ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:৩২ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে জুন ২০১৮ ইং

আমির হোসেন আমু
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেঞ্জে টিরিঙ্ক

শিল্পখাতের কারিগরি দক্ষতায় ইইউ’র সহায়তা থাকবে

আঞ্চলিক অঙ্গীভূতকরণ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের শিল্পখাতে কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেঞ্জে টিরিঙ্ক।

আজ বুধবার শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সাথে বৈঠককালে রেঞ্জে টিরিঙ্ক একথা জানান।

শিল্প মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের উন্নয়ন, শ্রমআইন, বিসিকের আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রিজম প্রকল্প, শিল্পখাতের গুণগতমান অবকাঠামো উন্নয়নসহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী বলেন, গার্মেন্টস্ দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ বিদ্যমান শ্রমআইন সংশোধন করে যুগোপযোগী করেছে। আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থার (আইএলও) গাইডলাইন অনুযায়ী শ্রমআইনকে বিশ্বমানে উন্নীত করা হয়েছে।

তিনি শিল্পখাতে কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিতে ইইউর কারিগরি সহায়তা প্রত্যাশা এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পুরাতন কারখানাগুলোর আধুনিকায়নে যৌথ বিনিয়োগ প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব করেন।

ইইউ রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ফোরামের প্রশংসা করে বলেন, মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত হতে বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলছে। শ্রমআইনের আধুনিকায়ন, শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, এসএমই খাতের উন্নয়নে সহায়তার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রদূত।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ এনামুল হক ও বেগম পরাগ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো শিল্পমন্ত্রীর সাথে তাঁর দপ্তরে সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাৎকালে রোহিঙ্গা ইস্যু, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন, নারীদের নিরাপত্তা উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হয়।

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্নয়কারী রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ন ও ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও সাধারণ জনগণ যেভাবে একসাথে কাজ করেছে, তা সিভিল-মিলিটারি কোঅপারেশনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভূমিকা এবং বিশ্বশান্তি মিশনে বাংলাদেশি সেনাবাহিনীর অবদানের কথা উল্লেখ করেন।

আমির হোসেন আমু বলেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিলেও তাদেরকে দ্রুত নিজেদের ভূখ-ে ফিরিয়ে নিতে হবে। এ লক্ষ্যে তিনি জাতিসংঘের ভূমিকা আরো জোরদারের পরামর্শ দেন।

এসময় শিল্পমন্ত্রী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা তুলে ধরেন। বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের দমনে সক্ষম হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

শিল্পমন্ত্রী প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে জলবায়ুর পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এবং সবুজ শিল্পায়নের ধারা জোরদারে জাতিসংঘের সহায়তা কামনা করেন। মিয়া সেপ্পো এক্ষেত্রে জাতিসংঘের সহায়তা বাংলাদেশের জন্য অব্যাহত থাকবে বলে জানান।