ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১০:১৪ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ গণভবনে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখেতে চাই না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দকে শিক্ষাঙ্গনে অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখার আবান জানিয়ে বলেছেন, তাঁর সরকার ক্যাম্পাসে কোন প্রকার অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখতে চায় না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ছাত্রলীগ নেতাদের কথা বলব-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন প্রকার অস্ত্রের ঝনঝনানি আমরা দেখেতে চাই না। এ ধরনের কোন অনভিপ্রেত ঘটনা শিক্ষাঙ্গনে ঘটুক, আমরা তা চাই না।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, অতীতে দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই তাদের ক্যাম্পাসে অস্ত্রের ঝনঝনানির জন্যই অনির্ধারিত বন্ধে বছরের পর সেশন জট ছিল।

ছাত্র সমাজ তখন দুঃসময় কাটিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেখা গেছে- সেশন জটের জন্য অনেকেই পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করেই চাকরীর বয়স শেষ হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ গণভবনে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

গণভবণের সবুজ ঘাসের লনের এই অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনও বক্তৃতা করেন।

এ সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেও ডায়াজে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম এবং দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ উপস্থিত ছিলেন।

’৯৬ সালে প্রথমবারের মত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের পর সেশন জট কমাতে তাঁর সরকারের উদ্যোগ প্রসংগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়মিত পরীক্ষা গ্রহণ, সেমিস্টার পদ্ধতির প্রচলন এবং জিপিএ সিষ্টেম চালু করার ফলেই এটা সম্ভব হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লেখাপড়ায় মানোনিবেশ করার জন্য ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের আহবান জানিয়ে বলেন, শুধু লেখাপড়া করলেই চলবে না জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস এবং মাদকের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হতে হবে এবং এসবের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমি চাই তোমরা নিজ নিজ এলাকায় যাও বা যেখানেই যাও সেখানে স্থানীয় জনণের মধ্যে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকাশক্তি নিয়ে জনমত সৃষ্টির জন্য কাজ করবে।… সরকারের এই সমাজিক ব্যধি এবং জঙ্গি উচ্ছেদ কার্যক্রমে এ সহযোগিতা করা হবে।

‘দেশে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় থাকলেই কেবল কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব হবে’, বলেন শেখ হাসিনা।

ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের নিজেদেরকে একজন সৎ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠায় সচেষ্ট হবার আহবান জানান।

তিনি বলেন, ‘আমি চাই তোমরা মনযোগের সঙ্গে লেখাপড়া করে যথাসময়ে পরীক্ষায় পাশ করবে। …তোমরা সৎপথে থেকে জনগণের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করবে।’

ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের শিক্ষার পাশাপাশি নেতৃত্বেও গুণাবলী অর্জনের আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমাদের মধ্য থেকেই আগামীর নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশে ২০১৩, ১৪, ১৫-এই তিন বছর ভয়াবহ সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য বিএনপি-জামায়াত জোটকে অভিযুক্ত করে বলেন, সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটিয়ে তারা অনেক নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শত শত নারী, শিশু, এমনকি স্কুলের ছাত্ররা পর্যন্ত তাদের আগুন সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে, তাদেরকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে।

জঙ্গিবাদকে একটি বৈশ্বিক সমস্যা আখায়িত করে প্রধানমন্ত্রী এ সময় সন্ত্রাস দমন ও জঙ্গি উচ্ছেদে তাঁর সরকারের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে বলেন, তাঁর সরকার এই সামাজিক ব্যাধি দূর করতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, আইন শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনী কঠোর হস্তে এগুলো দমনের উদ্যোগ নিয়েছে। সেই সাথে সাথে আমরা দেশবাসী-মসজিদের ইমাম,শিক্ষক,অভিভাবক, ছাত্র সহ সকল শ্রেণী -পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলছি।

বিএনপি-জামায়াতের পুড়িয়ে মানুষ হত্যা এবং বাস, ট্রাক, ট্রেন, লঞ্চ, প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি জ্বালিয়ে দেয়া ও ধ্বংসের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় অগ্নিসন্ত্রাসের কারণে অনেক শিশুর ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি আশা করি বিএনপি ও দলটির নেতৃত্ব আবারো এ ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি থেকে বিরত থাকবেন। কারণ জনগণ এ ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেই।

প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি তাদেরকে আরো শিখতে ও জাতির ইতিহাস জানতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন ও সংসদ অধিবেশন দেখার পরামর্শ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে দেশের সব অর্জনে ছাত্রলীগের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও এ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পালন করেছেন অগ্রণী ভূমিকা।

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদেরকে মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকতে হবে। কারণ মাদকাসক্তি মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। মাদকের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা গড়ে তুলতে ছাত্রলীগ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তোমাদের মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকতে হবে। কারণ এটি শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ এবং জীবন ও পরিবারকেও ধ্বংস করে।

দেশের জনগণকে মূল শক্তি হিসেবে অভিহিত করে শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমুখী সাফল্য সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে তৃণমূল পর্যায়ে যেতে ছাত্রলীগের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও উপরের দিকের পরিবর্তে নিচের দিকে তাকিয়ে জীবন গড়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, অন্যথায় তাদের পদস্খলন ঘটবে। নিজেদের প্রতিষ্ঠানে গাছ লাগানো এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি রক্ষার জন্য ছাত্রলীগকে পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সবই জাতীয় সম্পদ।

পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, মিথ্যা অভিযোগে বিশ্ব ব্যাংক এ প্রকল্পে অর্থায়ন বাতিল করে। অথচ এ অভিযোগ সংস্থাটি প্রমাণ করতে পারেনি। এরফলে তাঁর সরকারের আত্মবিশ্বাস আরো বেড়েছে। এতে মাথা উঁচু করে অধিক দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি যে সততাই হচ্ছে মূল শক্তি।