ সালের পয়লা মে। ১৯৭৮ সালে তিনি পাল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। সেই হিসেবে ৭১-এ তার বয়স ছিল আট বছর। এত কম বয়সে ওই ব্যক্তি কীভাবে মুক্তিযোদ্ধার সনদ পেলেন, তা-ই এখন স্থানীয় জনমনে প্রশ্ন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭১ সালে মাত্র ৮ বছর বয়সী শিশু  মোস্তাফিজুর রহামনের মুক্তিযোদ্ধা সনদপ্রাপ্তি ও সরকারি ভাতা গ্রহণের বিষয়টি এতদিন গোপন থাকলেও, সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর, অনুসন্ধানে এর সত্যতা মেলে। উপজেলায় এ ধরনের আরো অনেক শিশু-কিশোরের মুক্তিযোদ্ধা সনদ সংগ্রহের গল্প রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ১৯৯৮ সালে যাচাই-বছাই করে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। যা পরবর্তীতে ‘মুক্তিবার্তা’ নামে প্রকাশিত হয়। ওই সময়ের যাচাই-বাছাই কমিটিই মোস্তাফিজুর রহমানের নাম তালিকাভূক্ত করে।

সূত্র জানায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান আব্দুল আহাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সারাদেশে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা দিয়ে ‘মুক্তিবার্তা’ প্রকাশ করা হয়।

মহম্মদপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী রেজা খোকন বলেন, ‘১৯৯৮ সালে কমিটিতে মোস্তাফিজুর রহমানের নাম অন্তর্ভূক্ত করেন তৎকালীন যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যসচিব জামাল উদ্দিন খোকন। সে সময় মোস্তাফিজুর রহমান দীঘা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।’

১৯৯৮ সালের যাচাই-বাছাই কমিটির ওই সদস্যসচিব মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন খোকন বলেন, ‘ওই সময় যাচাই-বাছাই করে আমরা একটা তালিকা কেন্দ্রে পাঠাই। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, অজ্ঞাত কারণে আমাদের তালিকায় নতুন নাম অন্তর্ভূক্ত করে মুক্তিবার্তা প্রকাশ করা হয়। এ কারণে আমি ওই সময়ই দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দেই।’

এ বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আমি যোদ্ধাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছি।’ নুরুজ্জামান মুসল্লী ও তোজাম্মেল হক নামের দুই বীর মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে তিনি ফায়ারিং শিখেছেন বলেও দাবি করেন।