ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৯:২৯ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

‘শিক্ষার্থীদের আহরিত জ্ঞান কোনোভাবেই যেন অপব্যবহার না হয়’: রাষ্ট্রপতি

‘বিশ্ববিদ্যালয় একটি মানবকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান। মুনাফা অর্জন কখনোই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য হতে পারে না।’ বুধবার আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম সমাবর্তনে বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এ কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের আহরিত জ্ঞান দেশ ও জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করে এবং কোনোভাবেই যেন এর অপব্যবহার না হয় সে ব্যাপারেও তাদের শিক্ষা দিতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় সর্বজনীন শিক্ষার প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীরা যাতে সবধরণের কুসংস্কার ও কুপমণ্ডুকতামুক্ত হয়ে গড়ে উঠতে পারে, সেভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষাদান করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের অনুকরণে আধুনিকতম বিষয়সমূহ শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করতে হবে। তা হলেই শিক্ষার্থীরা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে যুগোপযোগী পরিকল্পনা করে সে অনুযায়ী এগিয়ে যেতে হবে।’
নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নৈতিকতা ও শিক্ষা একে অপরের পরিপূরক। নৈতিকতাহীন শিক্ষিত মানুষ দেশের ও সমাজের কোনো কাজে লাগে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যসূচির পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষাও লাভ করতে পারে।’
শিক্ষার্থীদের দায়িত্ববান হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশে আবদুল হামিদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তোমরা নৈতিক গুণসম্পন্ন, চরিত্রবান, গণতন্ত্র-মনস্ক এবং দেশ ও জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে-এটাই সকলের প্রত্যাশা।’
সমাবর্তনে মোট দুই হাজার ৪৯১ জনকে বিভিন্ন ডিগ্রি দেওয়া হয়। শিক্ষা জীবনে কৃতিত্বপূর্ণ সাফ্যলের জন্য তিনজনকে স্বর্ণপদক দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন বুয়েটের ইমেরিটাস অধ্যাপক ইকবাল মাহমুদ। রাজধানীর বাণিজ্য মেলা মাঠে অনুষ্ঠিত এই সমাবর্তনে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কাজী রফিকুল আলম, উপাচার্য এ এম এম সাইফুল্লাহ প্রমুখ।