ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:২২ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

শিক্ষার মান বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দেশে আরো ১১টি সরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্থাপিত এসব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদ্যমান মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষার মান বজায় রাখতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশে আরো সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এছাড়া ইতোমধ্যে অনেক বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয়েছে। এর সঙ্গে শিগগিরই আরো ৬টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ চালু হবে। এজন্য এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং এখান থেকে যেন ‘রোগী-মারা’ কোন চিকিৎসক বের না হয় সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানাতে চাই।
শিক্ষা কার্যক্রম চালু ১১টি এ নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ হচ্ছে- সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ, মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ, জামালপুর মেডিকেল কলেজ, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ, রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ, রংপুর মেডিকেল কলেজ, যশোর সেনাবাহিনী মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম সেনাবাহিনী মেডিকেল কলেজ, কুমিল্লা সেনাবাহিনী মেডিকেল কলেজ ও বগুড়া সেনাবাহিনী মেডিকেল কলেজ।
প্রধানমন্ত্রী সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নব প্রতিষ্ঠিত মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভুঁইয়া, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ আবুল কালাম আজাদ, প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
নতুন এ ১১টিসহ দেশে মোট সরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা হল ৩৮।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম পাঠ্যক্রম ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সজাগ থাকতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণদের ভাল ডাক্তার হতে হবে। আপনাদের এসব কলেজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং পাশাপাশি এটি নিশ্চিত করতে হবে যেন এখান থেকে কেউ ‘রোগী-মারা’ চিকিৎসক হয়ে বের না হয়।
চিকিৎসা সেবা একটি মহৎ পেশা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেশের চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্তরিকতার সঙ্গে মানুষকে সেবা দিতে আপনাদের হাতকে প্রসারিত করুন।
তিনি বলেন, ডাক্তারদের লক্ষ্য হওয়া উচিত মানব সেবা, শুধুমাত্র টাকা রোজগার বা তাদের নিজেদের ভাগ্য গড়া নয়।
স্বাস্থ্য সেবাকে মানুষের একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে অভিহিত করে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ চিকিৎসা সুবিধা এবং ওষুধের অভাবে মারা যাবে এটি হতে পারে না।
দেশের স্বাস্থ্য খাত দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলিত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ ২১ বছর পর দায়িত্ব গ্রহণ করেই স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
তিনি আরো বলেন, ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পূর্ববর্তী শাসনামলে এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমরা দেশে প্রতি ছয় হাজার মানুষের জন্য একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম, তারমধ্যে ওই সময়ে এধরণের ১১ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করাও হয়েছিল।
তিনি বলেন, পরে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কারণে এসব কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় আসার পর বন্ধ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম চালু করে। এই কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে মানুষ ৩০ ধরনের ওষুধ পাচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মানুষের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন করতে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার দেশে দক্ষ ডাক্তার তৈরি করতে প্রথমে একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে।
তিনি বলেন, দেশে দক্ষ ডাক্তার তৈরি করতে তাঁর সরকার প্রত্যেক বিভাগীয় সদরে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, দু’টি নতুন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে, এর একটি হবে চট্টগ্রামে এবং অন্যটি রাজশাহীতে।
এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের নিজেদের ঘরে বসে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে সে লক্ষে তাঁর সরকার প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এছাড়াও এতে মানুষের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, নতুন মেডিকেল কলেজগুলো দক্ষ ডাক্তার তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে দেশে বিপুল সংখ্যক চিকিতৎসক চাহিদা পুরণে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই কলেজগুলো থেকে সফলভাবে নতুন চিকিৎসক বেরিয়ে এসে ডাক্তারদের উপর বাড়তি চাপ কমাতে সাহায্য করবে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পবিত্র সংবিধানে স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকারে অন্তর্ভূক্ত করেছিলেন।
তিনি বলেন, অথচ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দেশের মানুষের মন থেকে মুছে দিতে ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর জনগণকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলা ও অঞ্চলের মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি ও ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় তিনি জামালপুরে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোর বিভিন্ন দাবি পূরণের আশ্বাস দেন।
তিনি ঘোষণা করেন যে, দেশে বর্তমান ৭টি বিভাগের সঙ্গে আরো একটি প্রশাসনিক বিভাগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
তিনি বলেন, দেশে আমাদের আরো একটি বিভাগ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি সারাদেশের জন্য কাজ করছেন। কারণ তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কে আমাকে কি দিলো তা কোন বিষয় নয়, আমার লক্ষ্য হচ্ছে গোটা বাংলাদেশের উন্নয়ন।
প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় মধ্যম আয় এবং ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে। বাঙ্গালী জাতি মাথা উঁচু করে আরো এগিয়ে যাবে।
রাঙ্গামাটির জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথোপকথনে তাঁর সরকার পার্বত্য শান্তিচুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে।
তিনি বলেন, পার্বত্য চুক্তির অধিকাংশ ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে। ইনশাআল্লাহ অবশিষ্টগুলোও আমরা বাস্তবায়ন করবো।