ব্রেকিং নিউজ

রাত ১০:৪৪ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ প্রশ্নে ফেঁসে যাচ্ছেন এরশাদ !!

শীর্ষ মিডিয়া ১০ অক্টোবর ঃ   বিগত ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে রংপুর-৩ আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাব্বির আহমেদ নির্বাচনী হলফনামায়  দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এরশাদের বিরুদ্বে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ও সম্পদ গোপন করার অভিযোগে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে এরশাদের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ঐ আসনে সাব্বির আহমেদ তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে ঘোষণা দিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত আবেদনও জানিয়েছেন ।
নির্বাচন কমিশনে সাব্বির আহমেদ লিখিত অভিযোগে বলেন,এরশাদ এইচএসসি পাস করেননি, ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত ঢাকা বোর্ডে খোঁজ করে এরশাদের এইচএসসির সনদের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একজন নাগরিক সনদ হারালে সংশ্লিষ্ট থানায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম পরীক্ষার রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও পাসের সাল উল্লেখ করে তা খবরের কাগজে হারানো বিজ্ঞপ্তি দেওয়া অপরিহার্য। হারানো ওই কাগজপত্রের ডুপ্লিকেট কপি সংগ্রহের সুযোগ থাকলেও এরশাদ তা করেননি। শুধু জিডির কপি দিয়ে নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। তিনি দাবি করেন, এরশাদ তার নির্বাচনী হলফনামায় বিদেশি দু‘টি ব্যাংকে জমা থাকা টাকার কথা উল্লেখ করেননি। এর মধ্যে- ইউনিয়ন ন্যাশনাল ব্যাংক আবুধাবি, সেভিংস একাউন্ট নং-৬৫০২০০২০৪৬। এ একাউন্টে ৩৭ লাখ ৩০ হাজার ৪৬৭ দশমিক ৮০ ডলার জমা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী। এরশাদের নামে বিদেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যা তিনি তার নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করেননি। সৌদি আরবের জেদ্দায় ‘ফ্যাক্টরি ফর বোতল ড্রিংকিং ওয়াটার’ নামে ফ্যাক্টরি এবং দ্যা ন্যাশনাল কমার্শিয়াল ব্যাংকে একটি একাউন্টও রয়েছে এরশাদের। যার নম্বর ৫১৫৮৬০০০১০৯।

এরশাদ হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার ও সম্পদের সঠিত তথ্য তিনি কমিশনে দেননি। সে কারণে তিনি এরশাদের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, সেনাবাহিনীতে এইচএসসির জাল সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি নিয়েছিলেন। যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আর এ কারণে তার সংসদ সদস্য থাকার কোনো সুযোগ নেই।

নির্বাচনী হলফনামায় এরশাদ নিজেকে বি.এ (স্নাতক) পাস বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তিনি তার শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো সনদ নির্বাচন কমিশনে জমা দেননি। সনদের পরিবর্তে ২০০৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানায় দায়ের করা একটি সাধারণ ডায়েরি নম্বর উল্লেখ করেছেন। হলফনামায় ওই সাধারণ ডায়েরির একটি কপিও সংযুক্ত করছেন তিনি।
সাধারণ ডায়েরিতে এরশাদ উল্লেখ করেছেন ১৯৯০ সালের ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন সেনাভবন থেকে তার এসএসসি থেকে স্নাতক পর্যন্ত সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদসহ সকল প্রকার জরুরি কাগজপত্র হারানো গিয়েছে। এরশাদের করা ওই সাধারণ ডায়েরির নম্বর ৮৪২।

 
সনদ হারানো বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তার ডুপ্লিকেট (নকল) কপি সংগ্রহ না করার কারণে পাশাপাশি তিনি সাধারণ ডায়েরিতে তার হারানো সনদের রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাসের সাল, পরীক্ষা কেন্দ্রের নাম উল্লেখ না করায় সন্দেহ ও সংশয় আরো বৃদ্ধি পায়।এর আগে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী গোলাম রেজা একটি ইংরেজি দৈনিকে এরশাদের সনদ নিয়ে কথা বলেছিলেন। ঢাকা ও রাজশাহী বোর্ডে গিয়ে এরশাদের সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পারেননি বলেও ওই দৈনিকে জানান গোলাম রেজা।
একই দৈনিকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর এরশাদের পক্ষ থেকে সনদ নিয়ে একটি ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এরশাদ কারমাইকেল কলেজে ভর্তি হন। পাস করার আগেই কলেজ ত্যাগ করেন। পরে ঢাকায় একটি কলেজে ভর্তি হয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। সেনাবাহিনীতে চাকরি অবস্থায় তিনি এইচএসসি পাস করেন বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু ওই প্রতিবেদনে কত সালে কোন কলেজে তিনি ভর্তি হয়েছেন এবং পাশের সাল উল্লেখ করা হয়নি।